দুই ম্যাচে আত্মঘাতী গোল ৪১, নিষিদ্ধ চার ক্লাব

Published: 10 June 2022, 5:16 PM

পোস্ট ডেস্ক :


দুই ম্যাচের ফল যথাক্রমে ৩৩-১ এবং ৫৯-১! ফুটবলে এমন স্কোরলাইন বাস্তবে তো দূরের কথা, ভিডিও গেইমেও সম্ভব নয়। সেই অবাস্তবকেই বাস্তবের রূপ দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার চার ক্লাব। দুই ম্যাচে ৯৪ বার লক্ষ্যভেদ করেছে ক্লাবগুলো। যার মধ্যে ৪১টিই আত্মঘাতী। বুঝতে বাকি নেই যে, দুটো ম্যাচই পাতানো। আর ফিক্সিংয়ে জড়িত সেই ক্লাব চতুষ্টয়কে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। খবর গোল ডটকমের।

দক্ষিণ আফ্রিকার চতুর্থ বিভাগের চার ফুটবল ক্লাব- মাতিয়াসি এফসি, শিভুলানি ডেঞ্জারাস টাইগার্স, কোটোকো হ্যাপি বয়েজ ও এনসামি মাইটি বার্ডস। মোপানি অঞ্চলের লীগে সপ্তাহখানেক আগে চার দল ২ ম্যাচ খেলেছে। সেই ম্যাচ দুটিই গোলবন্যায় ভাসিয়েছে ক্লাবগুলো।

মূলত চার ক্লাবের মধ্যে শিভুলানি ডেঞ্জারাস টাইগার্স ও মাতিয়াসি এফসি তৃতীয় বিভাগে উঠে আসার লড়াইয়ে জেতার জন্যই ম্যাচ ফিক্সিং করে। লীগের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে ওঠার লড়াইয়ে টাইগার্স ৩৩-১ গোলে হারায় হ্যাপি বয়েজকে।

আর মাইটি বার্ডসেক ৫৯-১ গোলে হারায় মাতিয়াসি।
মোপানি অঞ্চলের সভাপতি ভিনসেন্ট রামফাগো বলেন, ‘আমাদের তদন্তে দেখা গিয়েছে, মাতিয়াসি ও মাইটি বার্ডস মিলে শিভুলানিকে আটকানোর চেষ্টা করেছিল। শিভুলানি সে সময় ৩ পয়েন্ট ও ১৬ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে শীর্ষে ছিল। সে কারণে ওরা ম্যাচ পাতিয়েছে, যাতে শিভুলানি শীর্ষস্থান হারায়।’
মাতিয়াসির ম্যাচ পাতানোর খবর শুনে অন্য ম্যাচে শিভুলানিও শুরু করে ফিক্সিং তামাশা। রামফাগো বলেন, ‘প্রথমার্ধে মাতিয়াসি ২২-০ গোলে এগিয়ে আছে শুনে শিভুলানি ম্যাচ পাতিয়ে হ্যাপি বয়েজের খেলোয়াড়দের মাঠ থেকে বের করে দেয়। ফুটবলাররা মাঠ ছেড়ে এসে বলছিল তারা নাকি ক্লান্ত। একসময় ৭ জন নিয়ে ম্যাচ খেলেছে তারা।’

এদিকে মাতিয়াসির ম্যাচে প্রতিপক্ষের দলের সঙ্গে ফিক্সিংকাণ্ডে জড়িত ছিলেন ম্যাচ রেফারিও। লাল কার্ড দিয়ে ৭ জনের দলে নামিয়ে আনে মাইটি বার্ডসকে। রামফাগো বলেন, ‘মাতিয়াসি ম্যাচে রেফারিই খেলোয়াড়দের লাল কার্ড দিয়ে সাত জনে নামিয়ে আনে স্কোয়াড।’ ৭ জনের কম হলে ম্যাচই বাতিল হয়ে যায়। সেকারণে দুদলই সাতজন নিয়ে খেলার নাটক করেছে।

ক্লাবকে আজীবন নিষিদ্ধ করার সঙ্গে সঙ্গে ৪ দলের হর্তা-কর্তাদের বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেয়া হয়েছে। রামফাগো বলেন, ‘এই মানুষগুলোর ফুটবলের প্রতি কোনো সম্মান নেই। এটা আবারো হতে দিতে পারি না আমরা। আরো দুঃখজনক হচ্ছে এখানে তরুণ খেলোয়াড়েরাও জড়িয়ে গেছে। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি দলে অন্তত ৫ জন অনূর্ধ্ব-২১ খেলোয়াড় থাকতে হবে।’