মাধবপুরে বেড়েছে চায়ের উৎপাদন, বাগান মালিকরা হতাশ!
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি :

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ৪টি চা বাগানে ২০২১সালে চায়ের উৎপাদন বেড়েছে। কিন্তু আশংকাজনক ভাবে নিলামে চায়ের বিক্রয় মূল্য কমতে থাকায় বাগান মালিকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। গত বছরের প্রথম দিকে নিলামে চায়ের প্রতি কেজি গড়ে ২শ টাকা হলেও শেষ দিকে নিলামে দাম উঠেছে ১শ৪০টাকা। ১কেজি চা উৎপাদন খরচ পড়ে প্রায় ২শ টাকা। একারনে মাধবপুর উপজেলার ৪টি চা বাগানে লোকসানের মধ্যে পড়তে যাচ্ছে বাগান গুলো। করোনা মহামারীর মধ্যে চায়ের অভ্যন্তরীন চাহিদা কমে যাওয়া, বিদেশে চায়ের রপ্তানী কমে যাওয়া ও চায়ের নতুন বাজার সৃষ্টি না হওয়ায় চায়ের দর কমেছে বলে বাগান সংশ্লিষ্টরা জানান। ২০২১সালে নোয়াপাড়া চা বাগানে চা উৎপাদন হয়েছে ৬লাখ ১২হাজার কেজি। ২০২০সালে চা উৎপাদন হয়েছিল ৫লাখ ৮০হাজার কেজি। ২০২১সালে বেশি চা উৎপাদন হলেও নিলাম বাজারে চায়ের ভাল দর না পাওয়ায় এ চা বাগানে লোকসান দিতে হচ্ছে। নোয়াপাড়া চাবাগানের ডেপুটি ম্যানাজার সোহাগ মাহমুদ বলেন, ব্যাংক থেকে ঋন নিয়ে চা বাগানে নিয়মিত শ্রমিকদের রেশন, তলব সহ যাবতীয় খরচ মেটানো হয়। নিলাম বাজারে বাগান উৎপাদিত চা বিক্রি করে ব্যাংক ঋন পরিশোধ সহ অন্যান্য খরচ করা হয়। কিন্তু চায়ের দর কমে যাওয়ায় ব্যাংকের ঋন সহ অন্যান্য খরচ বহন করা বাগানের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। সুরমা চা বাগানে ২০২১সালে ১৪লাখ ৮ হাজার কেজি চা উৎপাদন করা হয়েছে। ২০২০সালে উৎপাদন করা হয়েছিল ১৩লাখ ৪৫হাজার কেজি। ২০২১সালে ৬৩হাজার কেজি চা বেশি উৎপাদিত হয়েছিল। উৎপাদন বেশি হলেও নিলামে বাজার দর এমন ভাল পাওয়া যায়নি। সুরমা চা বাগান ব্যবস্থাপক আবুল কাসেম জানান, গত ৪/৫বছর ধরে চায়ের ভাল দর পাওয়া যাচ্ছেনা। মহামারী করোনার মধ্যে চায়ের দর আরো কমেছে। বাজারে প্যাকেট জাত চা ৩শ থেকে ৫শ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। অথচ নিলামে প্রতি কেজি চায়ের দর দেড়শ থেকে ২শ মধ্যে। বাগানে শ্রমিকের মজুরি, রেশন ও বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বেড়েছে। কিন্তু সে অনুপাতে চায়ের বাজার দর বাড়ছেনা। একই অবস্থা জগদীশপুর চা বাগান ও তেলিয়াপাড়া চা বাগানে। তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, ২০২১সালে এপ্রিল মে মাসে চা বাগানগুলো প্রচন্ড খরার মধ্যে পড়ে। এর পরও প্রতিকুল অবস্থা মোকাবেলা করে ডিসেম্বর পর্যন্ত উৎপাদন বেড়েছে অনেক গুন। কিন্তু নিলাম বাজারে বড় সিন্ডিকেটের কারনে চায়ের ভাল দর পাওয়া যাচ্ছেনা। সরকার যদি প্রতি কেজি চা কমপক্ষে আড়াইশ টাকা নির্ধারন করে দিলে চা শিল্প টিকিয়ে রাখা সম্ভব। অন্যথায় প্রতি বছর লোকসানের মধ্যে পড়ে বাগান গুলো টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। এছাড়া করোনা মহামারীর মধ্যে সরকার সহজ শর্তে স্বপ্ল সুদে ঋন দিলে বাগান গুলো চলতে পারবে।




