ইসলামের ইতিহাসে মক্কা বিজয়ের প্রভাব

Published: 16 December 2022

মুফতি আবদুল্লাহ নুর

মক্কা বিজয় ইসলামের ইতিহাসে এক যুগান্তকরী ঘটনা। মক্কা বিজয়ের পর পুরো আরব ভূ-খণ্ডে এবং সারা বিশ্বে অল্পদিনের মধ্যে ইসলাম ছড়িয়ে পড়ে। অষ্টম হিজরির রমজান মাসে ঐতিহাসিক এই বিজয় অর্জিত হয়। মক্কা বিজয়ের পর রাসুলুল্লাহ (সা.) সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে বলেন, ‘হে কুরাইশ বংশধর! আমি তোমাদের সঙ্গে কেমন আচরণ করব বলে তোমাদের ধারণা? তারা বলল, আপনি আমাদের মহান ভাই, মহান ভাইয়ের ছেলে।

তিনি বলেন, ‘আমি তোমাদের তাই বলব, যা ইউসুফ (আ.) তার ভাইদের বলেছিলেন, আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। যাও তোমরা আজ মুক্ত। ’ (তাফসিরে কাশশাফ : ৬/৪৫১)
ইসলাম আবির্ভাবের পর দীর্ঘ এক দশক মুসলমানের ওপর মক্কাবাসীর সীমাহীন অত্যাচার এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-সহ অন্য মুসলিমদের দেশান্তরে বাধ্য করার পরও মহানবী (সা.)-এর উদারতায় বিস্মিত হয়। ফলে তাদের চোখ থেকে মিথ্যার আবরণ খসে পড়ে এবং ইসলামের সঙ্গে নতুন দিনের যাত্রা শুরু করতে আগ্রহী হয়। মক্কাবাসীর আগ্রহ রাসুলুল্লাহ (সা.) তাদের থেকে আনুগত্যের বাইআত গ্রহণ করেন। মূলত এ বাইয়াত ছিল নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার। পবিত্র কোরআনে বিবৃত অঙ্গীকারে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা বিষয়ক অপরাধগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। যা একটি নতুন বিজিত ও স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য অতিগুরুত্বপূর্ণ।

ঐতিহাসিকরা বলেন, মক্কায় মুসলিম বাহিনীর বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর মক্কার অধিবাসীদের সামনে সত্য পরিষ্কার হয়ে গেল। তারা বুঝতে পারল ইসলাম ছাড়া সাফল্যের কোনো পথ নেই। ফলে তারা বাইয়াতের জন্য একত্র হলো। মহানবী (সা.) সাফার ওপর বসলেন এবং লোকদের বাইয়াত গ্রহণ করছিলেন। ওমর (রা.) তাঁর নিচে ছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) মানুষ থেকে যথাসম্ভব আনুগত্যের অঙ্গীকার গ্রহণ করেন। পুরুষদের অঙ্গীকার গ্রহণের পর নারীদের অঙ্গীকার গ্রহণ করেন। ওমর (রা.) রাসুল (সা.) থেকে একটু নিচু স্থানে বসে তাঁর নির্দেশে বাইআত করাচ্ছিলেন এবং নারীদের কথা তাঁর কাছে পৌঁছে দিচ্ছিলেন। (আর রাহিকুল মাখতুম, পৃষ্ঠা ৪২৫)

অন্য বর্ণনায় এসেছে, মহানবী (সা.) নারীদের থেকে ছয়টি অঙ্গীকার গ্রহণ করেন। পবিত্র কোরআনে যা এভাবে বিবৃত হয়েছে, ‘হে নবী, মুমিন নারীরা যখন আপনার কাছে এসে এ মর্মে বাইয়াত করে—তারা আল্লাহর সঙ্গে কোনো শরিক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, নিজেদের সন্তার হত্যা করবে না, তারা সজ্ঞানে কোনো অপবাদ রটাবে না এবং সৎকাজে আপনাকে অমান্য করবে না, তখন আপনি তাদের বাইয়াত গ্রহণ করুন। আর তাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। আল্লাহ তো ক্ষমাশীল, দয়ালু। ’ (সুরা মুমতাহিনা, আয়াত : ১২)