বড়লেখায় প্রাণিসম্পদ প্রদর্শণীতে সেরা পুরস্কার জিতলো সাহাব উদ্দিনের ষাঁড় ‘সোনার বাংলা’

Published: 16 February 2022

আব্দুর রব, বড়লেখা :

বড়লেখা উপজেলা প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাণিসম্পদ প্রদর্শণীর ৩৯টি স্টলকে পেছনে ফেলে প্রথম পুরস্কার জিতে নিল ডেইরি খামারি সাহাব উদ্দিনের ১৮ মন ওজনের ষাঁড় ‘সোনার বাংলা’। প্রায় এক বছর আগে তিনি যখন সোনার বাংলাকে দেড় লাখ টাকায় কিনেন তখন তার ওজন ছিল মাত্র ৫ মন। সেরা খামারির পুরস্কার পেয়ে আবেগাপ্লুত সাহাব উদ্দিন জানান, তার প্রিয় সোনার বাংলার ওজন ২৫ মনে নিয়ে ৬ লাখ টাকায় বিক্রি করতে চান।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এলডিডিপি প্রকল্পের সার্বিক সহযোগিতায় বুধবার দিনব্যাপি প্রাণিসম্পদ প্রদর্শণী বড়লেখা রেলওয়ে যুবসংঘ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত প্রদর্শণীতে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের ডেইরি খামারিরা গবাদি পশুর ৪০টি স্টল খুলেন। একটি স্টলে সোনার বাংলাকে (ষাঁড়) প্রদর্শণ করেন খামারি সাহাব উদ্দিন। ব্রাহামা ক্রস জাতের কালো রঙের নাদুস-নুদুস ষাঁড় ‘সোনার বাংলা’র স্টলে আয়োজক, অতিথিবৃন্দসহ উৎসুক জনতা ভিড় জমান। পুরো প্রাণিসম্পদ প্রদর্শণীই যেন তাকে জুড়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে, এমন পরিস্থিতি বিরাজ করে প্রদর্শণীর মাঠে।

‘সোনার বাংলা’র মালিক ডেইরি খামারি সাহাব উদ্দিন জানান, উন্নত জাতের ষাঁড় ও গাভি পালন তার দীর্ঘদিনের শখ। প্রায় এক বছর আগে উপজেলার চান্দগ্রাম বাজার থেকে ব্রাহামা ক্রস জাতের কালো রঙের এ বাছুরটি দেড় লাখ টাকায় ক্রয় করেন। তখন তার ওজন ছিল ৫ মন। বাড়িতে নিয়ে নাম রাখেন ‘সোনার বাংলা’। প্রথম মাসেই অসুস্থ হয়ে পড়লে উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম ও সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডা. রেদুয়ানুল হকের চিকিৎসা ও পরামর্শে সুস্থ্য করেন। প্রথম অবস্থায় প্রতিদিন ৪ কেজি, পরে ৬ কেজি এরপর ৮ কেজি পর্যন্ত দানাদার খাবার খাওয়াতেন। বর্তমানে তার ষাঁড়ের ওজন ১৮ মন বা ৭২০ কেজি। বর্তমানে সোনার বাংলাকে প্রতিদিন ১২ কেজি দানাদার খাবার খাওয়াচ্ছেন। এতে দিনে খরচ হচ্ছে ৪০০ টাকা। বর্তমানে অনেকেই আড়াই লাখ টাকায় কিনতে চাচ্ছেন। তার ইচ্ছা সোনার বাংলার ওজন ২৫ মনে নিয়ে ৬ লাখ টাকায় বিক্রি করা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আমিনুল ইসলাম জানান, ডেইরি খামারি সাহাব উদ্দিন সোনার বাংলা নামক ষাঁড়টির কারণেই তিনি প্রাণিসম্পদ প্রদর্শণীতে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন।