মিয়ানমারে সামরিক জান্তার দৃষ্টি ভার্চ্যুয়াল জগতে
পোস্ট ডেস্ক : মিয়ানমারের সামরিক জান্তা ভিন্নমতাবলম্বীদের দমনে ভার্চ্যুয়াল জগতের দিকে দৃষ্টি দিয়েছে।

তারা এখন ইন্টারনেট ব্লক করে দিচ্ছে। অনলাইনে তাদের সমালোচনা করেছেন এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর বেপরোয়া নিষ্পেষণের ভয়ে বড় র্যালি এখন আর খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। তা সত্ত্বেও সামরিক জান্তার রোষে শুক্রবারও প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে দু’জন। এ নিয়ে মিয়ানমারে সামরিক জান্তার রক্তের নেশা মেটাতে প্রাণ দিয়েছেন কমপক্ষে ৫৫০ জন। এর মধ্যে ৪৬ টি শিশু। এমন তথ্য দিয়েছে অধিকার বিষয়ক গ্রুপ অ্যাসিসট্যান্স এসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনারর্স (এএপিপি)।
এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। নিষ্পেষণ সত্ত্বেও বিভিন্ন শহরে প্রতিদিনই অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হচ্ছে। কখনো কখনো বিরোধীরা একে ‘গেরিলা র্যালি’ বলে আখ্যায়িত করছেন। এতে খুব বেশি মানুষ হচ্ছে না। সংখ্যায় অল্প মানুষ বিক্ষোভ করলেও মুহূর্তে তারা আত্মরক্ষায় সরে যাচ্ছেন, যাতে নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা কোনো ব্যবস্থা নিতে না পারে। শুরুর দিকে রাতেও জনতা মোমবাতি প্রজ্বলন করেছে। বিশাল র্যালি হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ বড় শহরগুলোতে বিক্ষোভ করেছে। কিন্তু এখন কর্তৃপক্ষ বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করতে মোবাইল ডাটা বন্ধ করে দিয়েছে। ইন্টারনেট সরবরাহকারীদেরকে শুক্রবার থেকে ওয়্যারলেস ব্রডব্যান্ড কানেকশন বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে। এর ফলে অসংখ্য নেট ব্যবহারকারী কোনো যোগাযোগ করতে পারছেন না। সামরিক জান্তা এরই মধ্যে ১৮ জন সেলিব্রেটির বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রভাবশালী ও দু’জন সাংবাদিক। তারা সবাই সামরিক শাসনের বিরোধিতা করেছিলেন। অভিনেত্রী পাইং পাইও থু বলেছেন তিনি ভয়ে ভীত হবেন না। ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, আমার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু হোক বা না হোক, যতদিন আমার দেহে প্রাণ আছে, আমি সামরিক স্বৈরাচারের বিরোধিতা করে যাবই। তারা মানুষকে হুমকি দিচ্ছে এবং হত্যা করছে। বিপ্লব অবশ্যই বিজয়ী হবে।
উল্লেখ্য, অভ্যুত্থানের পর প্রধান শহর ইয়াঙ্গুনের র্যালিতে নিয়মিত অংশ নিয়েছেন এই অভিনেত্রী। তার স্বামী চলচ্চিত্র পরিচালক না গাঈ একই আইনে ফেব্রুয়ারি থেকে সামরিক জান্তার ওয়ান্টেড তালিকায় রয়েছেন। তবে অভিনেত্রী পাইং পাইও থু বর্তমানে কোথায় আছেন তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যাচ্ছে না। ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন করা হলেও তিনি কিভাবে ফেসবুকে পোস্ট দিতে সক্ষম হচ্ছেন তাও পরিষ্কার নয়। ওদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আজ শনিবার দিনের প্রথম প্রহরে কোনো মিয়ানমারের মানুষকে উপস্থিত দেখা যাচ্ছে না। অভিনেত্রী এবং তার স্বামীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তাতে তাদের সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। ওদিকে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম এমআরটিভি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার স্ক্রিনশট প্রকাশ করেছে। এর সঙ্গে তাদের ফেসবুকের প্রোফাইল যুক্ত করা হয়েছে।
সামরিক জান্তা ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যখন বন্ধ করে দিয়েছে, তখন তারা অব্যাহতভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যারা সমালোচনা করেছেন এবং এসব সমালোচনাকে সমর্থন করেছেন তাদেরকে শনাক্ত করছে। এমআরটিভি জানিয়েছে, ইউটিউব চ্যানেল এবং তার লিঙ্ক শেয়ার মাধ্যম টুইটার সরকারিভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেলিনা পোর্টার বলেছেন, আমরা আশা করি, এভাবে মানুষের কণ্ঠকে স্তব্ধ করে জনগণের দাবিকে উপেক্ষা করা যাবে না। তিনি বলেন, শাটডাউন করে দেয়ার ফলে জনগণকে দুর্ভোগ পোহাতে হবে, বিশেষ করে যারা অনলাইনে সব কাজ করেন। ওদিকে মিয়ানমারের নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা অসংখ্য মানুষকে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করেছে।




