নারায়ণগঞ্জের মহসিন ক্লাবের পুনর্জন্ম

Published: 3 September 2022

পোস্ট ডেস্ক :

নারায়ণগঞ্জের মহসিন ক্লাবের পুনর্জন্ম

একটি পাড়ার ক্লাব স্বল্প পরিসরে এত সুন্দর হয়ে সাজতে পারে! গলির ভেতর সবুজ মাঠের পাশে মাথা তুলে দাঁড়ানো আধুনিক ক্লাব ভবনটি যেন মহসিন ক্লাবের পুনর্জন্মের ঘোষণা করছে।

kalerkantho

নারায়ণগঞ্জের খানপুরে একটি গলির ভেতরই মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে দুর্দান্ত ক্লাব ভবনটি। পুরো পাঁচতলা ভবনে আছে অফিস, ক্যাফেটেরিয়া, জিমনেসিয়ামসহ নানা আধুনিক আয়োজন। ওখানে পা রাখলে মনেই হবে না যে এটা বাংলাদেশের কোনো ক্লাব প্যাভিলিয়ন।

 

দেশের ক্রীড়াঙ্গনে ঐতিহ্যবাহী ক্লাবগুলোতেও নেই এ রকম আয়োজন। 

kalerkantho

সঙ্গে প্রত্যেক তলায় আছে নারায়ণগঞ্জের ক্রীড়ার সোনালি সময়ের স্মৃতি। সোনালি অতীতের ফ্রেম হয়ে আছেন নারায়ণগঞ্জ ফুটবলের সূর্যসন্তান মোনেম মুন্না-সম্রাট হোসেন এমিলির মতো কীর্তিমানরা। তাঁদের সঙ্গে আছে কৃতী শ্যুটার কাজী শাহানা পারভীন, দুর্দান্ত হকি খেলোয়াড় খাজা রহমতউল্লাহর বাঁধানো ছবি এবং কৃতিত্বের গল্প।

kalerkantho

কীর্তিমানদের এই গল্পের পরম্পরা বহমান রাখতেই মহসিন ক্লাব সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন আল মামুনের এই উদ্যোগ, ‘আমাদের নারায়ণগঞ্জে অনেক কৃতী খেলোয়াড়ের জন্ম হয়েছে, যাঁদের নিয়ে আমরা এখন গল্প করি। সামনের দিনগুলোতে তাঁদের মতো আরো খেলোয়াড় তৈরি হবে, আরো নতুন গল্প তৈরি হবে এই আশায় আমরা মহসিন ক্লাবটিকে নতুন রূপে সাজানোর চেষ্টা করেছি। ’

kalerkantho

মামুনের উদ্যোগেই হয়েছে মহসিন ক্লাবের নতুন সাজ আর গতকাল ছিল তার উদ্বোধন। এই উদ্বোধনী বক্তৃতায় সভাপতি ফিরে গেছেন নিজের শৈশবে। মাঠের পাশেই একটি বাড়িতে তাঁর জন্ম, ‘জন্মের পর থেকেই এই মাঠে আমার বেড়ে ওঠা, ফুটবল খেলা। মাঠে-ময়দানে খেলেই দিন পার হতো আমার। স্কুল ফুটবল খেলেছি মুন্নার সঙ্গে, কী সব দিন ছিল! তাই আমাকে ধন্যবাদ দেওয়ার কিছু নেই, এখন আমি এই ক্লাবের কিছু ঋণ শোধ করছি মাত্র। ’

kalerkantho

মাঠ আগে থেকেই ছিল, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও নতুন ঘাস বুনে এখন এটিকে দেওয়া হয়েছে আধুনিক চেহারা। সঙ্গে এলইডি লাইট লাগানো হয়েছে, যেন রাতেও খেলা যায়। কৃত্রিম আলোয় গতকাল জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলাররা খেলেছেন প্রীতি ম্যাচ।

kalerkantho

মাঠে নেমেছেন আসলাম, সাব্বির, নকীব, আলফাজ, রূপু, রক্সি, সুজন, জাকির, নজরুল, স্বপনসহ অনেকে। প্রতিপক্ষ মহসিন ক্লাবে খেলা সাবেক ফুটবলাররা। এই ক্লাবের সাবেক খেলোয়াড় বায়েজীদ জোবায়ের নিপুর প্রত্যাশা,  ‘১৯৭৬ সালে এই ক্লাবে খেলেছি আমি। আমাদের স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে মহসিন ক্লাব অনেক সফল। মাঝে এর কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা নেমে এলেও এখন প্রাণ ফিরে পেয়েছে মামুন সাহেবের কল্যাণে। আশা করি, আমাদের ক্লাব আবার ঘুরে দাঁড়াবে। ’

kalerkantho

এটি শুধু ফুটবল ক্লাব হলেও ক্লাব সভাপতি মামুন চ্যাম্পিয়নশিপ লিগ বা প্রিমিয়ার লিগে খেলা নিয়ে ভাবছেন না, ‘এখন প্রত্যেকটি ক্লাবে যেভাবে অন্য জায়গা থেকে ফুটবলার নিয়ে খেলে, সেটা আমার পছন্দ নয়। মহসিন ক্লাব খেললে নারায়ণগঞ্জের বেশির ভাগ ফুটবলার থাকবে, বাইরের কয়েকজন থাকতে পারে। এসব ভাবনা পরে হবে। এখন আমি শিশু-কিশোরদের খেলার সুযোগ করে দিতে চাই। আমার গড়া আরো ১৭টি একাডেমির মতো এখানেও বাচ্চারা ফুটবল খেলুক। খেলাই তো আনন্দের। ’  খেলার আনন্দেই মহসিন ক্লাবের নবযাত্রা শুরু হয়েছে।