শাবিতে ১ শিক্ষার্থী আটক

Published: 8 February 2022

সিলেট অফিস :


গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির মাধ্যমে প্রক্সি দিয়ে ২০২০-২০২১ সেশনে প্রথম বর্ষে ভর্তি হতে আসা এক শিক্ষার্থীকে আটক করেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) ভর্তি কমিটি। আটক শিক্ষার্থীর নাম ইকবাল হোসেন সাঈদ। তাকে প্রক্টর অফিসে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

জানা যায়, ২ লাখ ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে রাশেদ নামে একজন সাঈদের হয়ে প্রক্সি দিয়ে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরবর্তীতে প্রক্সি পরীক্ষার ফলাফলে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়ে যান ইকবাল হোসেন সাঈদ এবং ভর্তির মেধা তালিকায় ৭৫৮তম হয় সে। মঙ্গলবার বি ইউনিটের ভর্তির স্বাক্ষাৎকার দিতে আসলে সন্দেহ থেকে সাঈদকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কমিটি। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে পুলিশে সোপার্দ করা হয়। আটককৃত এ শিক্ষার্থী কক্সবাজার চকোরিয়ার সবুজবাগ গ্রামের প্রবাসী রফিকুল ইসলামের ছেলে।

ভর্তি কমিটি থেকে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর ১টায় বি ইউনিটের সাক্ষাৎকার দিতে আসে ইকবাল হোসেন সাঈদ। ভর্তি প্রক্রিয়ার এক পর্যায়ে ইকবাল হোসেন সাঈদের স্বাক্ষরের সঙ্গে উত্তরপত্রের স্বাক্ষরের কোনো মিল না পাওয়ায় তাকে প্রথমে সন্দেহ করা হয়।

এরপর তার হাতের লেখার সঙ্গে উত্তরপত্রের লেখারও কোনো মিল পায়নি ভর্তি কমিটি। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড অ্যানিমেল সায়েন্স ইউনিভার্সিটির ইউসুফ চৌধুরী ভবনের ২য় তলার ১ নম্বর রুমে তার আসন পড়লেও তা বলতে পারেনি ইকবাল। পরে উত্তরপত্রে দাগানো নির্দিষ্ট বিষয়গুলোতে প্রাপ্ত নম্বরও বলতে পারেনি সে।

এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আবু হেনা পহিল বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জালিয়াতি চক্রের একটি সূত্রের ব্যাপারে জানিয়েছে আটক হওয়া ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ইকবাল হোসেন সাঈদ। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায় তার নিজের রোল নম্বর ব্যবহার করে রাশেদ নামের অপর একজন তার পরীক্ষাটি দিয়ে দেয়। তবে প্রক্সি দেয়া সেই রাশেদকে চিনে না সে। আতিকুর রহমান নামে তার এক বন্ধু জালিয়াতি চক্রের বিষয়ে সন্ধান দেয়। আতিকুর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগে প্রথম বর্ষে ভর্তির জন্য সাক্ষাৎকার দিয়ে এসেছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ৪র্থ বর্ষে অধ্যয়নরত আতিকুরের বড় ভাই শহিদুল ইসলাম এই চক্রের সঙ্গে জড়িত। আতিকুর রহমান তাকে জানায়, জালিয়াতি চক্রের সাথে শহিদুলের যোগাযোগ রয়েছে এবং টাকার বিনিময়ে ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি দেয়াতে পারবে। পরবর্তীতে চকোরিয়া ব্রাঞ্চে আতিকুর রহমানের ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক একাউন্টে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা হস্তান্তর করে ইকবাল।

এদিকে দেড় ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর জালিয়াতির কথা স্বীকার করলে তাকে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে রেজিস্ট্রার বাদি হয়ে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন সহকারী প্রক্টর আবু হেনা পহিল।