শাশুড়িকে গলা কেটে হত্যা, ৬ টুকরো করে মাটিচাপা দিল পুত্রবধূ

Published: 17 July 2022, 5:16 PM

পোস্ট ডেস্ক :


কক্সবাজারের রামু উপজেলার উমখালীর দক্ষিণ মিঠাছড়ি হাজিরপাড়া এলাকায় শাশুড়িকে গলা কেটে হত্যার পর ৬ টুকরো করে লাশ বাড়ির আঙিনায় মাটিচাপা দেয় পুত্রবধূ একাই।

শনিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটলেও রোববার দুপুরে নিহতের ছেলে বাড়ির টিউবওয়েলে পাশে নতুন খোঁড়া মাটি ও মায়ের শাড়ি দেখে লাশ শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে বিকালে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত পুত্রবধূ রাশেদা আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আনোয়ারুল হোসাইন।

হত্যার শিকার বৃদ্ধার নাম মমতাজ বেগম (৭০)। তিনি স্থানীয় মৃত গোলাম কবিরের স্ত্রী। ঘাতক রাশেদা বেগম নিহত মমতাজ বেগমের ছেলে আলমগীরের স্ত্রী।

অভিযুক্ত রাশেদা আক্তার শাশুড়ি হত্যার দায় স্বীকার করে জানান, শনিবার সন্ধ্যায় শাশুড়ি মমতাজ বেগমের সঙ্গে তর্কের একপর্যায়ে দা দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করে। এরপর টুকরো টুকরো করে বস্তাবন্দি করে লাশ। পরে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে পাশের টিউবওয়েলের পাশে বস্তাবন্দি করে লাশ মাটিচাপা দেয়া হয়। তার এ বক্তব্য ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে গেছে।

এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে রামু থানার পরিদর্শক মনজুর আলম জানান, মমতাজ বেগমের ছেলে আলমগীরের স্ত্রী রাশেদা বেগমের সঙ্গে শাশুড়ি মমতাজ বেগমের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলে আসছিল। সেই কলহের জের ধরেই শনিবার সন্ধ্যায় দিকে তাকে গলা কেটে হত্যা করে রাশেদা বেগম। পরে সেই লাশ ৬ টুকরো করে বাড়ির আঙিনায় বস্তায় ভরে করে গর্তে করে পুঁতে রাখে।

স্থানীয়দের কাছে গোপনে খবর পেয়ে রোববার বিকালে রামু থানা পুলিশ বস্তাভর্তি মমতাজ বেগমের লাশ উদ্ধার করে। পুত্রবধূ রাশেদার স্বীকারোক্তি মতে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। নিহত শাশুড়ি মমতাজ বেগম খুনি পুত্রবধূ রাশেদা বেগমের আপন ফুফু।

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ারুল হোসাইন বলেন, লাশ উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ঘাতক পুত্রবধূকে আটকের পর শাশুড়িকে হত্যার বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেছে। তবে এখনো নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এজাহার জমা দেওয়া হয়নি বলে জানান ওসি।