মৌলভীবাজারে ডাকঘর আছে, ব্যস্ততা নেই ডাকপিয়নদের
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :

একসময় ডাকবিভাগ ছিলো যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। বর্তমান প্রযুক্তি নির্ভরতায় চিঠি লেখা ও চিঠি পাওয়ার আকুলতা, পড়ার আনন্দ হারিয়ে গেছে। ফুরিয়ে যাচ্ছে ডাকঘরে পাঠানো চিঠির প্রয়োজনীয়তা। হারিয়ে গেছে কাগজে লেখার সেই আবেগ। শহর থেকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছেছে প্রযুক্তির সেবা। যখন ইচ্ছে প্রিয়জনের সঙ্গে বার্তা প্রদানে চিঠির বদলে ভরসা এখন নিত্যনতুন প্রযুক্তি।
এখন আর নেই ডাকপিয়নের পানে পথ চেয়ে থাকা প্রিয়জনদের উদ্বিগ্নতা। নেই ব্যস্ততা ডাকবিভাগে। কেউ আসেনা চিঠির খোঁজ নিতে। নেই চিঠির প্রচলন। চিঠি শূন্য এখন ডাকঘর। ডাকপিয়নেরও চিঠি পৌঁছে দেয়ার নেই কোনো তাগিদ। অলস সময় কাটে তাদের। নেই ডাকপিয়নের সেই হাক-‘চিঠি এসেছে চিঠি’।
মৌলভীবাজার জেলা সদরের আফরুজগঞ্জ বাজার সাব-পোস্ট অফিসে গিয়ে দেখা যায়, যান্ত্রিক জীবনে অলস দুপুরে আজও অপেক্ষায় থাকেন সেলিম মিয়া কখন আসবে চিঠি, পৌঁছে দিতে হবে প্রাপকের ঠিকানায়।
পোস্টম্যান সেলিম মিয়া বলেন চাকুরি জীবন ২০ বছর পেরিয়েছে। এখন অফিসে এসে কাজের কোনো চাপ না থাকায়, অলস সময় কাটাতে কখনো কখনো বিরক্তি লাগে বলে তিনি জানান।তিনি বলেন, ‘এখন ব্যক্তিগত চিঠি আসেনা, তবে মাঝেমধ্যে সরকারি ডকুমেন্ট আসে। এখন আর চিঠির থলে নিয়ে প্রাপকদের বাড়ি বাড়ি যেতে হয়না।’
আফরুজগঞ্জ বাজারের বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, ‘ভাই-ভাইপোসহ পরিবারের অনেকেই বিদেশ থাকে। ১২-১৫ বৎসর পূর্বেও তাদের চিঠির খোঁজে, মানিঅর্ডার নিতে ডাকঘরে আসতাম। এখন মোবাইলেই সব হয়।’
এলাকার কলেজ পড়ুয়া এহিয়া আহমদ জানান, বাবা চাচাদের কাছে শুনেছি আগে ডাকপিয়নেরা আত্মীয়-স্বজনের চিঠি বাড়িতে পৌঁছে দিতেন। এখন ইমেইল আর মোবাইল ব্যাংকিং এর যুগে হারিয়ে যাচ্ছেন তারা।
আফরুজগঞ্জ পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার মুহিবুর রহমান জানান, পরিবর্তিত সময়ে এখন ডাকঘরের কদর কমে গেছে। যার ফলে আমাদের ব্যস্ততা অনেক কম।
মৌলভীবাজার প্রধান ডাকঘরের সহকারী পোস্টমাস্টার তন্ময় দে চৌধুরী জানান, জেলায় মোট ১৩৩টি ডাকঘর রয়েছে। আগের মতো দেশের বাইরে থেকে চিঠিপত্র না আসলেও দেশের ভেতর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টস আসে এবং এই ডকুমেন্টসের ক্ষেত্রে ডাকঘরের বিকল্প নেই।




