বড়লেখার দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউপি
বড়লেখার দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউপি
দুই পারিবারের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় নৌকার প্রার্থী হলেন সুলতানা কোহিনূর
আব্দুর রব, বড়লেখা (মৌলভীবাজার) :

মৌলভীবাজার জেলায় ‘নৌকা’ প্রতীকের একমাত্র মহিলা চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতানা কোহিনূর সারোয়ারী। তিনি বড়লেখার দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউপি আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী। তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে জেলার কুলাউড়া ও বড়লেখার ২৩ ইউনিয়নের মধ্যে তিনিই একমাত্র মহিলা চেয়ারম্যান প্রার্থী। এজন্য তাকে নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরে সৃষ্টি হয়েছে বাড়তি কৌতহল। জয়ের মালা পরতে ভোরবেলা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চালাচ্ছেন নির্ঘুম প্রচারণা। প্রার্থী হওয়ার পেছনের কারণ জানতে চাইলে বলেন, আওয়ামী লীগ রাজনীতির আবহে তার বেড়ে উঠা। বাবার বাড়ি ও শ্বশুর বাড়ির বর্ণাঢ্য রাজনীতির ধারাবাহিকতা রক্ষার সাথে মানুষের সেবা করতেই তিনি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন।
আলাপ চারিতায় বলেন, তিনি বিয়ানীবাজারের কসবা গ্রামের মেয়ে। বাবা আব্দুল মান্নান ‘৭১ এর মহান মুক্তিযোদ্ধের বর্তমান সিলেট বিভাগের প্রথম শহীদ। চাচা মরহুম আব্দুল আজিজ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ট বন্ধু। আমৃত্যু বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। শিশু বয়সে বাবার বাড়িতে দেখেছেন বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযোদ্ধের সর্বাধিনায়ক মো. আতউল গণি ওসমানীসহ অনেকের আগমন। জন্মের আগে থেকেই যেন আওয়ামী লীগের সাথে তার পরিচয় ঘটে।
বিয়ের পর বড়লেখায় স্বামীর বাড়িতেও দেখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের যাতায়াত। ভাসুর মরহুম ইমান উদ্দিন মুক্তিযোদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ইউপি চেয়ারম্যান থেকে নৌকা নিয়ে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি। তাকে প্রধানমন্ত্রী চাচা বলে সম্বোধন করতেন। স্বামী মরহুম গিয়াস উদ্দিন আহমেদ আমৃত্যু ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ২ বারের ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন। স্বামী ও ভাসুর জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষকে খুব ভালবাসতেন। বাবা-চাচা ও ভাসুর-স্বামীর মৃত্যুর পর দেখা দিয়েছে রাজনৈতিক শূন্যতা। দুই পরিবারের আওয়ামী রাজনীতির শূন্যতা গোচাতে ও ধারাবাহিকতা রক্ষায় তিনি ‘নৌকা’র প্রার্থী হয়েছেন। সর্বস্তরের নেতাকর্মী তাকে বিজয়ী করতে প্রচারণা চালাচ্ছেন। পাচ্ছেন ব্যাপক সাড়াও। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অবহেলিত, সুবিধা বঞ্চিত হতদরিদ্র নারী-পুরুষকে বয়স্কভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতাসহ বিভিন্ন সরকারি সুযোগ সুবিধার অর্ন্তভুক্ত করবেন। নারী অধিকার নিশ্চিত করতেও কাজ করবেন। পরিবেশমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন এমপির সহযোগিতায় পিছিয়ে থাকা এলাকার উন্নয়নে নিজেকে উৎস্বর্গ করবেন। বাবা-চাচা, ভাসুর ও স্বামীর মতো জনগণের সেবা করাই মুল উদ্দেশ্য। ইউনিয়নবাসীকে একটি দুর্নীতিমুক্ত ইউনিয়ন উপহার দিতে তিনি বদ্ধ পরিকর।
গাইবান্ধায় জামায়াত নেতাসহ ৮ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড
পোস্ট ডেস্ক :
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় কৃষক হাসান হত্যা মামলায় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদকসহ আটজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া ৮ আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক এ রায় দেন। এ সময় আদালতে ১৬ আসামির মধ্যে ১৩ জন উপস্থিত ছিলেন।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন— সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু, আবদুর রউফ, জালাল উদ্দিন, গোলাম মোস্তফা, শাহলম, ফারুক মিয়া, মিজানুর রহমান ও আবু তালেব ওরফে গাওরা। তাদের বাড়ি পলাশবাড়ী উপজেলায়।
রাষ্ট্রপক্ষের সাবেক আইনজীবী শফিকুল ইসলাম শফিক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালের আগস্টে পলাশবাড়ী উপজেলার আমবাড়ি গ্রামের একটি কলেজের কমিটি কেন্দ্র করে অধ্যাপক মো. আব্দুলের সঙ্গে উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম লেবুর বিরোধ দেখা দেয়।
পরে এ ঘটনা কেন্দ্র করে নজরুলের লোকজন আব্দুলের ওপর হামলা চালায়।
এ সময় পাশের সুইগ্রামের কৃষক হাসান আলী আব্দুলকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তিনিও আহত হন। তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন পর দিন তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় হাসানের বড় ভাই আবুল কাশেম ১০ জনের নামে ও অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ এ রায় ঘোষণা করলেন আদালত।




