স্বামী, শাশুড়িকে নিয়ে ডায়েরিতে ২২ পৃষ্ঠা লিখে গেলেন সুমা

Published: 31 May 2022, 4:15 PM

নেত্রকোনা সংবাদদাতা :

সুমার বিয়ে হয় ২০১৮ সালে। সংসারে দুই সন্তানও আছে তার। কিন্তু জীবন বিষময় হয়ে উঠেছিল স্বামী ও শাশুড়ির নির্যাতনে। সইতে না পেরে রবিবার বাবার বাড়িতে চলে আসেন সুমা।

তখন তিনি আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে বিষপান করা অবস্থায় ছিলেন বলে দাবি স্বজনদের। শারীরিক অবস্থা দেখে বিষয়টি টের পায় সুমার পরিবারের লোকজন। পরে তাকে হাসপাতেল নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার মৃত্যু হয় তার। ওই দিনই সন্ধ্যায় দাফন করা হয় বাবার বাড়িতে।
মৃত সুমা নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার সদর ইউনিয়নের বৃ-কালিকা এলাকার আব্দুল লতিফের মেয়ে এবং রসুলপুর গ্রামের সাইদুর রহমানের স্ত্রী। গতকাল সোমবার ময়মনসিংহ চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

সুমার মৃত্যুর পর তার ঘর থেকে একটি ডায়েরি উদ্ধার করে পরিবারের লোকজন। পরে ডায়েরিটি পুলিশের কাছে পাঠায় তারা। ওই ডায়েরির ২২ পৃষ্ঠা জুড়ে স্বামী ও শাশুড়ির নির্যাতনের বর্ণনা লেখা রয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবারের সদস্যরা।

সুমার বাবা আব্দুল লতিফ বলেন, ‘সুমা একটি ডায়েরিতে তার স্বামী-শাশুড়ির অত্যাচারের কাহিনি লিখে গেছে। মৃত্যুর আগে সন্তানদের জন্যও মঙ্গল কামনা করেছে সে। আমি এর বিচার চাই। ‘

ওই ডয়েরির এক অংশে দেখা গেছে, শাশুড়ি বিভিন্ন বাজে মন্তব্য করতেন সুমা ও তার মাকে নিয়ে। সুমার স্বামী সব শুনেও এর প্রতিবাদ করতেন না। তিনিও সন্তান, সম্পর্ক নিয়ে খারাপ কথা বলতেন। সেখানে সুমির স্বামী তার ভাইকে মারধর করার কথা বলেছেন বলেও উল্লেখ আছে।

‘শেষবিদায়ের বেলায় একটাই প্রার্থনা করি, আল্লাহ যেন আমার দুটো সন্তানকে ভালো রাখে। ’ সব শেষে সন্তানদের জন্য এই প্রার্থনা করে যান সুমা।

এদিকে সুমার মৃত্যুর পর তার শ্বশুড়বাড়ির লোকজন আত্মগোপনে আছে। ফলে অভিযোগের ব্যাপারে তাদের কারো মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরগুলোও বন্ধ পাওয়া গেছে।

বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ লুৎফুল হক বলেন, সুমা হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করার পর কোতোয়ালি থানার পুলিশের মাধ্যমে সেখানেই তার ময়নাতদন্ত হয়। মো. আলমগীর তার বোন সুমার হাতের লেখা ডায়েরির কপি পাঠিয়েছেন। সন্ধ্যার পর তারা লিখিত অভিযোগ করবেন বলে জানিয়েছেন। পরে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।