এবার ইউরোপা লীগ থেকে বিদায় বার্সেলোনার

Published: 15 April 2022

পোস্ট ডেস্ক :


রোনাল্ড কোম্যানের অধীনে লা লিগার পয়েন্ট টেবিলের ৯ম স্থানে ছিল বার্সেলোনা। জাভি হার্নান্দেজ ধুঁকতে থাকা ব্লাউগ্রানাদের আমূল পরিবর্তন করেছেন। তবে লা লিগা টেবিলের দুইয়ে থাকলেও বড় ব্যবধানে এগিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ। যেকারণে কাতালানদের লীগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন শুধু সম্ভাবনার হিসেবেই টিকে আছে। চ্যাম্পিয়নস লীগের গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়া বার্সেলোনার শেষ আশা ছিল ইউরোপা লীগ শিরোপা। সেখানেও সঙ্গী হলো ব্যর্থতা। কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগের শেষ মুহূর্তে সেমিফাইনালের সম্ভাবনা জাগিয়েও বাদ পড়েছে জাভির দল। বৃহস্পতিবার রাতে ন্যু-ক্যাম্পে ২-৩ গোলের জয়ে শেষ চারে পৌঁছে যায় আইনট্রাখট ফ্র্যাঙ্কফুর্ট।
দুই লেগ মিলিয়ে ৩-৪ গোলে এগিয়ে দলটি।

গত ৮ই এপ্রিল ফ্র্যাঙ্কফুর্টের মাঠে ইউরোপা লীগের কোয়ার্টারে প্রথম দেখায় ১-১ গোলে ড্র করে বার্সেলোনা। ঘরের মাঠে দ্বিতীয় লেগে ১-০ গোলের জয়ই ব্লাউগ্রানাদের পৌঁছাতে পারতো সেমিফাইনালে। ম্যাচ হারলেও শেষ মুহূর্তে রোমাঞ্চ ছড়িয়েছে বার্সেলোনা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ৩ গোলে এগিয়ে যায় ফ্র্যাঙ্কফুর্ট। ইনজুরি টাইমে ২ গোল শোধ করলেও হার এড়াতে পারেনি বার্সেলোনা। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১৫ ম্যাচ পর হারের স্বাদ পেলো জাভির দল।

গোটা ম্যাচে বল দখলে এগিয়ে থাকলেও আক্রমণে আধিপত্য দেখাতে পারেনি বার্সেলোনা। ৭৫ শতাংশ বল পজেশনে রেখে ১০টি শটের ৪টি লক্ষ্যে রাখে স্বাগতিকরা। অপরদিকে মাত্র ২৫ শতাংশ বল দখলে রেখে ১৫টি শটের ৭টি লক্ষ্যে রাখে ফ্র্যাঙ্কফুর্ট।
ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই এগিয়ে যায় ফ্র্যাঙ্কফুর্ট। ডি-বক্সে সফরকারী দলের ইয়াসপের লিন্ডস্ট্রোমকে পেছন থেকে টেনে ধরে ফেলে দেন এরিক গার্সিয়া। সফল স্পটকিক থেকে ফ্র্যাঙ্কফুর্টকে এগিয়ে নেন সার্বিয়ান মিডফিল্ডার ফিলিপ কোস্তিচ।

নবম মিনিটে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পায় বার্সেলোনা। ডান দিক থেকে উসমান দেম্বেলের ক্রস দূরের পোষ্টে পেয়ে পিয়েরে-এমেরিং অবামেয়াংয়ের হেড ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়।
৩৪তম মিনিটে বার্সেলোনার তিন খেলোয়াড়ের বাধা এড়িয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে জার্মান উইঙ্গার আন্সগারের নেয়া জোরালো শট প্রতিহত করেন মার্ক-আন্দ্রে টের স্টেগেন।
২ মিনিটের ব্যবধানে স্কোরলাইন ২-০ করে ফ্র্যাঙ্কফুর্ট। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে জোরালো শটে ঠিকানা খুঁজে নেন কলম্বিয়ান ফরোয়ার্ড রাফায়েল বোর।

দ্বিতীয়ার্ধের দ্বিতীয় মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন অবামেয়াং। ডান দিক থেকে দেম্বেলের পাসে দূরের পোস্টে স্রেফ একটি টোকার দরকার ছিল, কিন্তু বলে পা ছোঁয়াতেই পারেননি সাবেক আর্সেনাল ফরোয়ার্ড।
৬৭তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলে স্কোরলাইন ৩-০ করে বার্সেলোনার ঘুরে দাঁড়ানোর আশা অনেকটাই শেষ করে দেন কোস্তিচ। সতীর্থের পাস ডি-বক্সে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দূরের পোস্ট দিয়ে জালে পাঠান তিনি।
৮৪তম মিনিটে ডি-বক্সে ফ্রেংকি ডি ইয়ংয়ের পাসে সার্জিও বুসকেটস জালে বল পাঠালেও ভিএআরের সাহায্যে অফসাইডের বাঁশি বাজান রেফারি।

৯ মিনিট যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে জোরাল ভলিতে ব্যবধান কমান বুসকেটস।
একেবারে শেষ মুহূর্তে লুক ডি ইয়ং ডি-বক্সে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় বার্সেলোনা। ফ্র্যাঙ্কফুর্টের ফরাসি ডিফেন্ডার এভান দেখেন লাল কার্ড।
স্পট কিকে মেম্ফিস ডিপাইয়ের গোলে পরাজয়ের ব্যবধানই কমে শুধু। জয়ের উল্লাসে ফেটে পড়ে সফরকারীরা।