জাতিসংঘে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের নালিশ
পোস্ট ডেস্ক : পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে ভারত। দেশটিতে মানবাধিকারের শোচনীয় পরিস্থিতির রেকর্ড এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে দৃষ্টি দিতে সোমবার জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ভারত।

এ খবর দিয়েছে ভারতের অনলাইন স্ক্রল। এতে বলা হয়েছে, জাতিসংঘে ভারতীয় মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি পবন বাধে। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রীয় মদতে মানবাধিকারের ভয়াবহ লঙ্ঘনের জন্য পাকিস্তানকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। ভারতের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপরায়ণ এবং মিথ্যা প্রচারণা চালানোর জন্য তিনি পাকিস্তানের সমালোচনা করেছেন। পবন বাধে দাবি করেছেন, ‘পাকিস্তানে জোরপূর্বক গুম করে দেয়া হয়েছে হাজার হাজার মানুষকে। তার ভাষায়, ভিকটিমদের গ্রুপগুলোর মতে, ২০০০ সাল থেকে বেলুচিস্তানের হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ হয়ে গেছেন।
তাদের কণ্ঠ শোনার জন্য নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা লড়াই করে যাচ্ছেন। গত মাসে এসব পরিবারের সদস্যরা ও তাদের শত শত সমর্থক ইসলামাবাদের বিক্ষোভে ১০ দিনের অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন। বেলুচিস্তান এখন ‘ল্যান্ড অব ডিজঅ্যাপেয়ারেন্স’ বা নিখোঁজ মানুষের ভূমি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
পাকিস্তানের কুখ্যাত আইনের অধীনে ধর্মবিদ্বেষী অভিযোগ উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জাতিসংঘে তথ্য তুলে ধরেছেন তিনি। এক্ষেত্রে তিনি একটি ঘটনার কথা বলেন। সেটা হলো, ১২ বছর বয়সী একটি বালিকাকে অপহরণ করেছিলেন এক পাকিস্তানি ব্যক্তি। পরে ওই বালিকাকে বাধ্য করা হয়েছে তাকে বিয়ে করতে। পবন বাধে বলেন ‘পাাকিস্তানে খ্রিস্টান, হিন্দু এবং অন্য সংখ্যালঘুরা কি রকম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন এটা তার প্রতীকী রূপ। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে করাচিতে সমবেত হয়েছিলেন কমপক্ষে ৩০ হাজার মানুষ। তারা দাবি করেছিলেন, শিয়া মুসলিমদেরকে ধর্মান্ধ বলে ঘোষণা দিতে হবে। ধর্ম অবমাননাকারী ঘোষণা দিতে হবে এবং তাদের শিরñেদ করার দাবি করা হয়। তিনি আরো বলেন, এ বছর জানুয়ারিতে শিয়া হাজারা সম্প্রদায়ের ১১ জন কয়লাশ্রমিককে হত্যা করা হয়। এটা হলো পাকিস্তানে শিয়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সহিংস তৎপরতা। তারা এমন ঘটনার ধারাবাহিক শিকারে পরিণত হচ্ছেন।
পবন বাধে আরও দাবি করেন, সরকার ও মিলিশিয়ারা যে নির্যাতন করছে তা বড় করে প্রকাশ করতে ভীত শঙ্কিত পাকিস্তানি মিডিয়া। তার ভাষায় পাকিস্তানি একজন মন্ত্রী বলেছেন, যে ব্যক্তি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কথা বলবে, গলা থেকে তার জিহ্বা টেনে ছিড়ে ফেলা উচিত। ভারতের অভিযোগ, পাকিস্তানের অধিকারকর্মীদের কুখ্যাত আইন দিয়ে টার্গেট ও অভিযুক্ত করা হচ্ছে।
ওদিকে জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা বলেছেন, অন্যদের ধর্মীয় উপদেশ দেয়া বন্ধ করা উচিত পাকিস্তানের। তার দেশে যে লাখ লাখ মানুষ দুর্ভোগে সেদিকে দৃষ্টি দেয়া উচিত তাদের। উল্লেখ্য, রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট আন্তঃসন্ত্রাস বন্ধের জন্য পাকিস্তানের প্রতি বার বার আহ্বান জানিয়েছে ভারত। একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের ইতি ঘটানোর কথা বলা হয়েছে। গত মাসে পাকিস্তান দাবি করেছে জম্মু ও কাশ্মীরে ভয়াবহভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে ভারত। এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। জবাবে ভারত বলেছে, এসবের পরিবর্তে পাকিস্তানের উচিত রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য ব্যবস্থা নেয়া। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক পরিষদে ভারতে সমালোচনা করেন পাকিস্তানি মানবাধিকার বিষয়ক মন্ত্রী শিরীন মাজারি। এর জবাবে এসব কথা বলেছে ভারত।




