ছেলে, মেয়ে, জামাতা ও নাতনিকে হারিয়ে দিশেহারা বৃদ্ধা সালাতুন
পোস্ট ডেস্ক :

হবিগঞ্জে এক সড়ক দুর্ঘটনায় পরিবারের চার সদস্য হারিয়ে দিশেহারা মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার বৃদ্ধা সালাতুন বেগম (৫০)। ছেলে, মেয়ে, জামাতা ও নাতনিকে হারিয়ে আহাজারি করেন তিনি। শনিবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৬টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে হবিগঞ্জের নোয়াপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনায় ঘটে।
সরেজমিনে শনিবার বিকালে নুরুল হকের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজন হারানোর মাতম চলছে। প্রতিবেশীসহ আত্মীয়স্বজন সালাতুন বেগমকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। বাড়ির উঠানে দুর্ঘটনায় নিহত তিনজনের লাশ রাখা হয়েছে।
মালয়েশিয়া প্রবাসীকে বিমানবন্দর থেকে আনতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৪ জনসহ মোট ৫ জন নিহত হয়েছেন। ওই ঘটনায় আহত ৩ জনকে সংকটাপন্ন অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহতরা হলেন, মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার মাদানগর গ্রামের নুরুল হকের ছেলে আতিকুর রহমান শিহাব (১৫) মেয়ে সাদিয়া বেগম (২১), জামাতা আব্দুস সালাম (৩২), নাতনি হাবিবা আক্তার (২) ও কুলাউড়া উপজেলার কমলাটিলা গ্রামের মাইক্রোবাস চালক সাদির আলী (২৫)।
স্বজনেরা জানান, সালাতুন বেগমের বড় ছেলে রাজু আহমদ (২৮) মালয়েশিয়া থেকে শনিবার ভোরে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। স্বজনেরা সেখান থেকে তাকে মাইক্রোবাসে করে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। সকাল ছয়টার দিকে হবিগঞ্জের নোয়াপাড়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীতমুখী বালুবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে তাদের মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। একই সময় পেছন দিক থেকে আসা পিকআপভ্যান মাইক্রোবাসটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে সালাতুনের ছেলে শিহাব আহমদ (১৩), মেয়ে সাবিহা আক্তার (২১), সাবিহার স্বামী কমলগঞ্জ ভেড়াছড়া গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সালাম (৩২), সাবিহাদের দুই বছরের মেয়ে হাবিবা ও মাইক্রোবাসের চালক হাজীপুর ইউনিয়নের আলীনগর গ্রামের বাসিন্দা সাদির মিয়া (২৮) মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় সালাতুনের স্বামী নুরুল ইসলাম ও ছেলে রাজু আহমদকে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মাধবপুর থানার ওসি মো. আব্দুর রাজ্জাক ও নিহত সাদিয়া বেগমের ফুফাতো ভাই আশরাফুল মামুন মুঠোফোনে হতাহতের বিষয় নিশ্চিত করেছেন।
শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি মাইনুল ইসলাম ভূইয়া জানান, দুর্ঘটনা কবলিত চারটি গাড়ি হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে আছে।




