ব্রিটিশদের মিয়ানমার ত্যাগের পরামর্শ

Published: 29 March 2021

পোস্ট ডেস্ক : জাতিসংঘের স্পেশাল র‌্যাপোর্টিউরের ভাষায় গণহত্যা চালিয়েছে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা।

শনিবার কমপক্ষে ১১৪ জন মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করেছে তারা। এরপর নিহতদের লাশ নিয়ে যখন কাঁদছেন মিয়ানমারের বেসামরিক জনতা, তাদের লাশের শেষকৃত্যানুষ্ঠান করছিলেন, তখন আবার তাদের ওপর গুলি করেছে জান্তা। সারাদেশ যখন ১১৪টি লাশের বোঝা কাঁধে নিয়ে হাউমাউ করে কাঁদছে তখন জেনারেলরা উৎসবে মেতে ছিলেন। তারা সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে বিলাসবহুল পার্টির আয়োজন করে। সেখানে খুব খোশমেজাজে দেখা গেছে জেনারেলদের। আর সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, চীন, রাশিয়া, ভিয়েতনাম, লাওস এবং থাইল্যান্ডের প্রতিনিধিরা। পশ্চিমা বিশ্বের নিন্দা, নিষেধাজ্ঞা এবং ১২টি দেশের প্রতিরক্ষা প্রধানদের নিন্দা জানানোতে সামরিক জান্তার কিছুই এসে যায় নি।
এ অবস্থায় যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মিয়ানমার থেকে ব্রিটিশ নাগরিকদের দেশে ফিরে যেতে বলা হয়েছে। শনিবারের ওই হত্যাযজ্ঞকে সন্ত্রাসীদের রাজত্ব বলে আখ্যায়িত করে এর নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু তাতে জান্তা সরকারের মূল হোতা সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং এবং তার জেনারেলদের কিছুই এসে যায় না। তারা সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে এদিন রাতে বিলাসবহুল পার্টির আয়োজন করে। পরে রোববার যখন নিহত কিছু মানুষের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছিল সেখানে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করে জান্তা সরকারের আজ্ঞাবহরা। এ অবস্থায় ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজন না থাকলে সব ব্রিটিশ নাগরিককে মিয়ানমার ছেড়ে যেতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। শনিবার কমপক্ষে ৪০টি স্থানে গুলি চালিয়েছে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী। এতে কমপক্ষে ১১৪ জন নিহত হয়েছেন। এই নৃশংস হত্যাকা-ের নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন কড়া ভাষায় একে ‘ভয়াবহ’ হত্যাকা- হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরাঁ। ব্রিটিশ পরাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব একে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জন্য নতুন এক নি¤œতম স্তরে নেমে যাওয়া বলে আখ্যায়িত করেছে। মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘের স্পেশাল র‌্যাপোর্টিউর টম অ্যানড্রুজ উদ্ভূত প্রেক্ষাপটে জরুরি ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক জরুরি সম্মেলন ডাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে এসব নিন্দা বা সমালোচনার সঙ্গে যোগ দেয়নি মিয়ানমারকে সমর্থনকারী চীন ও রাশিয়া। এর অর্থ হলো জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ যদি কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে তাহলে তার বিরুদ্ধে ভেটো দিতে পারে এই দুটি দেশ। ফলে কোনো ব্যবস্থা নেয়া কঠিন হয়ে পড়বে।