ট্রাম্পের পরাজয় স্বীকার না করা বিব্রতকর: বাইডেন

Published: 11 November 2020, 4:10 PM

পোস্ট ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী জো বাইডেন বলেছেন, নির্বাচনে পরাজয় মেনে নিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অস্বীকৃতি জানানোর বিষয়টি ‘বিব্রতকর’।

তবে একইসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, কোনো কিছুই ক্ষমতা হস্তান্তর বন্ধ করতে পারবে না।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি টুইটে ঘোষণা করেছেন যে, প্রধান প্রধান সব টেলিভিশন নেটওয়ার্ক থেকে তার পরাজয়ের আভাস দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তিনিই জয়ী হবেন। খবর বিবিসির

প্রতি চারবছর পরপর যুক্তরাষ্ট্রের যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়, ভোট গণনার ভিত্তিতে সেখানে বিজয়ী প্রার্থী সম্পর্কে পূর্বাভাস দিয়ে থাকে মার্কিন গণমাধ্যম।

 

এখনও অঙ্গরাজ্যগুলোর ভোটের ফলাফলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। অনেক রাজ্যে এখনো ভোট গণনা চলছে। চূড়ান্ত ফলাফল তখনই ঘোষণা করা হবে, যখন ১৪ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ইলেক্টোরাল কলেজের সদস্যরা বৈঠকে বসবেন।

ডেলাওয়ারের উইলমিংটনে মঙ্গলবার জো বাইডেনের কাছে এক সাংবাদিক জানতে চান, ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনে পরাজয় মানতে যে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, সে ব্যাপারে তিনি কী মনে করেন?

জবাবে বাইডেন বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে আমি মনে করি এটা একটা বিব্রতকর ব্যাপার। একমাত্র বিষয় হলো, যদি কৌশলের সঙ্গে বলতে হয়, আমার মতে এটা প্রেসিডেন্টের উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে কোনো সাহায্য করবে না।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের অভিষেক অনুষ্ঠানের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত, আপনারা সবাই জানেন, জানুয়ারির ২০ তারিখেই পরিপূর্ণতা দেখা যাবে।’

দপ্তরের দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে বাইডেন এরইমধ্যে বিদেশি নেতাদের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করতে শুরু করেছেন। মঙ্গলবার তিনি যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী, ফরাসি প্রেসিডেন্ট, জার্মান চ্যান্সেলরের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন।

এ প্রসঙ্গে বাইডেন বলেন, ‘আমি তাদের জানিয়েছি যে, আমেরিকা আবার ফিরে এসেছে। আমরা আবার খেলায় ফিরতে যাচ্ছি।’

জো বাইডেন এবং কমলা হ্যারিস দায়িত্ব গ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে হস্তান্তর আয়োজন যে ফেডারেল প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে, যে প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনীত একজন কর্মকর্তা, তিনি হস্তান্তরের কার্যক্রম বন্ধ করে রেখেছেন।

নতুন প্রশাসনের জন্য তহবিল বরাদ্দ এবং সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রবেশাধিকারের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করে জেনারেল সার্ভিস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। এখনও এই প্রতিষ্ঠানটি জো বাইডেনকে প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট বা নতুন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি।

এ বিষয়ে বাইডেন বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে, কোনো কিছুই আমাদের থমকে দিতে পারবে না।’

এদিকে মঙ্গলবার বেশ কয়েকটি টুইট করে ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ভোট গণনায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে’ এবং ‘আমরাই বিজয়ী হবো।’ অবশ্য ট্রাম্পের এসব টুইটকে ‘বিতর্কিত’ বলে লেবেল দিয়ে রেখেছে টুইটার কর্তৃপক্ষ।

কোনো তথ্যপ্রমাণ না দেখিয়েই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করে যাচ্ছেন, শুধুমাত্র নির্বাচনে কারচুপির মাধ্যমেই জো বাইডেন বিজয়ী হতে পারেন। কিন্তু তিনি তার এসব দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ দেননি।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুগত হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, যখন প্রতিটি ‘বৈধ’ গণনা করা হবে, তখন ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় দফার মেয়াদ শুরু হবে।

এ ছাড়া বাইডেনের বিজয়ী হওয়ার পূর্বাভাস স্বীকার করা থেকে নিজেদের সরিয়ে রেখেছেন ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টিও। মঙ্গলবার যখন উইসকনসিনের সিনেটর রন জনসনের কাছে জানতে চাওয়া হয়, কেন তিনি জো বাইডেনকে এখনও অভিনন্দন জানাননি, তিনি বলেন, ‘তাকে অভিনন্দন জানানোর মতো কিছু ঘটেনি।’

সিনেটে রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককনেল বলেছেন, পেনসিলভানিয়ার মতো ব্যাটেল গ্রাউন্ডগুলোর নির্বাচনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করার অধিকার রয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের।