আফগান নাগরিকদের আশ্রয় দেয়ার যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে বাংলাদেশের ‘না’

Published: 18 August 2021

পোস্ট ডেস্ক :


যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান থেকে যেসব নাগরিক দেশ ছাড়তে ইচ্ছুক তাদেরকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি বলেছে, বাংলাদেশ এর আগে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। এতে উদারতার পরিচয় দিয়েছে বাংলাদেশ। সেই আলোকে কিছুদিনের জন্য দেশ ছাড়তে ইচ্ছুক আফগান নাগরিকদের আশ্রয় দিয়ে আরেকটি মহানুভবতার পরিচয় দিতে পারে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এ প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করেছে বাংলাদেশ। এমনিতেই রোহিঙ্গাদের নিয়ে নাভিশ্বাস উঠছে বাংলাদেশের। তার ওপর অন্য কোনো দেশের নাগরিকদের আশ্রয় দিলে বাংলাদেশের জন্য তা হবে নেতিবাচক-এমন যুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব নাকচ করা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, আফগানিস্তান নাগরিকদের কিছুদিনের জন্য বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তারা বলেছে, যারা আফগানিস্তান ছাড়তে চায় তাদেরকে আশেপাশে বন্ধু রাষ্ট্রগুলোতে আশ্রয় দেয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে। এরইমধ্যে ২০ হাজার আফগান নাগরিককে কানাডা আশ্রয় দেবে বলে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা তাদের কাছে জানতে চেয়েছি কতোজন আফগান নাগরিককে কতোদিনের জন্য আশ্রয় দিতে হবে। তারা এ প্রশ্নের সঠিক কোনো জবাব দিতে পারেনি। সংখ্যাটাও জানাতে পারেনি। তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, কিছুদিনের জন্য আফগান নাগরিকদের আশ্রয় দিলে তাদেরকে পরে অন্য কোনো দেশে স্থানান্তর করা হবে। যতদিন তারা বাংলাদেশে থাকবে ততদিন তাদেরকে সব ধরনের সহায়তা দেয়া হবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এসব শুনে আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বলেছি আমাদের দেশে আশ্রয় দেয়ার মতো এত জায়গা নেই। যুক্তরাষ্ট্র বড় দেশ, চাইলেই তো আফগান নাগরিকদের সেখানে আশ্রয় দেয়া সম্ভব।
জানা গেছে, ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে ঢাকা গত রোববার প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবটি পায়। সোমবার এ নিয়ে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে আলোচনাও করেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার।
এদিকে আমেরিকান সৈন্যদের জন্য কাজ করা আফগান নাগরিকসহ কয়েক হাজার মানুষকে সরিয়ে নেয়ার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাব দিয়েছে বলে চাউর হয় বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। এ ধরনের খবরকে উড়িয়ে দেন বিমান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী ও বাংলাদেশ বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল। এ প্রসঙ্গে বিমান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী গতকাল মানবজমিনকে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ধরনের কোনো প্রস্তাব পাওয়া যায়নি। আফগানিস্তানের সঙ্গে আমাদের সরাসরি কোনো ফ্লাইট চালু নেই। তাই যুক্তরাষ্ট্র আমাদেরকে সরাসরি এ ধরনের প্রস্তাব দিতে পারে না। তারা যদি প্রস্তাব দেয় তাহলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দিতে পারে। আর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকার যদি আফগানিস্তানে ফ্লাইট পরিচালনা করার নির্দেশ দেয় তাহলে করা হবে। এর বাইরে ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ নেই। প্রায় একই মন্তব্য করেন বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল। মানবজমিনকে তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে যেহেতু আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রস্তাব পাওয়া যায়নি- তাই এই বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে এখনই কিছু বলতে পারছি না। এদিকে সংশ্লিষ্টরা জানান, আফগানিস্তানের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ১৮০ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীও ঢাকায় আসার চেষ্টা করছেন। কিন্তু আফগানিস্তানের কাবুল বিমানবন্দরের অবস্থা খুবই খারাপ। বিমানবন্দরের টারমাকে দাঁড়িয়ে থাকা উড়োজাহাজে উঠতে শত শত আফগানের জটলা দেখা যায়। সবাই উড়োজাহাজে উঠতে মরিয়া। উড়োজাহাজটিতে ওঠার সিঁড়িতে চলছে হুড়োহুড়ি। কে আগে উঠবেন, তা নিয়ে ধাক্কাধাক্কি। অনেকে আবার এর ধার ধারেননি। সিঁড়ির রেলিংয়ে ঝুলেই পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন উড়োজাহাজের দরজায়। এমনই একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে। ভিডিওটি সোমবারের। আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের। ২০ বছর পর আবারো শহরটির দখল নিয়েছে তালেবানরা। এ নিয়ে চরম আতঙ্কে রয়েছেন শহরটির বাসিন্দারা। তালেবানের উপস্থিতি কাবুলবাসীর অনেকের জন্য যে মোটেও সুখকর নয়, ভিডিওটি থেকে তা বোঝা যায়। এনডিটিভির খবরে ওই ভিডিওর বরাত দিয়ে জানানো হয়, তালেবান কাবুল দখলের পর থেকেই জনস্রোত দেখা গেছে কাবুল বিমানবন্দরে। দেশ ছাড়তে যেকোনো উপায়ে একটি উড়োজাহাজে উঠতে মরিয়া হয়ে পড়েছেন শহরের বাসিন্দারা। লোকজনের চাপ সামলাতে সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা মার্কিন সেনারা গতকাল ফাঁকা গুলি চালিয়েছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। এদিকে যারা আফগানিস্তান ছেড়ে যেতে চান, তাদের বাধা না দিতে তালেবানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ ৬৫টি দেশ। দেশত্যাগে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা কোনো হয়রানির শিকার হলে এর দায় তালেবানকেই নিতে হবে বলে জানিয়েছে দেশগুলো। চারদিক থেকে ঘিরে ফেলার পর রোববার কাবুলে ঢুকে পড়ে তালেবান যোদ্ধারা। এর পরপরই প্রেসিডেন্ট আশরাফ গণি আফগানিস্তান ত্যাগ করে তাজাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। একপর্যায়ে দেশটির প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান বাহিনী।