অপ্রতিরোধ্য তালেবান, ৯০ দিনে কাবুলের পতন!
পোস্ট ডেস্ক :

অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে আফগানিস্তানের তালেবান যোদ্ধারা। তারা ক্রমাগত অগ্রসর হচ্ছে। একের পর এক এলাকা, প্রাদেশিক রাজধানী দখল করে নিচ্ছে। মানুষজন ভয়ে বাড়ি ছেড়ে রাস্তায় রাত্রি যাপন করছে। এ অবস্থায় দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়ালি মোহাম্মদ আহমাদজাইকে পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়েছে, তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার বিষয়ে বিবিসি বুধবার নিশ্চিত হয়েছে। তাকে প্রেসিডেন্ট সরিয়ে দিয়েছেন কিনা তা পরিষ্কার করা হয়নি রিপোর্টে।
জুন থেকে এই পদে ছিলেন ওয়ালি মোহাম্মদ আহমাদজাই। এখন এ পদে কাকে বসানো হবে তাও রিপোর্টে পরিষ্কার করা হয়নি। তবে যিনিই এই পদে আসুন না কেন, তাকে কঠিন এক সময়ের মুখোমুখি হতে হবে। সহিংসতা রোধ করে তালেবানদের পরাস্ত করতে হবে অথবা তাদের সঙ্গে একটি সমঝোতায় যেতে হবে। কারণ, তালেবানদের এখনও পিছু হঠার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
আফগানিস্তানের ৩৪টি প্রদেশের মধ্যে কমপক্ষে ৯টি দখল করেছে তালেবানরা।
বুধবার রাতভর কান্দাহার এবং গজনিতে ভারি গোলাবর্ষণ হয়েছে। এর আগে প্রেসিডেন্ট আশরাফ গণি বিমানযোগে ছুটে গিয়েছেন উত্তরাঞ্চলীয় শহর মাজারে শরীফে। সেখানে সরকারপন্থি শক্তিগুলোর র্যালিতে যোগ দেয়ার কথা তার। এই এলাকাটি তালেবানবিরোধী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তবে সমালোচকরা একে দেখছেন বাঁকা চোখে। কারণ, সেখানে যেসব জাতিগত ওয়্যারলর্ড রয়েছেন, তাদেরকে অনেক বছর পাত্তাই দেননি প্রেসিডেন্ট আশরাফ গণি। এখন তিনি বিপদে পড়েছেন। তাই সময় তাকে টেনে নিয়েছে সেইসব ওয়্যারলর্ডদের কাছে।
২০ বছরের যুদ্ধ শেষে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য বিদেশি শক্তিগুলো তাদের সেনা প্রত্যাহার করেছে। এরপরই সেখানে তালেবানরা আবার পুরনো রূপে ফিরেছে। নতুন নতুন এলাকা দখলে মেতে উঠেছে তারা।
জাতিসংঘের হিসাবে গত এক মাসে আফগানিস্তানে সহিংসতায় কমপক্ষে এক হাজার বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। বুধবার মাজারে শরীফ পৌঁছে সেখানে জাতিগত উজবেক লড়াকু নেতা আবদুল রশিদ দোস্তাম, জাতিগত সুপরিচিত তাজিক নেতা আতা মোহাম্মদ নূরের সঙ্গে শহরের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। এ সময় দোস্তাম বলেছেন, আফগানিস্তানের উত্তরে বেশ কয়েকবার গিয়েছে তালেবানরা। কিন্তু প্রতিবারই তারা ফাঁদে পড়েছে।
বিবিসির সাংবাদিক ইথিরাজন আনবারাসান বলছেন, অনেক বছর ধরে আফগান ন্যাশনাল আর্মিকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে এসব যুদ্ধবাজ নেতাদের একপেশে করে রাখার চেষ্টা করেছিলেন আশরাফ গণি। কিন্তু সময়ের প্রয়োজনে তিনিই এখন তাদের দরজায় হাজির। এ সপ্তাহে সরকারপন্থি মিলিশিয়াদের হাতে অস্ত্র তুলে দিতে রাজি হয়েছেন প্রেসিডেন্ট গণি। এখানে উল্লেখ্য, উজবেকিস্তান এবং তাজিকিস্তান সীমান্তের সঙ্গে লাগোয়া আফগানিস্তানের মাজারে শরীফ। যদি এই শহরের দখল তালেবানরা নিতে পারে তাহলে আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলে সরকারের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে।
উত্তরাঞ্চলীয় আরেকটি প্রদেশের রাজধানী কুন্দুজ। সেখানে সরকারি হাজার হাজার সেনা সদস্য এরই মধ্যে আত্মসমর্পণ করেছে। স্থানীয় মিডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, তালেবানরা এরই মধ্যে কুন্দুজ বিমানবন্দর দখল করেছে। সেখানে সেনাবাহিনীর যে কোর ছিল, তারা তালেবানদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো বিবিসিকে বলেছেন, বুধবার পূর্বাঞ্চলীয় গজনিতে তীব্র যুদ্ধ হচ্ছিল। তালেবানরা ওই শহরের কেন্দ্রস্থলে প্রবেশ করার পর এই যুদ্ধ শুরু হয়েছে। পরে রেডক্রস বলেছে, দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ শহর কান্দাহারে রাস্তায়-রাস্তায় লড়াই ছড়িয়ে পড়েছে। তা তীব্র থেকে তীব্র আকার ধারণ করেছে। তালেবানরা এ শহরের জেলখানা দখল করার দাবি করেছে। এ দাবি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় সিবিএস নিউজকে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ৯০ দিনের মধ্যে তালেবানদের কাছে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের পতন হতে পারে। ওই কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, অধিক পরিমাণ প্রতিরোধ গড়ে তোলার মাধ্যমে তালেবানদের এই অগ্রগতি থামিয়ে দেয়া সম্ভব আফগান নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর। মার্কিন এই কর্মকর্তা তার দেশের গোয়েন্দা সূত্রকে উদ্ধৃত করে এসব কথা বলেছেন। একই রকম রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট।
হেলমান্দ প্রদেশের লস্করগাঁ থেকে রেডক্রিসেন্টের মহাপরিচালক রবার্ট মারদিনি বলেছেন, হাসপাতালগুলোতে উপচে পড়ছে মৃতদেহ। তার ব্যবস্থাপনা নিয়ে এক রকম লড়াই করছে কর্তৃপক্ষ। ওদিকে স্থল বাহিনীর সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র ও আফগানিস্তানের বিমানগুলো তালেবানদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ৯০ দিনের মধ্যে কাবুলের পতন সংক্রান্ত মার্কিন পূর্বাভাসকে আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গণির সিনিয়র উপদেষ্টা ওয়াহিদ উমর উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমাদের জন্য এটা খুবই কঠিন সময়। তবে আমরা নিশ্চিত, আমাদের বিজয় হবেই। তারা (তালেবান) কিছু এলাকা দখলে নিতে সক্ষম হয়েছে। কিন্ত তারা জনগণের মন জয় করতে পারেনি। জনগণ তাদেরকে চায় না। তারা সহসাই দেখতে পারে যে, আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে তাদের হামলা ছিল একটি বড় ভুল।




