স্বর্ণের দূর্গা মুর্তি ও কলসি পাওয়াকে ঘিরে

স্বর্ণের দূর্গা মুর্তি ও কলসি পাওয়াকে ঘিরে
সকলের নজর এখন চারখাইয়ের নইরচক গ্রাম

Published: 22 September 2021

এম. হাসানুল হক উজ্জ্বল :

সিলেটের বিয়ানীবাজারে একটি দূর্গা মুর্তিকে ঘিরে নানা রহস্যের জন্ম দিয়েছে। গুপ্তধন হিসেবে চিহ্নিত করে এই স্বর্ণের মুর্তি ও কলসিকে আঁকড়ে রেখেছেন গৃহকর্তা। আর এই স্বর্ণের মুর্তি ও কলসি পাওয়ার সংবাদ এলাকায় চাউর হলে মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে কৌতুহল। বিষয়টি পুলিশের নজরে এলে তারা তা গুরুত্বের সাথে দেখছেন। যদিও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন এই স্বর্ণের মুর্তি ও কলসি দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে চারখাই ইউনিয়নের নইরচক গ্রামে ভীড় করছেন।


জানাগেছে, ১০/১২ দিন পূর্বে চারখাই ইউনিয়নের নইরচক এলাকার অরুণ দাসের বাড়ির পুকুর থেকে তার পুত্র অনিক দাস দূর্গার স্বর্ণমুর্তি ও একটি কলসি পেয়েছে বলে লোক মুখে প্রচার পায়। খবরটি প্রচারের পর পর প্রতিদিন সনাতন ধর্মের লোকজন তা একনজর দেখতে নইরচক গ্রামে ভীড় করছেন।

গৃহকর্তা জানান, তার পুত্র বেশ কয়েকদিন থেকে গুপ্ত ধন পাওয়ার বিষয়টি আচ করতে পারে। আর এই গুপ্তধন স্বর্ণের কলসি এবং দূর্গার মুর্তি বলেও সে দেখতে পায়। অপ্রকৃতিগ্রস্থ অনিক দাস সম্প্রতি পুকুরের পানি থেকে একটি কলসি ও স্বর্ণের দূর্গা মুর্তি তুলে নিয়ে আসে।

স্থানীয়রা জানান, লোকমুখে শুনেছেন পুকুর থেকে অরুণ দাসের পুত্র অনিক দাস দূর্গার স্বর্ণ মুর্তি ও একটি স্বর্ণের কলসি পেয়েছেন। এ ঘটনা জানাজনি হওয়ার পর সনাতন ধর্মে বিশ্বাসিরা এক নজর দেখতে ও পূজা দিতে অরুণ দাসের বাড়িতে ভীড় করছেন। সেখানে একটি মন্ডপও তৈরী করা হয়েছে।
জানা যায়, অনিক দাস দীর্ঘদিন থেকে কারো সাথে কোন কথা বলতেন না। তার চলাফেরাও অন্য সবার চেয়ে ছিল আলাদা। দূর্গার স্বর্ণমুর্তি পাওয়ার পর থেকে তিনি আরো বেশি নিরব হয়ে গেছেন। তবে মানুষের ভীড়, কলসি ও দূর্গার মুর্তিকে নিরাপদে রাখতে এবং যাতে কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে বিষয়টি মাথায় রেখে অরুণ দাসের বাড়ীতে ইতোমধ্যে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।

সকালে চারখাই ইউনিয়নের নইরচক গ্রামে গেলে কথা হয় সনাতন ধর্মাবলম্বি অনেকের সাথে। তারা কেউ কেউ স্বর্ণের কলসি এবং দূর্গা মুর্তি দেখেছেন বলে জানান। তারা জানান, এই মুর্তি দেখেছি, ভক্তিও করেছি। এ প্রতিবেদকসহ কয়েকজনকে একটি ঘরের ভেতরে রাখা মুর্তি ও কলসি দেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, লোকমুখে নইরচক গ্রামে মুর্তি ও কলসি পাওয়ার বিষয়টি শুনেছি। বিষয়টি গোয়েন্দা নজরদারীতে রয়েছে বলে তিনি জানান।