একনজরে বার্ট প্রঙ্কের মালিকানাধীন সীতাকুণ্ডে কনটেইনার ডিপোর আগুন

Published: 5 June 2022, 4:25 PM

বিশেষ সংবাদদাতা :


চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও আগুনের ঘটনা ঘটে শনিবার রাত ১০টায়। ঘটনার পরপরই হতাহত ব্যক্তিদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া শুরু হয়।

এরপর হাসপাতালে তাদের স্বজনদের ভিড় বাড়তে থাকে। আহত ব্যক্তিদের রক্ত দিতেও অনেকে ভিড় করেন। হাসপাতালে স্বজনদের খোঁজ করছেন অনেকে। তাদের কান্না ও আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।

থেমে থেমে বিস্ফোরণ: বিএম কনটেইনার ডিপোতে শনিবার রাতে আগুন লাগার পর সারা রাত থেমে থেমে বিস্ফোরণ হয়। রোববার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সন্ধ্যার পরও আগুন নেভানোর কাজ চলছিল। তবে বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে আগুন লাগার মূল জায়গায় ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের ঢুকতে বেগ পেতে হচ্ছিল।

উদ্ধার অভিযানে সেনাবাহিনী: আইএসপিআর জানায়, উদ্ধার অভিযানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৫০ জন সদস্য কাজ করছেন। উদ্ধার অভিযান ও আগুন নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য সেনাবাহিনীর একটি বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে।

এছাড়া সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার ও নিরাপত্তা দলও নিয়োজিত রয়েছে। রাসায়নিক দ্রব্যাদির বিস্ফোরণের কারণে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত রাসায়নিকসামগ্রী সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়া রোধে এ দল কাজ করছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর মিলিটারি পুলিশও সহায়তা করছে। তাছাড়া বিস্ফোরণে আহত ব্যক্তিদের সেবায় সেনাবাহিনীর মেডিকেল টিম শনিবার রাত থেকে কাজ করছে। আহত ব্যক্তিদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সিএমএইচ-এ স্থানান্তরে সেনাবাহিনীর অ্যাম্বুলেন্স সহায়তা করছে।

বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক: ফায়ার সার্ভিস ও ডিপোর কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কনটেইনার ডিপোতে ‘হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড’ নামের বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক রয়েছে। হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড একটি রাসায়নিক যৌগ। এটি যদি উত্তপ্ত করা হয়, তাহলে তাপীয় বিয়োজনে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড বিস্ফোরক হিসাবে আচরণ করে।

বাসাবাড়ির টেলিভিশন-ফ্রিজ নষ্ট: বিএম কনটেইনার ডিপো সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়িতে। এটি মূল শহরের বাইরে। তবে আশপাশে জনবসতি রয়েছে। বড় ভবন কম। নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাস বেশি। প্রচণ্ড বিস্ফোরণে আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে। অনেকের ঘরের জানালার কাচ, দরজা ভেঙে গেছে। বেশির ভাগ বাসার টেলিভিশন, রেফ্রিজারেটর ও বৈদ্যুতিক পাখা নষ্ট হয়ে গেছে। সেখানকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তারা কালো ও বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে ঘরে টিকতে পারছেন না। অনেককেই মুখে কাপড় বেঁধে বসে থাকতে দেখা যায়।

এত বড় দুর্ঘটনা আর ঘটেনি: আমদানি-রপ্তানি পণ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ২৪ বছর আগে চট্টগ্রামে কনটেইনার ডিপো শিল্পের যাত্রা শুরু হয়। এরপর এই প্রথম কোনো কনটেইনার ডিপোতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটল।

বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান নুরুল কাইয়ূম খান বলেন, এই শিল্পের যাত্রা শুরুর ২৪ বছরে এত বড় দুর্ঘটনা আগে ঘটেনি। এর আগে ডিপোতে ছোটখাটো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। কিন্তু সেসব ক্ষেত্রে খুব দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছিল।

মালিকদের সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে: বিএম কনটেইনার ডিপো লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসাবে রয়েছেন ডাচ নাগরিক বার্ট প্রঙ্ক এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসাবে রয়েছেন মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

তাদের এই প্রতিষ্ঠান ছাড়াও আবাসিক কোম্পানি সিটি হোম প্রোপ্রার্টিজ লিমিটেড, একাধিক গার্মেন্টস কারখানা, জ্বালানি প্রতিষ্ঠান, শেয়ার অ্যান্ড সিকিউরিটি এবং চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত একটি দৈনিক পত্রিকা রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়েবসাইটে চেয়ারম্যান বার্ট প্রঙ্ক সম্পর্কে বলা হচ্ছে, তিনি একজন ডাচ নাগরিক এবং নেদারল্যান্ডসের প্রখ্যাত ব্যবসায়ী। তিনি বাংলাদেশের একাধিক ব্যবসা খাতে বিনিয়োগ করেছেন এবং চট্টগ্রাম ডেনিম মিল লিমিটেড, বিএম কনটেইনার ডিপোর মতো প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছেন।

মো. মোস্তাফিজুর রহমান সম্পর্কে বলা হয়েছে, তিনি বাংলাদেশের একজন বহুমুখী এবং উদীয়মান উদ্যোক্তা, যিনি বৈশ্বিক বাণিজ্যের সূক্ষ্মতা সম্পর্কে ধারণা রাখেন। বিশ্ব জুড়ে শিল্প পরিচালনায় তার অভিজ্ঞতা রয়েছে।