কে এই সাজিব?

Published: 16 July 2022, 7:25 AM

বিশেষ সংবাদদাতা :


জেলার দেবিদ্বারে আলোচিত মেহেদী হাসান শান্ত হত্যাকাণ্ডের এজাহারে নাম না থাকলেও প্রত্যক্ষদর্শীদের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ঘাতক হিসাবে আজমল ফুয়াদ সাজিবের নাম এসেছে। কে এই সাজিব? ১ মিনিটেই যে একজনকে হত্যা করে আরও চারজনকে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত করেছে? সে কি পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে? প্রকাশ্যে এমন ঘটনার পর কিভাবে এত দ্রুত পালিয়ে গেল সাজিব? এই হত্যাকারীকে কারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে? এলাকাবাসীর মাঝে এমন নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।

ঘটনার ৭ দিন পেরিয়ে গেলেও সন্দেহভাজন ঘাতক সাজিব এখনো ধরা পড়েনি। পুলিশের একাধিক ইউনিট তাকে হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ ঘটনার দুই প্রত্যক্ষদর্শী আদালতে চাঞ্চল্যকর জবানবন্দি দিয়েছে। ঘাতক সাজিবের ছুরিকাঘাতে আহত আরমান আলম (সিকাব) ও নুরুল ইসলাম বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আদালতে জবানবন্দি দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত খাদেমুল বাহার। আদালতে জবানবন্দিতে

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, ধারালো ছোরা হাতে আমেরিকা প্রবাসী আজমুল ফুয়াদ সাজিব (২৩) স্থানীয় যুবকদের যখন এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে তখন তাকে নিবৃত্ত করতে এগিয়ে আসেন মেহেদী হাসান শান্ত। এ সময় সাজিবের ছুরিকাঘাতে খুন হন শান্ত। পুরো কিলিং মিশন শেষ হয় ১ মিনিটের মধ্যেই। পরে ঘাতক সাজিব মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়। কিন্তু হত্যা মামলায় সাজিবকে আসামি না করে সাক্ষী করা হয়। জবানবন্দি রেকর্ড করেন আমলি আদালত ৪ এর বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানা।

৯ জুলাই বিকালে দেবিদ্বার উপজেলার নুরপুর গ্রামে পূর্ব বিরোধের জেরে আমেরিকা প্রবাসী আজমুল ফুয়াদ সাজিব এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত শুরু করলে তাকে নিবৃত্ত করতে এগিয়ে আসেন মেহেদী হাসান শান্ত। এ সময় সাজিবের ছুরিকাঘাতে খুন হন শান্ত। আহত হন আরও ৪ জন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা জাকির হোসেন বাদী হয়ে পরদিন একই গ্রামের আল আমিন, সাদ্দাম, ছগির, বায়েজিদ, সিরাজ ও মোখলেছসহ ৬ জনকে এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জনের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা করেন। প্রত্যক্ষদর্শী আহত আরমান আলম (সিকাব) ও নুরুল ইসলাম আদালতে জবানবন্দি শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ছোরা নিয়ে সাজিব ছুরিকাঘাত করে শান্তকে হত্যাসহ আমাদের আরও ৪ জনকে আহত করেছিল, ১ মিনিটের মধ্যেই কিলিং মিশন শেষ করা হয়। এ ঘটনা ঘটেছে প্রকাশ্যে। কিন্তু সাজিবকে আসামি না করে মামলায় ৫ নম্বর সাক্ষী করা হয়। তারা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত হওয়ায় জবানবন্দিতে ঘটনার আদ্যোপান্ত তুলে ধরেছেন বলেও জানান। ঘটনায় জড়িত না থাকলেও হত্যা মামলায় ২ নম্বর আসামি করা হয় ক্যানসার আক্রান্ত সাদ্দাম হোসেনকে। পুলিশ গ্রেফতার তাকেও করেছে।

মামলার এজাহারে ঘাতক সাজিবের নাম না থাকলেও ঘটনার পরপরই সে আত্মগোপনে চলে গেছে। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনগুলো বন্ধ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানায়, আজমল ফুয়াদ সাজিবের পাসপোর্ট নাম্বার না থাকায় তাকে গ্রেফতারের জন্য ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে সুনির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া যাচ্ছে না। এতে যে কোনো সময় সে আমেরিকা পাড়ি জমাতে পারে। তাই পুলিশসহ একাধিক সংস্থার পক্ষ থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান ঘাতক সাজিবকে মামলা থেকে রক্ষা করতে এলাকার প্রভাবশালীরা উঠেপড়ে লেগেছে। যার ফলে একমাত্র ঘাতক হয়েও এজাহারে তার নাম আসেনি।

দেবিদ্বার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) খাদেমুল বাহার বলেন, হত্যা মামলায় বাদী সাজিবের নাম না দিলেও প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত দুই তরুণ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে সাজিবের নাম বলেছে। সাজিবের ছুরিকাঘাতে শান্ত খুন হয়েছে বলে আহতরা সাক্ষ্য দিয়েছে। তবে এসব তথ্য যাচাই করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে প্রবাসী সাজিব পলাতক রয়েছে। তাছাড়া চার যুবককে ছুরিকাঘাতের ঘটনায়ও সাজিবকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এতে দুটি মামলাতেই তার নাম চলে এসেছে। আমরা তাকে আটকের চেষ্টা করছি।