‘৬ দফা ছিল স্বাধীনতার রিহার্সেল’

Published: 7 June 2022, 6:46 PM

পোস্ট ডেস্ক :


জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ঐতিহাসিক ৬ দফাকে ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার রিহার্সেল, মুক্তির সনদ’ উল্লেখ করে সরকার ও বিরোধী দলের নেতারা বলেছেন, ঐতিহাসিক ৬ দফাই ছিল স্বাধীনতার মূল ভিত্তি, স্বাধীনতার উৎস্য। এই ৬ দফার সিঁড়ি বেয়েই বঙ্গবন্ধু গোটা বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে এগিয়ে গিয়েছিলেন স্বাধীনতার পথে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে মঙ্গলবার রাতে জাতীয় সংসদে ঐতিহাসিক ৬ দফা নিয়ে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা এসব কথা বলেন। আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাবেক তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ এবং বিরোধী দল জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ। আলোচনায় অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও প্রবীণ নেতা আমির হোসেন আমু ঐতিহাসিক ৬ দফাকে ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার ম্যাগনা কার্টা’ উল্লেখ করে বলেন, বঙ্গবন্ধুর উত্থাপিত ৬ দফা দাবি ছিল বাঙালির মুক্তির সনদ ঐতিহাসিক দলিল ‘ম্যাগনা কার্টা’। এই ৬ দফার ভিত্তিতেই বঙ্গবন্ধু একটার পর একটা আন্দোলনের কর্মসূচির মাধ্যমে গোটা বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। ৬ দফা ঘোষণার পর পুরো বাঙালি জাতির অভূতপূর্ব গণজাগরণের সৃষ্টি হয়। আইয়ুব খান-মোনায়েম খানরা অস্ত্রের ভাষায় দমনের হুমকি দিয়েছিল। কিন্তু সফল হয়নি। তিনি বলেন, পাকিস্তানীদের সকল জেল-জুলুম, নির্যাতন সহ্য করেই গোটা জাতি স্বাধীনতার জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে থাকে।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৬ দফাই ছিল স্বাধীনতার মূল ভিত্তি। ৬ দফার উত্থাপনের পর বঙ্গবন্ধু আমাদের বলেছিলেন- ‘সাঁকো দিলাম, সেই সাঁকো দিয়েই আমরা অভীষ্ঠ লক্ষ্য (স্বাধীনতা) পৌঁছাবো।

সেটি তিনি করতে পেরেছিলেন। তিনি বলেন, ৬ দফার ভিত্তিতে ৭ জুন সারাদেশে যে সর্বাত্মক হরতাল পালিত হয়, তা ছিল অবিস্মরণীয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু বিশ্বাস করতেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা আসবেই। তাই বঙ্গবন্ধু জেল-জুলুম-নির্যাতন সহ্য করে বাঙালি জাতিকে ৬ দফার ভিত্তিতে গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন।
সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী শেখ ফজলুল করিম সেলিম ঐতিহাসিক ৬ দফাকে স্বাধীনতার মূল ভিত্তি উল্লেখ করে বলেন, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ছিল প্রখর। তিনি ধাপে ধাপে বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা ঘোষণার পর ৬ মাস পর্যন্ত তাঁর কোন খোঁজ ছিল না, পাকিস্তানের একটি ঘরে আটকে বঙ্গবন্ধুকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছিল। সারাদেশে কারফিউ দিয়ে বহু মানুষকে গুলি করে হত্যা করেও রেহাই পায়নি। বঙ্গবন্ধুকে পর্যন্ত হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল। কিছু করতে না পেরে আইয়ুব খান বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। হাজার বছরেও বঙ্গবন্ধুর মতো নেতা আর আসবে না। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে উন্নত দেশের সঙ্গে আমরা পাল্লা দিতে পারতাম।

জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা ঘোষণার পর এই ৭ জুন নজীরবিহীন রক্তাক্ত হরতাল পালিত হয়েছিল গোটা দেশে। ৬ দফাকে বানচাল করতে হানাদাররা ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালায়। কিন্তু কোন বাঁধা বাঙালি জাতিকে আটকাতে পারেনি। ৬ দফার ভিত্তিতেই আসে স্বাধীনতা। ওই সময় বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ছাত্রনেতারা যা বলতেন, দেশের জনগণ সে কথা শুনতো। আজ সেই ছাত্রনেতাদের সেই অবস্থান আর নেই।