সিলেটে কিন্ডার গার্টেন স্কুল এখন ভাঙ্গারি দোকান

Published: 21 September 2021

ওসমানীনগর (সিলেট) সংবাদদাতা :


সিলেটের ওসমানীনগরে করোনার প্রভাবে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শাহপরান একাডেমি নামের কিন্ডার গার্টেন স্কুল আর্থিক ক্ষতির কারণে প্রতিষ্ঠানের পরিচালন স্কুলটি বন্ধ করেদিয়েছেন। বন্ধ হওয়া স্কুলের নাম ঠিক থাকলেও ভবনে এখন দেয়া হয়েছে ভাঙ্গারির দোকান। ৮জন শিক্ষক, একজন কর্মচারী ও ৫০জন শিক্ষার্থীর থাকা এই স্কুলটি শুধু মাত্র মহামারি করোনার কারণে আর্থিক অনটনের জন্যে বন্ধ করে দেয়া হয়। এতে করে স্কুলের ৮ শিক্ষক ১ জন কর্মচারী পরেছেন বিপাকে। বিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার কারণে অনেকেই বদলে ফেলেছেন পেশা কয়েকজন হয়ে পরেছেন বেকার। ৫০জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ঝড়ে পরেছে। কেউ কেউ ভর্তি পার্শ্ববর্তী মাদ্রাসায়। এই চিত্র শুধু বন্ধ হওয়া শাহপরান একাডেমির নয়। সিলেটের ওসমানীনগরে ৩০টি কিন্ডার গার্টেন স্কুলের মধ্যে উপজেলার উমরপুর ইউপির উমমরপুর বাজারের শাহপরান একাডেকি ও পশ্চিম পৈলনপুর ইউপির কিয়ামপুরের এসআর কিন্ডার গার্টেন নামের দুটি স্কুল বন্ধ হয়েছে গেছে। বন্ধ হওয়ার পথে দয়ামির ইউপির রহমান কিন্ডার গার্টেন স্কুল। অন্য ২৭টি কিন্ডার গার্টে স্কুল খোলা থাকলেও শিক্ষক শিক্ষার্থী সংকটে হিমসিম খাচ্ছেন তারা। মহামারি করোনার দীর্ঘ বন্ধের কারণে কিন্ডার গার্টেনের অনেক শিক্ষক পেশা বদল করেছেন অেেকেই শিক্ষকতা পেশা একেবারে ছেড়ে দিয়েছেন কিছু কিছু নারী শিক্ষক বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে চলে গেছেন শশুর বাড়িতে। কিন্ডার গার্টেন স্কুল দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকার কারণে বিদ্যালয় গুলোর অধিকাংশ শিক্ষার্থী মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে গেছে। আর্থিক ক্ষতির করাণে বিদ্যালয় ভবনের ভাড়া দিতে না পারায় অনেক স্কুলের একাধিক থাকা ভবনের মধ্যে কিছু কিছু ভবন ছেড়ে দিতে বাধ্য হন স্কুল কতৃপক্ষ। তার মাধ্যে উল্লেখ যোগ উপজেলার সব চেয়ে সুনামখ্যাত তাজপুর চাইন্ড ফেয়ার ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল। ২০ হাজার ও ১০ হাজার টাকা ভাড়া করা দুটি ভবনের মধ্যে করোনার কারণে তারা একটি ভবন ছেড়ে দিয়েছেন।
কিন্ডার গার্টেন স্কুল এসোশিয়েন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মোট ৩০টি স্কুলে ২শ’ ৭৫জন কর্মচারী এবং ৩ হাজার ৪শ’ ৭৫জন কর্মচারী রয়েছেন। এর মধ্যে করোনাকালিন দীর্ঘ বন্ধে ৩১৮জন শিক্ষক কর্মচারী মানবেতর জীবন অতিবাহিত করেছে। স্কুল বন্ধ থাকা বেতন/সম্মানী না পাওয়ার কারণে পরিবার পরিজন নিয়ে হিমসিম খেতে হয় তাদের। একাধিক বার সিলেটের জেলা প্রশাসক, স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও, শিক্ষা অফিসারের নিকট স্মারক লিপি, লিখিত আবেদন করেও ঝুটেনি কোনো সরকরি প্রনোদনা।
বন্ধ হওয়া শাহপরান একাডেমির পরিচালক শিতন চন্দ্র ঘোষ বলেন, আমার কিন্ডার গার্টেন মোটামোটিবতন ভাল চলছিল। মহামারি করোনার কারণে স্কুলের ভবনের ভাড়া ও শিক্ষক কর্মচারীর তেবতন নাদিতে পারায় স্কুলটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছি।
কিন্ডার গার্টেন স্কুল এসোশিয়েন ওসমানীনগর উপজেলার সভাপতি ও চাইল্ড ফেয়ার ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের পরিচালক বদরুল আলম চৌধুরী বলেন, আমাদের উপজেলার ৩০টি কিন্ডা গার্টেন স্কুলের ৩১৮জন শিক্ষক কর্মচারী করোনার কারণে মানবেতর জীবন অতিবাহিত করেছেন। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার লিখিত আবেদন করেও আমরা কোনো সরকারি প্রনোদনা পাইনি। প্রধানমন্ত্রী নিকট আমাদের আবেদন ও দাবি আমাদের শিক্ষক কর্মৃচারীদের যেনো প্রনোদনার আওতায় নেয়া হয়।