কমলার রস দিয়ে করোনা ‘পজিটিভ’ রেজাল্ট, স্কুল ফাঁকির নতুন উপায়

Published: 3 July 2021

পোস্ট ডেস্ক :


করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ‘পজিটিভ’ রিপোর্ট পাওয়ার জন্য বৃটেনের স্কুলপড়ুয়া কিছু শিক্ষার্থী নতুন এক উপায় আবিষ্কার করেছে। তারা করোনা পরীক্ষার ‘ফ্লো টেস্টে’ কমলার রস ব্যবহার করেছে। এতে তাদেরকে করোনা পজিটিভ দেখায়।

 

তবে বিজ্ঞানের একজন শিক্ষক দাবি করেছেন, এটা কোনো সৎ উদ্দেশে করা হয়নি। করোনা পজিটিভ হলে তারা দু’সপ্তাহ স্কুল ফাঁকি দিতে পারবে। এই স্কুল ফাঁকি দেয়ার জন্যই এটা তাদের কাছে সবচেয়ে উত্তম উপায়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গার্ডিয়ান। তবে নিরপেক্ষভাবে এ বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখেছে গার্ডিয়ান।

 

তাতে বলা হয়েছে, কমলার রসের ভিতর যে ভাইরাস থাকে তার জন্য এমন করোনা পজিটিভ ফল আসে এমন নয়। উল্টো এমন ফল আসে কমলার রসের ভিতর এসিডের উপস্থিতির কারণে। এই এসিড করোনা পরীক্ষার মূল ফলকে ভেঙে দেয়। এই প্রতিক্রিয়া ক্যাচাপ, কোমল পানীয় কোকাকোলা সহ বিভিন্ন রকম খাদ্য ও পানীয়ের ক্ষেত্রেও পাওয়া যায় বলে দাবি করা হচ্ছে। বৃটেনের বিজ্ঞান বিষয়ক একজন শিক্ষক বলেছেন, কমলার রস ব্যবহার করে যে করোনা পজিটিভ দেখানো যায় এমনটা তাদেরকে দেখিয়েছে কিছু শিক্ষার্থী। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন-এর প্রফেসর অ্যানড্রিয়া সেলা বলেন, এই আবিস্কার বিস্ময়কর কোনো কিছু নয়।

 

তার ভাষায়, কেউ যদি ইচ্ছা করে এমন পরীক্ষা করে, তাহলে অবশ্যই আপনি উল্টো ফল পাবেন। তবে আমি বলবো, সত্যিকার অর্থে এই পজিটিভ ফল কিন্তু ‘ভুল পজিটিভ’ ফল নয়। কারণ ‘ভুল পজিটিভ’ রেজাল্ট তখনই হয়, যখন যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা না হয়।

এই কৌশলটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিকটকে বিস্তর প্রচার চলছে। এতে দেখা যাচ্ছে লোকজন ভিন্ন ভিন্ন তরল পদার্থ ব্যবহার করে পরীক্ষা করছে। আই নিউজ অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সার্চ টার্ম হ্যাশট্যাগ ফেকভিডিওটেস্ট নামে যে ভিডিও ছাড়া হয়েছে তার এরই মধ্যে ভিউ হয়েছে ৬৫ লাখ বারের বেশি। এমন চর্চার কড়া সমালোচনা করেছেন ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহামের বায়োস্ট্যাটিসটিক্সের প্রফেসর জন ডিকস।

 

এসোসিয়েশন অব স্কুল অ্যান্ড কলেজ লিডারসের জেনারেল সেক্রেটারি জিওফ বার্টন বলেছেন, এই পরীক্ষার অপব্যবহার কোনোভাবেই সহায়ক নয়। এই অভ্যাস বা চর্চাকে অনুসরণ করা আমরা কঠোরভাবে অনুৎসাহিত করি। আমরা নিশ্চিত এটা যারা করেছে তারা খুবই মুষ্টিমেয় শিক্ষার্থী। আমরা অভিভাবকদের অনুরোধ করবো যাতে তারা এই পরীক্ষার অপব্যবহার করতে না দেন শিক্ষার্থীদের। এসব পরীক্ষা যারা করেছে, তাদেরকে অনুরোধ করবো রাসায়নিক বিক্রিয়ার কোনো পরীক্ষা করার উত্তম স্থান হলো স্কুল।