মেঘনায় ট্রলার ডাকাতি, ৫০ লাখ টাকা লুট

Published: 23 January 2022, 1:47 PM

বিশেষ সংবাদদাতা :


চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে পণ্যবাহী দুটি ট্রলারে ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। এতে প্রায় নগদ অর্ধকোটি টাকা লুট হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনায় অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আক্কাস শেখ (৩৫) ও উজ্জল মাঝি (২৫) এবং হাকিম গাজী (৪৮) কে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বাকিদের সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতরা জেলার মতলব উত্তর উপজেলার আমিরাবাদ ও গৌরাঙ্গ বাজারের ব্যবসায়ী। এসব ব্যবসায়ী মতলব উত্তর থেকে চাঁদপুরে পুরান বাজারে যাচ্ছিলেন।
রবিবার বেলা ১১টার দিকে চাঁদপুর সদরের মেঘনা নদীর সফরমালী লঞ্চঘাট এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে।

ট্রলারে থাকা আহত ব্যবসায়ী হাকিম আলী গাজী জানান, মেঘনা নদীর সফরমালী লঞ্চঘাটের কাছে আসলে স্পিডবোট নিয়ে ৮/৯ জন মুখোশধারী কাটা রাইফেল, শটগান, রামদা ও রড নিয়ে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং আমাদের কাছে থাকা টাকা-পয়সা লুটে নেয়। সঙ্গে আমাদের মোবাইলগুলোও নিয়ে যায়। পরে তারা মেঘনা নদীর উত্তর দিকে চলে যায়। তিনি আরো জানান, হামলাকারীদের গায়ে লাইফ জ্যাকেট ছিল।

ট্রলারের মাঝি উজ্জল শেখ (২৫) জানান, আমার ট্রলারে ডাতাতরা স্পিডবেট দিয়ে উঠেই মারধর শুরু করে। কয়েকজন ব্যবসায়ী ট্রলারে সাথে আসে নাই। তারা আমার কাছে চাঁদপুরের পুরান বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য টাকা দেয়। সেই টাকার পরিমান ১৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। সব টাকাই ডাকাতরা নিয়ে গেছে।

আহত পাইকারি মুদি ব্যবসায়ী আক্কাস শেখ জানায়, আমার কাছে ৯ লাখ টাকা ছিল। টাকা দিতে দেরি করায় রড দিয়ে আমার হাত ভেঙে ফেলে এবং টাকা ছিনিয়ে নেয়।

তেলের ডিলার ব্যাপারী ট্রেডার্সের মালিক আতাউর রহমান সবুজ জানায়, তার টাকা ছিল ৩ লাখ ৫০ হাজার, তেলের ডিলার নাইমা ট্রেডার্সের মালিক মোহাম্মদ হোসেন জানায় তার টাকা ছিল ৩ লাখ ১১ হাজার, মরিচের পাইকার খোকন মেম্বার জানায় তার টাকা ৩ লাখ ১০ হাজার, গৌরাঙ্গ বাজারের মুদি ব্যবসায়ী কামাল মল্লিক জানায় তার টাকা ৩ লাখ ১৫ হাজার, রহমআলী গাজী জানায় তার ১ লাখ ১০ হাজার টাকা যা ডাকাতরা নিয়ে গেছে।

চাঁদপুরে নৌ-পুলিশের এসপি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানায়, খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে চাঁদপুর ও মোহনপুর নৌ-পুলিশের ওসিকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তারপর নৌ-পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকেও পাঠিয়েছি। ব্যবসায়ীদের মিসিং মোবাইলের নম্বর আমার কাছে চলে আসছে। আমি সেগুলো নিয়ে ডাকাতদের ধরার বিষয়ে যা যা করণীয় সবই করছি। আশা করি ডাকাতদের ধরতে সক্ষম হব।

এদিকে ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে আসা চাঁদপুর নৌ-পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন জানান, ডাকাতদের ধরার জন্য প্রয়োজনীয় সকল কাজই আমরা শুরু করে দিয়েছি। তবে এই ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয়দের কারো সম্পর্ক থাকতে পারে বলে আমরা ধারণা করছি। তিনি আরো বলেন, তবে নগদ এত টাকা নিয়ে নৌ-পথে ব্যবসায়ীরা আমাদের সহযোগিতা নিলে এমন দুর্ঘটনা এড়ানো যেত।