ইউক্রেনে হোটেলবন্দি পর্তুগিজ কোচের আর্তনাদ
পোস্ট ডেস্ক :

আক্রমণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী পৌঁছে গেছে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে। ভারী গোলাবর্ষণের সঙ্গে শহরের উপকণ্ঠে চলছে খ-যুদ্ধ। কেউ প্রাণ নিয়ে পাশের দেশে পালাচ্ছেন, কেউ আছেন এখনো নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। ট্যাংক নিয়ে অগ্রসর হওয়া রুশ বাহিনীকে ঠেকানোর মরিয়া চেষ্টায় শুক্রবার সাধারণ নাগরিকদের হাতে হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে ইউক্রেন সরকার। পালিয়ে না গিয়ে দেশ রক্ষায় রুখে দাঁড়াবার আহ্বান জানানো হয়েছে পুরুষদের। রাজধানী কিয়েভে হোটেলবন্দি অবস্থায় ভয় আর প্রার্থনায় দিনাতিপাত করছেন ইউক্রেনের ক্লাব শাখতার দানেস্কের সাবেক পর্তুগিজ কোচ পাওলো ফনসেকা।
ফনসেকার স্ত্রী ইউক্রেনিয়ান। স্ত্রী এবং একমাত্র সন্তানকে নিয়ে রাজধানী কিয়েভেই আটকা পড়েছেন ৪৮ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ। রুশ সৈন্যরা কিয়েভের বিমানবন্দর অচল করে দেয়ায় শহর ছেড়ে যেতে পারেননি তিনি।
পর্তুগিজ পত্রিকা জোর্নাল দে নোতিসিয়াসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে চলমান বিভীষিকাময় মুহূর্তের বর্ণনা দিয়েছেন ফনসেকা। তিনি বলেন, ‘আজকের জন্য ফ্লাইট বুক করা ছিল আমার। কিন্তু এখান থেকে বের হওয়া সম্ভব নয়। বিমানবন্দরগুলো অচল করে দিয়েছে। আকাশপথ বন্ধ।’
ফনসেকা বলেন, ‘এই মুহূর্তে কিয়েভ ছাড়তে হলে সেটি শুধু সড়কপথেই সম্ভব। সবাই সেই চেষ্টাই করছে। পোল্যান্ডের সীমান্তের কাছের শহর লাভিভে যাওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু (সবাই সড়কপথ ব্যবহার করায়) রাস্তা পুরোপুরি অচল হয়ে গেছে। কারণ একসঙ্গে এত গাড়ি তো রাস্তায় কুলানো সম্ভব নয়। রাস্তায় আটকে থাকা গাড়ির সারি অনেক লম্বা হয়ে গেছে। তাছাড়া গ্যাসের সংকটও দেখা দিয়েছে।’
অসহায় ফনসেকার কণ্ঠে আর্তনাদ, ‘আমরা এখন শুধু যা করতে পারি তা হলো প্রার্থনা করা, যেনো আমাদের ওপর বোমা না পড়ে। সত্যি বলছি, আমি জানি না, এখান থেকে কীভাবে বের হতে পারব। আমাদের এখন অপেক্ষা করা ছাড়া কোনো পথ নেই। শুধু আশাই করতে পারি, যাতে আমরা ভাগ্যবান হতে পারি।’
২০১৫-১৬ মৌসুমে ব্রাগার দায়িত্ব নিয়েই তাদের পর্তুগিজ কাপ জেতান ফনসেকা। এরপর তার ওপর নজর পড়ে শাখতার দানেস্কের। ফনসেকার দায়িত্বের তিন মৌসুম টানা লীগ শিরোপা জেতে ইউক্রেনের সেরা ক্লাবটি। ২০১৭-১৮ চ্যাম্পিয়নস লীগে শেষ ষোলোতে যায় শাখতার। সেবার গ্রুপ পর্বে ম্যানচেস্টার সিটিকে ২-১ গোলে হারিয়ে দেয় ফনসেকার শাখতার। এরপর দুই মৌসুম রোমার ডাগআউটের দায়িত্বে ছিলেন ফনসেকা।




