দ্য ফিন্যান্সিয়াল একশন টাস্কফোর্স’র কালো তালিকায়ই থাকছে পাকিস্তান
পোস্ট ডেস্ক :

পাকিস্তানকে গ্রে লিস্ট বা কালো তালিকায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থপাচার বিরোধী আন্তর্জাতিক সংগঠন দ্য ফিন্যান্সিয়াল একশন টাস্কফোর্স (এফএটিএফ)। তারা স্বীকার করে নিয়েছে পাকিস্তানকে বাস্তবায়নের জন্য যে ২৭ দফা দেয়া হয়েছিল, তারা তার মধ্যে ২৬টি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করেছে। তবে মিউচুয়াল ইভ্যালুয়েশন রিপোর্ট (এমইআর) প্রসেস ফিরে পেতে ইসলামাবাদকে তারা আরো ৬টি নতুন দফা দিয়েছে। এমইআর ফেরত পেতে তাদেরকে অর্থপাচার বিরোধী এই পর্যবেক্ষক সংস্থার ওইসব দফা বাস্তবায়ন করতে হবে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এক্সপ্রেস ট্রিবিউন। উল্লেখ্য, এফএটিএফ হলো একটি আন্তঃসরকার সংগঠন। এটি জি-৭ এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৯ সালে। বিশ্বে অর্থপাচার রোধে এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।
৫ দিনের ভার্চ্যুাল মিটিংয়ে প্যারিসে সংবাদ সম্মেলনে এফএটিএফ’র প্রেসিডেন্ট ড. মারকাস প্লিয়ার বলেন, এখনও ক্রমবর্ধমান নজরদারির তালিকায় আছে পাকিস্তান। তবে পাকিস্তানি সরকার যথেষ্ট অগ্রগতি করেছে। তারা সন্ত্রাসে অর্থায়ন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে শক্তিশালী ও কার্যকর অবস্থান নিয়েছে। তিনি আরো বলেন, এফএটিএফর বেঁধে দেয়া ২৭ দফা একশন প্লানের মধ্যে ইসলামাবাদ ২৬টি বাস্তবায়ন করতে পেরেছে। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনও সম্পূর্ণ করা প্রয়োজন। তা হলো জাতিসংঘ চিহ্নিত করেছে এমন সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর সিনিয়র কমান্ডার ও নেতাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ও বিচার করা।
তিনি আরো বলেন, অর্থপাচার রোধে বেশ কিছু পদক্ষেপ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে পাকিস্তান এখনও ব্যর্থ। এর অর্থ হলো, পাকিস্তানে এখনও অর্থপাচারের ঝুঁকি অনেক বেশি। এর ফলে সেখানে দুর্নীতি এবং সংগঠিত অপরাধ ফুলেফেঁপে উঠতে পারে। তাই এফএটিএফ পাকিস্তানের জন্য নতুন একশন প্লান তৈরি করেছে। এতে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে অর্থপাচারের ঝুঁকিকে। এর মধ্যে বিচার ও তদন্ত বাড়াতে হবে। সম্পদ শনাক্ত, ফ্রিজ করা এবং জব্দ করতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সঙ্গে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে। এফএটিএফ প্রেসিডেন্ট বলেন, পাকিস্তান সরকার এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুুিতশীল বলে তাদেরকে আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই।
পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় জ্বালানিমন্ত্রী হাম্মাদ আজহার আশা প্রকাশ করেছেন যে, ১২ মাসের মধ্যে একশন প্লান বাস্তবায়নের পর এফএটিএফর কালো তালিকা থেকে পাকিস্তানকে বাদ দেয়া হবে। আমরা পরবর্তী ১২ মাসের মধ্যে শেষ দুটি একশন প্লান পূরণ করবো। ফলে কালো তালিকা থেকে পাকিস্তান উঠে আসবে সাদা তালিকায়। এফএটিএফ থেকে পাকিস্তানকে নিয়ে ওই ঘোষণা দেয়ার পরপরই তিনি ইসলামাবাদে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, এফএটিএফ প্রেসিডেন্ট ও অর্থপাচার বিরোধী এই প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা পাকিস্তানের বিস্ময়কর অগ্রগতির প্রশংসা করেছেন।
তবে কেন পাকিস্তানকে কালো তালিকা থেকে বের করে আনা হচ্ছে না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এফএটিএফ একটি সংগঠন। এটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন হয়। এর আগে শুধু প্রযুক্তিবিষয়ক বিধিবিধান নিয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।




