সিলেট-৩ আসন : রাত পোহালেই ভোট
সিলেট অফিস :

রাত পোহালেই সিলেট-৩ আসনের উপ-নির্বাচন। ভোট গ্রহণ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনকে ঘিরে নৌকা আর লাঙ্গলের প্রার্থী মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন। দুই প্রার্থী ফলাফল নিজেরদের পক্ষে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। যদিও লাঙ্গল এবং বিএনপি’র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় নেতাকর্মীদের তেমন উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় নি তারপরেও বিএনপিসহ অপর প্রাথীরাও নিজেদের বিজয়ের জন্য কাজ করলেও বুধবার সিলেট জেলা বিএনপির আহবায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদার সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে দলের নেতাকর্মীদের ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের এই বার্তাটি পৌঁছে দেওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত আমাদের দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
এদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ নিয়ে শংকা প্রকাশ করে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন। অপর প্রার্থীরাও একই আশংকা প্রকাশ করেছেন। তবে নির্বাচন কমিশন এ নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে। ভোট গ্রহণে যাতে কোন ধরণের অনিয়ম না হয় সে জন্য বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে দুই সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচনী তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
সিলেট-৩ আসনের এই নির্বাচনে সাধারণ ভোটাররা এই নির্বাচন নিয়ে তেমন আগ্রহী না থাকলেও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রচারণার কমতি নেই। সাধারণ ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে নিয়ে যেতে তারা সকল ধরণের কৌশল অবলম্বন করে যাচ্ছেন। অনেকে বলছেন, নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের পক্ষে নিতে অনেকে টাকার খেলায় মেতে উঠেছেন। তবে সাধারণ ভোটারদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, নৌকার প্রার্থী ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীর মধ্যে তুমুল লড়াই হবে। আর এর মধ্য থেকে শেষ পর্যন্ত শেষ হাসি হাসতে পারেন নৌকার প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব। সাধারণ ভোটারদের মতামত, জাতীয় পার্টির প্রার্থীর পক্ষে কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রচারণা না থাকায় তিনি অনেকটা আলোচনায় পিছিয়ে রয়েছেন। সরকার দলীয় কেন্দ্রীয় নেতারা সব সময় আওয়ামীলীগ প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। দলীয় কোন্দল নিরসনেও তারা প্রচেষ্ঠা চালিয়ে অনেকটা সফল হয়েছেন। দলীয় কেন্দ্রীয় অনেক নেতা জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষে জনগণের মতামত রয়েছে। আর এই আসন আওয়ামীলীগের। তাই আওয়ামীলীগের আসনে ভোটাররা উন্নয়নের স্বার্থে নৌকায় ভোট দিয়ে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করবেন।
সিলেট-৩ আসনটি ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমা নিয়ে গঠিত। এতে ৩ লাখ ৫০ হাজারের মতো ভোটার রয়েছে। এ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী ১১ মার্চ মারা যান। পরবর্তীতে জাতীয় সংসদ সচিবালয় আসনটি শূন্য ঘোষণা করলে ১৪ জুলাই ভোটের তারিখ নির্ধারণ করে ইসি। ওইদিন জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকী হওয়ায় দলটি ভোট পেছানোর দাবি করে। সেই দাবি আমলে নিয়ে পরবর্তীতে ২৮ জুলাই ভোটের পুনঃতারিখ দেয় কমিশন। কিন্তু একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত ৫ আগস্ট পর্যন্ত ভোটের ওপর স্থগিতাদেশ দেন এবং ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভোট করার নির্দেশনাও দেন। সেই নির্দেশনার আলোকে কমিশন ২৩ আগস্ট ভোটের নতুন তারিখ দেন আগামী ৪ সেপ্টেম্বর।
শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ করবে নির্বাচন কমিশন। এতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমান, জাতীয় পার্টি-জাপার মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের জুনায়েদ মোহাম্মদ মিয়া ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শফি আহমেদ চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখা জানিয়েছে, ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে একটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী প্রতিটি বাহিনী তাদের সদস্যদের মোতায়েন করবে। ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী সাধারণ ভোটকেন্দ্রে থাকবে পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশের ১৭ থেকে ১৮ জন সদস্য। আর ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে নিয়োজিত থাকবে ১৮ থেকে ১৯ জন সদস্য। এদের মধ্যে পুলিশ আর অঙ্গীভূত আনসার সদস্যের কাছে অস্ত্র থাকবে। তারা সার্বক্ষণিক ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা দেবেন।
পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সমন্বয়ে গঠিত মোবাইল ফোর্স ২১টি, স্ট্রাইকিং ফোর্স ১২টি, র্যাবের ১২টি টিম ও ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকবে আগামী ২ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। বিজিবির সঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন যেকোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা মোকাবিলায়। নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিতকরণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত রাখা হবে ২১জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। যে কোনো অপরাধের তাৎক্ষণিক বিচার কাজ সম্পন্ন করতে দায়িত্ব পালন করবেন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটরাও। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর কার্যপরিধিও নির্ধারণ করে দিয়েছেন নির্বাচন কমিশন।




