৪২ লক্ষ টাকার মাদকসহ সীমান্তের সম্রাট ফকির আলী ভারতে আটক

Published: 13 June 2021

বিশেষ সংবাদদাতা :

ভারত ও বাংলাদেশের বহুল আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী ফকির আলী অবশেষে ভারতের যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটক হয়েছে। তাকে করিমগঞ্জ পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এদিকে মাদক সম্রাট ফকির আলী গ্রেফতারের খবর বিয়ানীবাজার উপজেলার সীমান্তবর্তী দুবাগ ইউনিয়নের গজুকাটা এলাকায় পৌছলে সেখানে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্থির নিশ্বাস ফিরে আসে। ফকির আলী বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর মোস্ট ওয়ান্টেড ছিল। সে গজুকাটা এলাকায় দীর্ঘ দিন থেকে অবস্থান করে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। একাধিক সূত্র জানায় মাদক সম্রাট ফকির আলী তার অবস্থান শক্ত করতে গজুকাটা এলাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর বোনকেও বিয়ে করে।
সীমান্তের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, ফকির আলী কৌশলে ভারত থেকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে মাদক পাচার করতো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান থেকে বাঁচতে ভারত ও বাংলাদেশে সীমান্ত এলাকার জিরো এলাকাকে বেছে নিয়ে ওই এলাকায় অবস্থান করতো। বাংলাদেশ থেকে তার উপর নজরদারীর খবর পেলে ভারত অংশে আর ভারত থেকে নজরদারীর খবর পেলে বাংলাদেশ অংশে অবস্থান করে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল।
ভারত থেকে প্রাপ্ত সূত্রে জানাগেছে, সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগের খবরের ভিত্তিতে ৭ নং ব্যাটেলিয়নে কাঁটাতারের ভিতরের দক্ষিণ লাফাশাইল গ্রামের ফকির আলীর বাড়ীতে ১১ জুন রাতে অভিযান চালিয়ে ৮২৮৭ পিছ নেশাজাতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট সহ বাংলাদেশের ১৩,৫৭০ টাকা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। সঙ্গে ফকির আলীকে আটক করেছে। বিএসএফ এর ৭ নং ব্যাটেলিয়নে সেকেন্ড ডিফেন্স লাইনের জারাপাতা পোষ্টের পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে রাতে গেইট খোলে দক্ষিণ লাফাশাইল গ্রামের ভিতরে প্রবেশ করে ফকিরের ঘরে অভিযান চালিয়ে এই সাফল্য লাভ করে। জব্দ করা ইয়াবা ট্যাবলেটর মূল্য ৪২ লক্ষ টাকা বলে বিএসএফ এর পক্ষে থেকে জানান। বিএসএফ ফকির আলীকে জিজ্ঞেসা বাদ চালিয়ে বহু তথ্য বের করেছে। ফকির আলীর এই ব্যবসায়তেকে বা কারা কারা জড়িত তার তথ্য ও জানতে পেরেছে। তদন্তের স্বার্থে নাম গুলো খোলসা করছেন না বিএসএফ এর পক্ষে। তবে নাম প্রকাশ না করলেও এটা জানা গেছে এই ব্যবসায়ের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের এক ব্যক্তি জড়িত আছেন। আবার এই ব্যক্তি এক বিধায়কের খুব ঘনিষ্ঠ। ঐ ব্যক্তিকে আবার বিধায়কের ছায়া সঙ্গী হিসেবে সব সময় দেখা যায়। উল্লেখ্য যে চতুর ফকির আলী দীর্ঘ দিন ধরে বিএসএফ এর চোখে ধুলো দিয়ে কৌশলে সব ধরনের চোরা কারবার চালিয়ে যাচ্ছিল। বাংলাদেশে ড্রাগস সরবরাহের এই চোরা কারবারে ফকিরের সঙ্গে প্রভাবশালী ব্যক্তি, রাজনৈতিক দলের নেতা সহ অনেক লোক সহযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএসএফ ফকিরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশকে সমঝে দিয়েছেন। বর্তমানে ফকির করিমগঞ্জ পুলিশের জিম্মায়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে পর আরো অনেক তথ্য বেরিয়ে আসবে। উল্লেখ্য যে সমগ্র রাজ্যের সঙ্গে করিমগঞ্জ জেলাতে পুলিশের ড্রাগস বিরোধি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সঙ্গে বিএসএফসহ সরকারি সব কটি এজেন্সি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
বিজিবি’র একটি সূত্র জানায়, ফকির আলীর বিরুদ্ধে তাদের নজরদারী বাড়ানোর ফলে সে লাফাসাই এলাকায় অবস্থান নেয়। আর সেখানেই ভারতীয় বাহিনীর হাতে আটক হয়।