জিন্নাহর রোগ গোপন রেখেছিল ব্রিটিশরা

Published: 9 November 2020, 7:51 AM

।। সুমন পালিত ।।

জিন্নাহ ও পাকিস্তান আন্দোলন সমার্থক। পাকিস্তান রাষ্ট্রের জনক কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ভারত ভাগের আগে থেকেই ছিলেন গুরুতর অসুস্থ। ফুসফুসের দুরারোগ্য রোগে ভুগছিলেন তিনি। জিন্নাহ নিজে তা গোপন রেখেছিলেন। ব্রিটিশরা জানার পরও এ বিষয়ে গোপনীয়তার আশ্রয় নেয়। তাদের ভয় ছিল কংগ্রেস জিন্নাহর অসুস্থতার খবর জানলে দেশভাগ রোধে অনড় ভূমিকা নেবে। আর তেমনটি হলে ব্রিটিশদের ভারত ছাড়তে দেরি হবে। সে মুহূর্তে ব্রিটিশদের অবস্থা ছিল ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি।

পাকিস্তান আন্দোলনের পেছনে ভারতীয় উপমহাদেশের ১০ কোটি মুসলমানের সিংহভাগের সমর্থন যে ছিল সেটি একটি জাজ্বল্যমান সত্যি। এ সমর্থন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর কারণেই সম্ভব হয়েছিল। হলদে কোর্ট গায়ের কৃশকায় মানুষটির সামনে পাহাড়সম ব্যক্তিরাও হার মানতেন তীক্ষè মেধা ও বুদ্ধির কারণে। জিন্নাহকে বাদ দিয়ে মুসলিম লীগের অস্তিত্ব কল্পনা করাও কঠিন বলে বিবেচিত হতো। কংগ্রেস কিংবা ব্রিটিশ সরকার জিন্নাহকে যে কারণে সমীহের চোখে দেখত। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর ব্রিটিশরা চাচ্ছিল দ্রুত ভারত শাসনের বোঝা কাঁধ থেকে ঝেড়ে ফেলতে। কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ দুই দলকেই সন্তুষ্ট করে ভারতবর্ষের শাসনভার হস্তান্তরে আগ্রহী ছিল তারা। কংগ্রেস অবশ্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চাচ্ছিল ভারত অখন্ড থাকুক। তবে উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক হানাহানির ঘটনায় ব্রিটিশ সরকার ভারত ভাগকে যথার্থ বলে মেনে নেয়। পাকিস্তান আন্দোলন যেহেতু ছিল একান্তভাবেই জিন্নাহনির্ভর সেহেতু তাঁর গুরুতর অসুস্থতায় উদ্বিগ্ন ছিল ঔপনিবেশিক প্রভুরা। ১৯৪৮ সালে ভারতবর্ষের স্বাধীনতা দেওয়ার রোডম্যাপ আঁকা হলেও তড়িঘড়ি করে ১৯৪৭ সালের মাঝ আগস্টেই ইংরেজরা বিদায় নেয়। প্রতিষ্ঠিত হয় ভারত ও পাকিস্তান নামের দুটি রাষ্ট্র। ১৯৪৭ সালের ২৩ বছর পর ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের পূর্ব অংশ স্বাধীনতা ঘোষণা করে যা এখন বাংলাদেশ।

বিবিসি হিন্দির প্রতিবেদক রেহান ফজল ২০১৮ সালের ১৪ অক্টোবর প্রচারিত এক প্রতিবেদনে জিন্নাহর অসুস্থতা যদি আগেভাগে জানা যেত তবে ভারত ভাগ রোধ করা যেত কিনা এ বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। পাকিস্তান ও ভারত স্বাধীনতা অর্জন করে ১৯৪৭ সালের ১৪ ও ১৫ আগস্ট। স্বাধীন পাকিস্তান ও ভারতের নেতাদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন ব্রিটিশ ভারতের সর্বশেষ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন। তিনি ছিলেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের একজন সদস্য। স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল পদেও অধিষ্ঠিত হন লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন। ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় আরও এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, যিনি পাকিস্তানের প্রথম রাষ্ট্রপ্রধান বা গভর্নর জেনারেল পদ অলংকৃত করেন। ভারত বিভাগের প্রক্রিয়া নিয়ে যখন আলোচনা চলছিল তখন জিন্নাহর দুরারোগ্য রোগের কথা গোপন রেখেছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকরা। প্রশ্ন হলো, যদি জিন্নাহর রোগের কথা জানাজানি হয়ে যেত, যদি কংগ্রেস বুঝতে পারত জিন্নাহর মৃত্যু অত্যাসন্ন তাহলে কি ভারত ভাগ আটকানো যেত? এ নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই।
লর্ড মাউন্টব্যাটেন আর জিন্নাহর প্রথম দেখা হয় ১৯৪৭ সালের ৪ এপ্রিল। তাদের কথাবার্তা শুরু হওয়ার আগে এক ফটোগ্রাফার লর্ড এবং লেডি মাউন্টব্যাটেনের সঙ্গে মুসলিম লীগের শীর্ষনেতা ও পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ কর্ণধার জিন্নাহর ছবি তুলতে চেয়েছিলেন। সংবাদমাধ্যমের সামনে বলার জন্য মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ আগে থেকেই একটা লাইন মনে মনে তৈরি করেন। তাঁর মাথায় ছিল হয়তো লেডি এডউইনা মাউন্টব্যাটেনকে মাঝখানে রেখে একদিকে তিনি এবং অন্যদিকে লর্ড মাউন্টব্যাটেনের ছবি তোলা হবে। সেই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে তিনি ওই ‘পাঞ্চলাইনটা’ তৈরি করেন। কিন্তু বাস্তবে লর্ড ও লেডি মাউন্টব্যাটেনের মাঝে জিন্নাহকে রেখে ছবি তোলা হয়। পাকিস্তানের জনক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর জীবনীকার স্ট্যানলি ওয়াপার্টকে ১৯৭৮ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লর্ড মাউন্টব্যাটেন বলেছেন, ‘যখন আমি মিস্টার জিন্নাহকে অনুরোধ করলাম যে উনি যেন আমার আর লেডি এডউইনা মাউন্টব্যাটেনের মাঝখানে দাঁড়ান, তখন তিনি বোধহয় অত তাড়াতাড়ি নতুন কোনো লাইন ভেবে বার করতে পারেননি। তাই যে লাইনটা বলবেন বলে ভেবে এসেছিলেন, সেটাই বলে ফেললেন,-‘আ রোজ বিটুইন টু থর্নস’-অর্থাৎ ‘দুই কাঁটার মাঝে একটি গোলাপ।’

জিন্নাহর সঙ্গে সাক্ষাৎকারের বেশ কয়েক মাস পরে লর্ড মাউন্টব্যাটেন ১৯৪৭ সালের ২ জুন লন্ডন থেকে দিল্লি আসেন। দেশভাগের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার জন্য ‘নর্থ কোর্ট’ ভবনে ভারতীয় রাজনীতির রথী-মহারথীদের সঙ্গে এক বৈঠক ডাকেন। লর্ড মাউন্টব্যাটেন ব্রিটিশদের ভারত ছাড়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে ওঠেন। কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ তথা ভারত ও পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ নেতাদের জানান, তাঁরা যেন মধ্যরাতের আগেই নিজ নিজ মতামত তাঁকে জানিয়ে দেন। বৈঠক থেকে মিস্টার জিন্নাহ বেরিয়ে যাওয়ার পরে লর্ড মাউন্টব্যাটেন খেয়াল করেন- মিটিং চলার সময়ে সামনে রাখা একটা কাগজে কিছু আঁকিবুঁকি কেটেছেন মুসলিম লীগের শীর্ষনেতা। কাগজে রকেট, টেনিস র‌্যাকেট, এসব আঁকা ছিল আর বেশ বড় অক্ষরে লেখা ছিল দুটো শব্দ-‘গভর্নর জেনারেল’। লর্ড মাউন্টব্যাটেনের কাছে তখনই স্পষ্ট হয়, জিন্নাহ নিজের জন্য কোনো পদের কথা ভাবছিলেন।

ভারতের বৈদেশিক গুপ্তচর এজেন্সি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং বা ‘র’-এর প্রাক্তন বিশেষ সচিব তিলক দেভেশর তাঁর বই, ‘পাকিস্তান এট দা হেল্ম’-এ লিখেছেন, ‘ভারত আর পাকিস্তানের স্বাধীনতার মাসখানেক আগে লর্ড মাউন্টব্যাটেন মিস্টার জিন্নাহকে বোঝাতে চেষ্টা করেন যাতে তিনি দুই দেশের যৌথ গভর্নর জেনারেল পদটি গ্রহণ করেন। তাঁর যুক্তি ছিল, যদি মিস্টার জিন্নাহ শুধুই পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল হন, তাহলে তাঁর ক্ষমতা সীমিত হয়ে যাবে।’ কিন্তু জিন্নাহ ভারতের গভর্নর জেনারেল হতে চাননি। তিনি লর্ড মাউন্টব্যাটেনকে বলেন, আমার ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়বে আপনি এমন চিন্তা করবেন না। কারণ যেটা আমি বলব, আমার প্রধানমন্ত্রী সেটাই করবেন। আমি তাকে উপদেশ দেব, আর সেটা পালন করা হবে।

তিলক দেভেশর লিখেছেন, মিস্টার জিন্নাহ চেয়েছিলেন ক্ষমতা হস্তান্তরের সময়ে তাঁর বসার চেয়ারটা যেন লর্ড মাউন্টব্যাটেনের থেকে কিছুটা উঁচুতে থাকে। ব্রিটিশ সরকার অবশ্য এই প্রস্তাব খারিজ করে দেয়। ইংরেজরা বলে দেয় মিস্টার জিন্নাহ পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল তখনই হবেন, যখন ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন। তার আগে জিন্নাহর কোনো আনুষ্ঠানিক পদই নেই। তাই লর্ড মাউন্টব্যাটেনের চেয়ারের ওপরে জিন্নাহর চেয়ার রাখা অনুচিত হবে। জিন্নাহ ইংরেজদের যুক্তি মেনে নিতে বাধ্য হন।

এটা একটা ঐতিহাসিক সত্য যে, জিন্নাহ নিজে বিশ্বাস করতেন যে তিনিই পাকিস্তান তৈরি করেছেন। ‘ফ্রম প্ল্যাসি টু পাকিস্তান’-গ্রন্থে হুমায়ূন মির্জা লিখেছেন, ‘পাকিস্তানের এক সময়কার প্রতিরক্ষা সচিব মেজর জেনারেল ইসকান্দার মির্জা, যিনি পরে পাকিস্তানের প্রথম প্রেসিডেন্ট হন, তিনি জিন্নাহকে বলেছিলেন, যে মুসলিম লীগ পাকিস্তান দিল, সেই দলটাকে যেন অবহেলা করা না হয়। সঙ্গে সঙ্গে জিন্নাহ জবাব দেন, ‘কে বলল মুসলিম লীগ আমাদের পাকিস্তান দিয়েছে? আমি পাকিস্তান বানিয়েছি, আমার স্টেনোগ্রাফারের সাহায্যে।’

মুসলিম লীগের প্রতি আজীবন ব্রিটিশের সেবা করে আসা আমলা ইস্কান্দার মির্জার এ দরদ ছিল আসলেই এক ধাপ্পা। মীরজাফরের এই বংশধর জিন্নাহর মন জয়ে সম্ভবত মুসলিম লীগ প্রেমী সেজেছিলেন। তিনি বুঝতে পারেননি কর্তৃত্ববাদী জিন্নাহর কাছে মুসলিম লীগ বা কোনো কিছুর কোনো দামই নেই। তিনি নিজের অমিত্বকেই বেশি গুরুত্ব দেন।

পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর দিনটা শুরু হতো সকাল সাড়ে ৮টার দিকে। একটা বড় টেবিলে তাঁর জন্য ফাইলবন্দী কাগজপত্রের একটা স্তূপ রাখা থাকত। পাশেই থাকত ‘ক্রেভিন-এ’ নামের সিগারেটের একটা বাক্স। তাতে সুগন্ধি কিউবান সিগার থাকত। সিগারের গন্ধে তাঁর ঘর সব সময় ম-ম করত। জিন্নাহর অসুস্থতা সম্পর্কে খুব কম লোকেই জানেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই তাঁর শরীরে বাসা বেঁধেছিল এক মরণরোগ।

তাঁর চিকিৎসক ডা. জাল প্যাটেল এক্স-রে প্লেটে চোখ রেখেই দেখতে পান ফুসফুসে ছোপছোপ দাগ। কিন্তু তিনি সবার কাছে গোপন রাখেন ব্যাপারটা। হয়তো তথ্যটি জানানো হয়েছিল ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষকে।

তিলক দেভেশরের কাছে বিবিসি হিন্দির সংবাদদাতা রেহান ফজল জানতে চেয়েছিলেন, যদি এটা জানাজানি হয়ে যেত যে মিস্টার জিন্নাহর আয়ু আর খুব বেশি দিন নেই, তাহলে কি দেশভাগ আটকানো যেত? দেভেশরের বক্তব্য ছিল, ‘ডাক্তার প্যাটেল ছিলেন খুবই পেশাদার চিকিৎসক। সে জন্যই কারও কানেই পৌঁছেনি জিন্নাহর অসুস্থতার কথাটা। তবে তার ধারণা লর্ড মাউন্টব্যাটেন জিন্নাহর অসুস্থতার কথা ভেবেই স্বাধীনতার তারিখটা ১৯৪৮-এর ফেব্রুয়ারি থেকে মাস ছয়েক এগিয়ে নিয়ে আসেন। তাঁর আশঙ্কা ছিল ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেরি করলে যদি মিস্টার জিন্নাহ বেঁচে না থাকেন! যদি গান্ধী, নেহেরু বা সর্দার প্যাটেলদের কাছে জিন্নাহর অসুস্থতার খবর পৌঁছাত, ওরাও হয়তো নিজেদের অবস্থান বদলে বিভাজনের জন্য আরও বেশি সময় চাইতেন।’ বিবিসিকে তিনি বলেন, পাকিস্তান আন্দোলন আর পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠা একজন মাত্র ব্যক্তির ওপরেই নির্ভরশীল ছিল-তিনি হলেন মিস্টার জিন্নাহ। লিয়াকত আলি খান আর মুসলিম লীগের অন্য নেতাদের সেই ক্ষমতাই ছিল না যে পাকিস্তানের দাবি নিয়ে এগিয়ে যাবেন।

জিন্নাহ মারাত্মক রোগে আক্রান্ত এবং তার জীবন প্রদীপ নিভু নিভু এ কথা কংগ্রেস নেতাদের কাছে পৌঁছলেও ভারত ভাগ ঠেকানো যেত বলে যারা মনে করেন তারা বোকার স্বর্গে বসবাস করছেন। কারণ জিন্নাহ তার জীবিতাবস্থায় ভারতবর্ষের মুসলমানদের মধ্যে পাকিস্তান নামের একটি স্বপ্ন ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হন। দ্বিতীয়ত, কংগ্রেসের মধ্যে থাকা রাষ্ট্রীয় সেবক সংঘ তথা আরএসএস এবং মুসলিম লীগের স্বেচ্ছাসেবক নামধারী পেশিজীবী বাহিনীর কর্মকান্ডে সে সময় আন্তসাম্প্রদায়িক সম্পর্কে এতটা বিষাক্ত হয়ে পড়ে যে ভারতকে ঐক্যবদ্ধ রাখা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। মহাত্মা গান্ধী যে কোনো মূল্যে ভারতের ঐক্য টিকিয়ে রাখার পক্ষপাতী ছিলেন। জিন্নাহকে স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী করতেও রাজি ছিলেন। কিন্তু সাম্প্রদায়িক হানাহানিতে তিনি এতটাই ব্যথিত হয়ে পড়েন যে, দেশভাগে সম্মতি দেওয়া ছাড়া কোনো গত্যন্তর ছিল না।

অখন্ড ভারত ছিল জনসংখ্যায় বিশ্বের বৃহত্তম দেশ। এ দেশটি ভেঙে কমপক্ষে ২০টি ভাষাভিত্তিক জাতি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুযোগ ছিল। তেমনটি হলেও ভারত বিভক্তি অযৌক্তিক হতো না। ইউরোপে যেমন বিপুল সংখ্যক জাতিরাষ্ট্র গড়ে উঠেছে ভারতবর্ষে তেমন বাংলা, পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ, বিহার, উড়িষ্যা, মহারাষ্ট্র, সিন্ধু, পাখতুনখোয়া, বেলুচিস্তান, কাশ্মীর, গুজরাট তামিলনাড়ু, কেরালা এমন অনেক রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ ছিল। কিন্তু তার বদলে ধর্মের ভিত্তিতে ভারত ভাগ ছিল প্রতারণার শামিল। ভারতের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের মুসলিম প্রধান দুটি এলাকা নিয়ে পাকিস্তান গঠন করা হলেও পাকিস্তানের বাইরে ভারতজুড়ে ছিল কয়েক কোটি মুসলমানের বাস। দেশভাগের ফলে তাদের নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। একইভাবে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সে সময় এক কোটিরও বেশি হিন্দু ও শিখের জীবনও সংকটের সম্মুখীন হয়। ভারতবর্ষের সাধারণ মানুষের মধ্যে ধর্মীয় উগ্রতা না থাকলেও মতলববাজদের ষড়যন্ত্রের পরিণতিতে ভারত ভাগের কারণে লাখ লাখ মানুষের জীবন বিপন্ন হয়েছে। ঘটেছে সম্ভ্রমহানির ঘটনাও। ভারত ভাগের অপনায়করা কোনোভোবেই সে দায় এড়াতে পারেন না।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক।

  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share