গাজার গ্যাসের উপর চোখ পড়েছে কার কার?

Published: 25 January 2024

Dr Zaki Rezwana Anwar FRSA

মনের মধ্যে এ প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক যে, ফিলিস্তিন ইসরাইল যুদ্ধ কি শুধুই ইহুদীদের মুসলমানদের উপর আক্রমণ? এই যুদ্ধ এবং গাজার গ্যাসের মধ্যে কোনো‌ যোগসূত্র আছে কি? সে প্রশ্নের উত্তর খোঁজার আগে চলুন আমরা দেখে নেই বর্তমান বিশ্বে যে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানির ব্যবহার রয়েছে সেখানে গ্যাসের অবস্থান কোথায়?

বর্তমান বিশ্বে যেসব জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহৃত হচ্ছে, তার মধ্যে গ্যাস অন্যতম। তবে এখনো কিন্তু ভূগর্ভস্থ তেলের চাইতে গ্যাসের মজুদ অনেক বেশী। তেলের মজুদ যেমন ফুরিয়ে আসছে গ্যাসের অবস্থা কিন্তু তেমন নয়। ২০০৮ সাল থেকেই বিজ্ঞানীরা ‘পিক অয়েল’ এর কথা জানান দিয়ে আসছেন। বিজ্ঞানীরা যে ‘পিক অয়েল’ এর কথা বলছেন‌ তার অর্থ হচ্ছে, তেলের উৎপাদন ইতোমধ্যে সর্বোচ্চ (peak) পয়েন্ট অতিক্রম করে গেছে এবং এখন থেকে ধীরে ধীরে তেলের উৎপাদন কমে আসতে থাকবে।

তেলের উৎপাদন যে কমে আসছে তার বাস্তব প্রমাণ আমরা পাই যখন দেখি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ক্রুড অয়েলের  পরিবর্তে শেইল অয়েল উৎপাদন করতে বাধ্য হচ্ছে। তেল ফুরিয়ে আসার কারণেই আমরা লক্ষ্য করছি বিভিন্ন সরকার ও ফসিল ফ্যূয়েল কোম্পানীগুলো বিকল্প হিসেবে LNG (Liquid Natural Gas) এর ব্র্যান্ডিং শুরু করেছে। LNG কয়লার চাইতে ৪০% কম কার্বন নিঃসরণ করে যদিও আমাদের উচিত যত দ্রুত সম্ভব renewable energy তে চলে যাওয়া।

তেল ফুরিয়ে আসলেও আরো ১২৫ বছর‌ চলতে পারার মত ভূ-গর্ভস্থ গ্যাস পৃথিবীতে রয়েছে। আজ হোক আর কাল এক সময় পৃথিবীকে renewable energy তে যেতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই, তবে তার আগ পর্যন্ত বা আগামী বেশ কয়েক দশক ক্ষমতাধর দেশগুলো তাদের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে  হলে যে গ্যাসের উপর তাদের কর্তৃত্ব  বজায় রাখতে হবে তা তারা জানে। কাজেই, অতীতে তেল যেখানে যুদ্ধ সেখানে – এ বিষয়টি যেমন সর্বজনবিদিত ছিল, আগামী কয়েক দশকে এটি হবে গ্যাস যেখানে যুদ্ধ‌ সেখানে।

গাজার উপকূলে বিরাট গ্যাস মজুদ রয়েছে। গাজার উপকূলে এই  যে (Leviathan gas field) বিরাট গ্যাস ফিল্ড রয়েছে  শুধুমাত্র সেখানেই ২২ ট্রিলিয়ন কিউবিক‌‌ ফিট গ্যাস‌ রয়েছে। এটি বড় গ্যাস ফিল্ডগুলোর একটি মাত্র, এছাড়াও ইসরাইল, অধিকৃত ফিলিস্তিন ও তার আশেপাশে আন্তর্জাতিক জলসীমার মধ্যে এ ধরনের আরও অনেক গ্যাস ফিল্ড রয়েছে। ২০১৯ সালে গোটা পৃথিবী বিশেষ ‌করে ক্ষমতাধর দেশগুলোর চক্ষু ছানাবড়া হওয়ার‌ মত ঘটনা ঘটল । ২০১৯ সালে‌ জাতিসংঘের রিপোর্টে বলা হল, এই অঞ্চলের ভূ-গর্ভস্থ গ্যাসের মূল্য কম করে হলেও হবে ৫৩০ বিলিয়ন ডলার অর্থাৎ অর্ধ ট্রিলিয়নের বেশী। ভেবে দেখুন, এই হিসেব হচ্ছে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের আগের হিসেব, কোভিড মহামারীর আগের হিসেব, বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতির আগের হিসেব। বিশ্বব্যাপী এত ঘটনার পর সেই ৫৩০ বিলিয়ন ডলারের মূল্য আজকের বিশ্বে কততে দাঁড়িয়েছে তা ভাবা যায়?

আরো ভেবে দেখুন, ইউক্রেন আক্রমণের‌ জন্যে রাশিয়ার গ্যাসের উপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর পশ্চিমারা‌ যখন গ্যাসের সন্ধানে মরিয়া হয়ে উঠেছে তখন ফিলিস্তিন অঞ্চলে এই গ্যাসের খনিগুলো পশ্চিমাদের জন্যে কত আরাধ্যের বিষয় হতে পারে! আমাদের মনে‌ থাকার কথা, রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণের পর রাশিয়াকে একঘরে করার‌ উদ্দেশ্যে ই-ইউ প্রথম যে কাজটি করেছিল তা হচ্ছে তারা রাশিয়ার গ্যাস আমদানি করা বন্ধ করে দিয়েছিল। তার ফল কি হয়েছে আমরা দেখেছি। ই-ইউ রাশিয়ার গ্যাস সরাসরি না কিনলেও ভারত সহ বিভিন্ন দেশ রাশিয়ার থেকে গ্যাস কিনে রিব্র্যান্ডিং করতে লাগল অর্থাৎ বিশ্বের সাপ্লাই চেইন থেকে রাশিয়ার গ্যাসকে বিতাড়িত করা গেল না বরং ইউরোপকেই জ্বালানীর‌ জন্যে হাপিত্যেশ করতে দেখা গিয়েছে গত কয়েক বছরে।

গত কয়েকটি শীতে ইউরোপবাসীদের বসত বাড়ীতে কিভাবে হিটিং এর ব্যবস্থা করা যায়, জ্বালানি বিল ছাদ ফুঁড়ে উর্ধ্বমুখী হয়ে যাচ্ছে – এ‌ধরনের শিরোনামে ছেয়ে গিয়েছিল আমাদের পত্র পত্রিকা। যেহেতু ই-ইউ রাশিয়ার থেকে গ্যাস আমদানি করতে পারছিলনা সে পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালে ই-ইউ ইসরাইল ও ইজিপ্টের সাথে একটি মেমোরেন্ডাম অফ আন্ডারষ্টেন্ডিং স্বাক্ষর করে গাজা উপকূলীয় Leviathan গ্যাস ফিল্ড থেকে গ্যাস আমদানি করার উদ্দেশ্যে।

স্বাভাবিকভাবেই এখানে সব চাইতে চাঞ্চল্যকর যে প্রশ্নটি সামনে এসে হাজির হয়েছে তা হচ্ছে, গাজা উপকূলীয় এবং এর আশেপাশের আন্তর্জাতিক জলসীমার মধ্যে যে ভূ-গর্ভস্থ গ্যাস রয়েছে তার মালিক কে বা কারা? ধারণা করা যেতে পারে, যে ‌গ্যাস আন্তর্জাতিক জলসীমায় রয়েছে তার মালিকানা ফিলিস্তিন সহ ঐ জলসীমার আশেপাশের দেশগুলোরই হবে। ২০১৯ সালের জাতিসংঘের ঐ রিপোর্টে‌ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে‌ যে ইসরাইলীরা সেখানে রয়েছে মাত্র ১৯৪৮ সাল থেকে আর ফিলিস্তিনীরা রয়েছে বহু বহু বছর থেকে, কাজেই ফিলিস্তিনীদের  ঐ ভূ-গর্ভস্থ সম্পদের উত্তরাধিকারী  হওয়ার যৌক্তিকতা বহুগুণ বেশী।

BG group যারা গাজার উপকূলে ঐ গ্যাসের সন্ধান দিয়েছিল তাদের সঙ্গে ঐ গ্যাস উত্তোলনের জন্যে ফিলিস্তিনি সরকারের এক প্রকার চুক্তি হয়েই গিয়েছিল‌ যাতে তৎকালীন ইসরাইলী সরকার তেমন আপত্তি না করলেও পরবর্তীতে যখনই ইসরাইলে ডানপন্থী সরকার আসে তখনই এই চুক্তির ‌বিরোধীতা জোরদার হয়, আবার যখনই কিছুটা বাম বা অতটা ডান নয় এমন সরকার আসে তখন এই চক্রান্ত একটু দুর্বল হয়। এভাবে yo-yo ষ্টাইলে চলতে থাকে ফিলিস্তিনের‌ সাথে BG-র‌ করা চুক্তিটি।

হঠাৎ ২০০৭ সালে দেখা গেল‌ ইসরাইল ফিলিস্তিনকে বাদ দিয়ে বলা যায় এক প্রকার পেছনের দরজা দিয়ে BG গ্রুপের সাথে সরাসরি যোগসাজশ করার চেষ্টা করে। সেই চেষ্টা প্রথমবার ভেস্তে গেলেও খুব চটজলদি করে ইসরাইল ২০০৮ সালে ফিলিস্তিন আক্রমণ করার ঠিক আগে BG গ্রুপের সাথে সমঝোতা করে ফেলে। যুদ্ধের ঠিক আগে BG গ্রুপের সাথে সেই সমঝোতার ফলেই ২০০৮ সালের যুদ্ধে ইসরাইল গাজার উপকূলীয়‌ গ্যাসের দখল নিতে সক্ষম হয়। আমাদের বুঝতে কষ্ট হওয়ার কথা‌‌ নয় যে, যুদ্ধের ঠিক আগে পেছনের দরজা দিয়ে BG গ্রুপের সাথে ইসরাইলের চুক্তির উদ্দেশ্যই ছিল ফিলিস্তিনের গ্যাসের দখল নেওয়া।

এবার আসি ২০২৩ সালে ইসরাইলের ফিলিস্তিন আক্রমণ করার ঘটনায়। ইসরাইল ফিলিস্তিন যুদ্ধের ভেতরেই ২০২৩ সালের অক্টোবরেই ছ’টি কোম্পানীকে ১২টি লাইসেন্স অনুমোদন দেওয়া হয়। বলা বাহুল্য এই ছ’টি কোম্পানীর মধ্যে একটি হচ্ছে BP যেখানে সরাসরি বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর শ্বশুরকুলের পারিবারিক স্বার্থ জড়িত রয়েছে।  প্রতিবার ফিলিস্তিন আক্রমণের ঠিক আগ মুহূর্তের ঘটনাগুলোকে মালা গাঁথলে আমরা বুঝতে পারি যে, প্রতিবারই যুদ্ধের আগে এমন কিছু ঘটে যা ইসরাইলকে একটু একটু করে ফিলিস্তিনের গ্যাস দখলে নিতে সাহায্য করে। ২০০৮ সালে যুদ্ধের‌ ঠিক  আগ মুহূর্তে ইসরাইলের সাথে BG এর‌ চুক্তি ও ২০২৩ সালে ছ’টি কোম্পানীকে লাইসেন্স দেওয়ার ঘটনা এর প্রমাণ।

কোনো যুদ্ধের ‌মধ্যে সাধারণত মোড়ল দেশের পররাষ্ট্র এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের সফর বেড়ে যায়। একটি বিষয় নিশ্চয়ই অনেকেই লক্ষ্য করেছেন যে, এবারের ইসরাইল ফিলিস্তিন যুদ্ধের ভেতর মার্কিন এনার্জি সিকিউরিটি এডভাইজার দু’বার ইসরাইল সফর করেছেন। সফরকালে তিনি কি বলেছেন সেটিও লক্ষ্য করার বিষয়। তিনি বলছেন, যুদ্ধ পরবর্তী পুনর্বাসনের জন্যে ফিলিস্তিনের আর্থিক সাহায্যের লক্ষ্যে এই গ্যাস ফিল্ডগুলো থেকে মুনাফা ফিলিস্তিনকে দিতে হবে। এর কারণ হিসেবে  তিনি বলেছেন এগুলোতে ফিলিস্তিনের অধিকার রয়েছে। কথাটা শুনে আমাদেরকে চোখের ভ্রু উঁচু করে তাকাতেই হয়! মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেতরে ভেতরে কি চায় ইতিহাস তা আমাদের ভাল করেই জানান দেয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র খুব ভাল করেই জানে যে, ইসরাইল যদি ফিলিস্তিনকে তার গ্যাসের নায্য অধিকার দিত তাহলে কয়েক দশক আগেই তা দিত। ফিলিস্তিনকে গ্যাস ফিল্ডগুলোর দখল দিলে ফিলিস্তিনীরা টেরোরিজমের পেছনে ঐ অর্থ ব্যায় করবে, ফিলিস্তিনকে তাই এই গ্যাসফিল্ডগুলোর মালিকানা  দেওয়া যাবেনা – ফিলিস্তিনকে বঞ্চিত করার জন্যে এমন যুক্তি  ইসরাইল দিয়ে  আসছিল বহু দিন থেকেই। তাহলে প্রশ্ন হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাল মানুষের মত এমন কথা বলার অর্থ কি?

আমরা লক্ষ্য করেছি বহুদিনের শত্রু ইরান ও সৌদি আরবকে এক টেবিলে বসাতে সক্ষম হয়েছে চীন। সেখানে চীন মোড়লের মত মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল। এতে চীন বিশ্বের দরবারে এমন একটি ইমেজ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে যে, তারা শুধু ব্যবসা বোঝে না, তারা মধ্যস্থতাকারী হিসেবেও কাজ করতে পারে এবং এমন একটি কাজ তারা করতে পেরেছে যা খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও করতে পারেনি।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবার আর মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় আর কারো আবির্ভাবের আগেই নিজেই তার স্থানটি আগেভাগ দখল করে নিল। এ মুহূর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দেখল, ইতোমধ্যে ফিলিস্তিনে যা গণহত্যা ঘটাবার তা ঘটানো শেষ, এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বের কাছে নিজেকে একটু ‘goog guy’ প্রমাণ করা জরুরী। এতে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় আরেকটি লাভ হবে। যুদ্ধ পরবর্তী  বিধ্বস্ত দেশ গড়ার কাজে ধনী দেশ হিসেবে আর্থিক সহায়তার দ্বায়িত্ব পড়ে যায় যুক্তরাষ্ট্রের উপর। কাজেই ফিলিস্তিনের গ্যাসের অর্থ দিয়ে ফিলিস্তিনকে সাহায্য করে কৈ এর তেলে কৈ ভাজার কাজটাও সেরে ফেলতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের এখন উদ্দেশ্য হচ্ছে ফিলিস্তিনকে অল্প একটুখানি মানবতা দেখিয়ে ৭৫ বছর বছর‌ ধরে শোষিত ফিলিস্তিনীদের পশ্চিমা আধিপত্যের কবলে ফেলার এক নব্য উপনিবেশবাদের ফাঁদ পাতা।

আমাদের ভুলে গেলে চলবেনা যে, পৃথিবী‌ এখন দুই ভাগে বিভক্ত: এনার্জি ওয়ার এবং মেটেরিয়ালস ওয়ার। পশ্চিমা বিশ্ব কেবলমাত্র চলতে পারে জীবাশ্ম জ্বালানির উপর ভিত্তি করে, কারণ জীবাশ্ম জ্বালানির উপরই তাদের দখলদারিত্বের টিকিয়ে রাখতে পেরেছে তারা। তারা জানে renewable রেজিম আসবে চীন থেকে। সে কারণেই পশ্চিমা বিশ্ব renewable economy র দিকে যেতে যত রকম গড়িমসি করছে।

পশ্চিমা বিশ্ব জানে, renewable economy এর দিকে এগুনো মানেই চীনের সুপার পাওয়ার হওয়ার পথ সুগম করা, কারণ renewable economy র জন্যে যেসব পণ্যের দরকার তার সব কিছুর সাপ্লাই চেইনেই চীনের সক্ষমতা ও আধিপত্য রয়েছে। সে কারণেই পশ্চিমারা বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেসব অপেক্ষাকৃত কম উন্নত দেশ যেখানে প্রাকৃতিক জ্বালানির সন্ধান পায় তাদেরকে এক ধরনের  ‘জ্বালানি দাসত্বে’ পরিণত করতে চায়। এটা দু:খজনক যে, বহু বছর উপনিবেশবাদের শৃঙ্খলে থেকে বছরের পর বছর শোষিত হওয়া দেশগুলো যখন তাদের জ্বালানির সন্ধান পেয়ে নিজেদের ভাগ্যের উন্নতি করতে চায়, তখন যুক্তরাষ্ট্র তাদের যুদ্ধের অজুহাতে তাদের এক রকম জ্বালানি দাসে পরিণত করতে চায়।

দু’দশক আগে যুক্তরাষ্ট্র ও বৃটেন যে ইরাকের তেলের উপর হাত দিতেই বেআইনী যুদ্ধে  লিপ্ত হয়েছিল তা আমরা বুঝি পশ্চিমা মিডিয়া যেভাবেই তা চিত্রায়িত করুক না কেন ।

বিজ্ঞানের ছাত্রছাত্রী যারা পদার্থবিজ্ঞানের সূত্রগুলো পড়েছেন তারা জানবেন   Power is always converted from energy. পশ্চিমা আধিপত্য পদার্থবিজ্ঞানের এই সূত্রটি ভালই আয়ত্ত করেছে। তাই যেখানেই energy (জ্বালানির) সন্ধান মেলে সেখানেই সেই energy দখল করে তারা সেটিকে রূপান্তর করে নিজেদের power এ। তাই আমরা দেখি বহু যুগের উপনিবেশিক যাঁতাকলে পিষ্ট হওয়া দেশগুলো যখন জ্বালানির সন্ধান পায়, যখন সেই জ্বালানাকে একটুখানি নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায় তখনই সেই জ্বালানিই হয়ে যাচ্ছে পশ্চিমাদের দ্বারা তৈরী তাদের নব্য উপনিবেশবাদের শৃঙ্খল।।

…………………………………….

লেখক একজন চিকিৎসক, জনপ্রিয় সিনিয়র সংবাদ পাঠক ও কলামিস্ট