যে আইনে বেনজেমার গোল অফসাইডে বাতিল হলো

Published: 29 May 2022, 9:53 AM

পোস্ট ডেস্ক :


উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল শুরুর আগেই বাঁধে গোলমেলে ঘটনা। স্তাদ দে ফ্রান্সে ঢোকার অপেক্ষায় প্রায় ৬০ হাজারের মতো দর্শক আসেন খেলা দেখতে। অনেকেই টিকিট পাননি। এ নিয়ে স্টেডিয়ামের বাইরে লেগে যায় হাঙ্গামা। যে কারণে ৩৬ মিনিট পর শুরু হয় ম্যাচটি।

তবে সেই ঘটনাকে ছাপিয়ে এখন আলোচনায় মাঠের গোলমেলে এক ঘটনা। অফসাইডে বাতিল হয়ে যাওয়া করিম বেনজেমার গোলটি।

প্রথমার্ধে পুরোটাই যখন লিভারপুলের আক্রমণ প্রতিহত করতে ব্যস্ত রিয়াল, এর মাঝেই ৪৩ মিনিটে একটা গোল করে বসেন করিম বেনজেমা। কিন্তু সে গোল অফসাইডে বাতিল করা হয়।

অনেকটা সময় ভিএআরে বিশ্লেষণ করে অফসাইডের সিদ্ধান্তই রাখা হয়। কিন্তু কেন সে গোল অফসাইডে বাতিল হয়েছে — তা দর্শক থেকে বিশ্লেষকদের অনেকে এখনো বুঝতে পারছেন না।

মাঝমাঠ থেকে ডেভিড আলাবার থ্রু বল লিভারপুলের ডি-বক্সে পান করিম বেনজেমা। বলকে চমৎকারভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে লিভারপুল গোলরক্ষক আলিসন বেকারকে একা পেয়ে পাস দেন বেনজেমা। কিন্তু সে বল বুঝে নেওয়ার মতো কেউ ছিল না। আলিসন বলটা ক্লিয়ার করতে গিয়েছিলেন। আলিসন থেকে বল কেড়ে নিতে আসেন ইব্রাহিমা কোনাতে ও ফাবিনিও।

এর মধ্যেই বল ক্লিয়ার করতে ছুটে আসেন মাদ্রিদ মিডফিল্ডার ফেদে ভালভার্দে। তাদের মধ্যে বল নিয়ে জটলা তৈরি হলে ভালভার্দে ও ফাবিনিওর পর স্পর্শ করে বলটা ফের বেনজেমার কাছে চলে যায়। আর বল জালে জড়িয়ে দেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। কিন্তু লাইন্সম্যান পতাকা উঁচিয়ে জানান, বেনজেমা অফসাইড।

নিয়ম বলছে – আক্রমণে থাকা খেলোয়াড় যদি গোলকিপারের সামনে থাকা শেষ ডিফেন্ডারের চেয়ে এগিয়ে না থাকেন তবে অফসাইড হবে না। কিন্তু যদি কোনো কারণে গোলকিপার তার দলের দুজন খেলোয়াড়ের চেয়ে এগিয়ে যান, সে ক্ষেত্রে গোলকিপারের অবস্থান আর গুরুত্বপূর্ণ থাকবে না। সে ক্ষেত্রে শেষ দুই রক্ষণাত্মক খেলোয়াড়ের অবস্থানই গুরুত্বপূর্ণ। এবং সে ক্ষেত্রে দ্বিতীয় ডিফেন্ডারের চেয়ে এগিয়ে থাকলেই অফসাইড।

আর সেই নিয়মেই আটকে গেছে বেনজেমার গোল, ম্যাচ বিরতিতে এমনটাই জানিয়েছিল বিশ্লেষণে।

কারণ বলে পা ছোঁয়ার সময় লিভারপুলের অ্যান্ডি রবার্টসন ছিলেন সবচেয়ে পিছিয়ে। ওদিকে বেনজেমার সঙ্গে প্রায় একই লাইনে ছিলেন বেনজেমার আরেক সতীর্থ ভার্জিল ফন ডাইক।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছিল ফন ডাইকের চেয়েও পিছিয়ে থাকায় গোলটা অফসাইড বলে বাতিল হয়েছে।

কিন্তু ম্যাচ শেষে জানানো হলো, ভিন্ন কারণে তথা অফসাইড আইনের ১১.২ ধারায় বাতিল হয়েছে বেনজেমার সেই গোল।

ধারাটি বলছে, ‘অফসাইডে থাকা একজন খেলোয়াড় যদি প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বল পায়, যা ইচ্ছাকৃতভাবে পাঠানো হয়েছে, তাহলে আর সুবিধা গ্রহণ (অফসাইডে থাকার) করা হয়েছে বলে ধরা হবে না।’

ডি-বক্সের জটলা থেকে বল ফাবিনিওর পা হয়ে বেনজেমার কাছে এসেছিল। তাই বেনজেমার পেছনে কজন আছে, সেটা আর গণ্য হতো না।

কিন্তু ফাবিনিও বলটা নিয়ন্ত্রণে থাকা অবস্থায় পারেননি, জটলার মধ্যে ভালভার্দের পায়ের ছোঁয়া নিয়ে তা ফাবিনিও হয়ে এসেছে, অর্থাৎ অনিচ্ছাকৃত স্পর্শ ছিল সেটি। এ কারণেই এটা অফসাইড বলে ধরা হয়েছে।

অফসাইডের এই জটিল নিয়ম সাধারণ সমর্থক তো দূরের কথা সাবেক ইংলিশ ডিফেন্ডার জন টেরিও বুঝতে পারেননি। নিয়মের সমালোচনা করেছেন তিনি।

টুইটে তিনি লেখেন, ‘এটা কীভাবে গোল হলো না? এই নিয়মের কোনো মানেই হয় না। কারণ, একজন লিভারপুল খেলোয়াড় কখন নিজ ইচ্ছায় বেনজেমাকে বল দিতে যাবে? যেহেতু লিভারপুল খেলোয়াড়ের পা থেকে বল এসেছে, তার মানেই তো এটা নিশ্চিত গোল।’