এবার স্থানীয় নির্বাচনের প্যাটার্ন আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে ঘিরে কী বার্তা দিচ্ছে?

Published: 9 May 2024

Dr Zaki Rezwana Anwar FRSA

আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে স্থানীয় নির্বাচনের ফলাফলের অন্তত চারটি জরুরী বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

প্রথমত কনজারভেটিভের ভোটে রিফর্ম ইউকের শক্ত থাবা: গত এক বছরে জনমত জরীপে যা বলা হচ্ছিল মোটামুটিভাবে তার সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হলেও এবারের স্থানীয়  নির্বাচনের ফলাফলে যে  বিশেষ মাত্রাটি যোগ হয়েছে তা হচ্ছে, রিফর্ম ইউকে যতটা জনপ্রিয় বলে মন করা হয়েছিল তার চাইতে বেশী জনপ্রিয় বলে প্রমাণিত হয়েছে। কনজারভেটিভের  বর্তমান ভিতকে রিফর্ম ইউকে কতটা নাড়িয়ে দিতে পারে সেটি বোধকরি অনেকেই underestimate করেছিলেন। অনেকের কাছে মনে হতে পারে, মাত্র কয়েকটি আসনে কনজারভেটিভ ও রিফর্ম ইউকের ভোটের সংখ্যা কাছাকাছি বা মাত্র কয়েকটি আসনে কনজারভেটিভের বেশ কিছু ভোট রিফর্ম ইউকের বাক্সে চলে গিয়েছে কিন্তু আমাদের বুঝতে হবে আসনগুলো সংখ্যায় কম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অর্থাৎ যে আসনগুলোতেই ব্যালট পেপারে রিফর্ম ইউকের নাম ছিল সেসব আসনেই কনজারভেটিভের ভোটের একটি মোটা অংশ চলে গিয়েছে রিফর্মের বাক্সে।

প্রথমে আসুন যদি গত বছরের সাথে তুলনা করি তাহলে দেখব, যেসব আসনে রিফর্ম ইউকে এবার প্রথমবারের মত প্রার্থী দিয়েছে সেসব আসনে কনজারভেটিভের সমর্থন ৫% কমে গিয়েছে। যে আসনগুলোতে এ বছর ভোট গ্রহণ হয়েছে তাদের বেশীরভাগই নির্বাচিত হয়েছিলেন ২০২১ সালে। এবার লক্ষ্য করুন,  মোট  আসনের ১৬.৭% আসন যেগুলোতে রিফর্ম ইউকে প্রার্থী দিয়েছে সেসব আসনে ২০২১ সালের সাথের সাথে তুলনা করলে কনজারভেটিভের সমর্থন ১৯ পয়েন্ট কমে গিয়েছে এবং যেসব আসনে রিফর্ম ইউকে প্রার্থী দেয় নি সেসব জায়গায় কনজারভেটিভের সমর্থন কমেছে ১১ পয়েন্ট। এখানে ‘১৯’ এই সংখ্যাটিকে একটু কৌতূহলের সাথে বিচার করলে বুঝতে পারব, ২০২১ সালের মে মাস যখন এই কাউন্সিল আসনগুলোতে নির্বাচন হয়েছিল তখন থেকে ২০২৪ সালের মে মাসে কনজারভেটিভের জনপ্রিয়তাও ঠিক ১৯% কমে গিয়েছে। সুতরাং রিফর্ফ ইউকের ভাষ্য অনুযায়ী আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে যখন প্রতিটি আসনে রিফর্ম ইউকে প্রার্থী দেবে তখন কনজারভেটিভকে কতটা বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হবে তা ভেবে  দেখবার বিষয় বটে।

দ্বিতীয়ত গাজা ইস্যূর উপর স্থানীয় ও আসন্ন নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রভাব: নতুন একটি বিষয় এবারের ভোটাভুটিতে লক্ষ্য করা গেছে তা হচ্ছে, যেসব এলাকায় মুসলমানদের সংখ্যা ১০% এর বেশী সেসব আসনে গাজা ইস্যূর কারণে লেবার পার্টির জনপ্রিয়তায় ধ্বস নেমেছে এবং সেসব আসনে স্বতন্ত্র এমনকি একেবারে ছোটো দলগুলোর প্রার্থীরাও জয়ী হয়েছেন। এখন কথা হচ্ছে, স্থানীয় নির্বাচনে যেভাবে‌ এত বেশী সংখ্যক স্বতন্ত্র প্রার্থী বা ছোটো দলের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন সাধারণ নির্বাচনেও কি এই ধারা দেখা  যাবে? আমার মতে ‘না’। কারণ, সাধারণ নির্বাচনে ভোটাররা প্রতিষ্ঠিত দল থেকে মনোনীত প্রার্থীকে ভোট দিতে চায় যাতে তাঁদের ভোটটি বৃথা না যায়। তবে, মুসলমান অধ্যুষিত এলাকায় লেবার পার্টি থেকে ভোটাররা মুখ ফিরিয়ে নেওয়া দেখে আমরা ধরে নিতে  পারি, এই ভোটাররা অন্তত সাময়িকভাবে হলেও গাজা ইস্যূতে লেবারের ভূমিকার চরম প্রতিবাদকেই প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছে।

যারা স্থানীয় নির্বাচনে শুধু কনজারভেটিভ ও লেবারের অবস্থান দেখে সরাসরি সাধারণ নির্বাচন সম্পর্কে উপসংহারে আসতে চান তারা ভুল করেন। আশির দশকের আগে স্থানীয় নির্বাচনের ফলাফল দেখে সাধারণ নির্বাচন সম্পর্কে বলা যেত কিন্তু ১৯৮৮ সালে লিবডেমের জন্মের পর থেকে দেখা যাচ্ছিল লিবডেম সব সময় সাধারণ নির্বাচনের চাইতে স্থানীয়  নির্বাচনে ভাল ফল করে। ১৯৯৭ সালে যখন সাধারণ নির্বাচন ও স্থানীয় নির্বাচন একই দিনে হয় তখনও অন্তত ২০% ভোটার স্থানীয় নির্বাচনে যে দলকে ভোট দিয়েছিল সাধারণ নির্বাচনে সে দলকে ভোট দেয় নি।

তৃতীয়ত কনজারভেটিভের উপর বীতশ্রদ্ধ হলেও জনগণের প্রধান দলের‌ নেতাদের উপর অনাস্থা: যেহেতু এবারের নির্বাচনী আসনগুলোর বেশীরভাগেই নির্বাচন হয়েছিল ২০২১সালে, তাই এবছরের স্থানীয় নির্বাচনের সাথে ২০২১ সালের স্থানীয়‌ নির্বাচনের একটা তুলনা করা জরুরী হলেও এ দু’টো নির্বাচনের বেশ কিছু  বিষয় সরাসরি তুলনাযোগ্য নয়। কারণ সে সময়ের নির্বাচনকে ভ্যাক্সিন বাউন্স ইলেকশন বলা‌ যায়।  তবে আগের বছরগুলোর  ভোটের প্যাটার্নের  সাথে এবারের ফলাফলের প্যাটার্নের কি পরিবর্তন হয়েছে সেটি গভীরভাবে দেখা প্রয়োজন। গত বছর ও এ বছরের মধ্যে তুলনা করলে কনজারভেটিভ ও লেবার এ দু’টো দলেরই নিজেদের মধ্যে কোনো ভোট সুইং হয়নি তবে এই দুই প্রধান দলের ভোটগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে  অন্য দলগুলোতে। এ কথা বলা যায়, কনজারভেটিভ ও লেবার দু’দলই  নিজেদের অবস্থানের বিষয়টাকে overestimate করছে এবং রিফর্ম যে পরোক্ষভাবে তাদের তুলনামূলক ভোটের ভাগকে কতটা প্রভাবিত করছে সে বিষয়টিকে underestimate করছে।

যখনই সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার বদল হয় তার ঠিক আগের স্থানীয় নির্বাচনে ইউকের মানচিত্র হয় লালে লাল হয়ে যায় অথবা নীলে নীল হয়ে যায়। ১৯৯৭ সালে টনি ব্লেয়ারের ভূমিধ্বস বিজয়ের ঠিক আগের স্থানীয় নির্বাচনে গোটা বৃটেনের মানচিত্র লালে লাল হয়ে গিয়েছিল। এবারের স্থানীয়‌ নির্বাচনের ফলাফলে সে রকমটি দেখা যায়নি, বরং লাল, হালকা নীল, গাঢ় নীল, হলুদ – সব মিলিয়ে বৃটেনের মানচিত্র একটি মাল্টি কালার্ড মানচিত্রে রূপান্তরিত হয়েছে। ১৯৯৭ সালে লেবারের নতুন রাজনৈতিক আদর্শ ও টনি ব্লেয়ারের ক্যারিশমা মানচিত্রকে রক্তিম করতে পেরেছিল। এবার ভোটাররা কনজারভেটিভের উপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে যেন ‘শপ এরাউন্ড’ করেছে। ভোটাররা বুঝে গিয়েছে, ঋষি সুনাক, টিয়ার ষ্টার্মার ও স্যার ডেভি – এঁদের রাজনৈতিক আদর্শের মধ্যে বিরাট ফারাক নেই, ফারাক রয়েছে তাদের চিৎকারের সুরের মধ্যে।

চতুর্থত স্কটল্যান্ডের নতুন অবস্থান: আলোচনায় তেমন উঠে না আসলেও আরেকটি বিষয় বিশ্লেষণের দাবী রাখে। আগে সাধারণ নির্বাচনে ভোট বন্টন সম্পর্কে মোটামুটিভাবে বিশ্লেষণ করতে হলে সাধারণত স্কটল্যান্ডকে সমীকরণ থেকে  বাইরে রাখা যেত, কারণ এস এন পি সাধারণ নির্বাচনে ভোটের ৩/৪% এর বেশী ভোট পেত না। এবারই সম্ভবত প্রথম বছর যখন আগাম সাধারণ নির্বাচনের হিসেবে স্কটল্যান্ডকে সমীকরণের বাইরে রাখা যাবেনা (এটি অবশ্য প্রকারান্তরে লেবারের পক্ষেই যাবে)। আমরা অনেকে‌ সাধারণ নির্বাচনের বিষয়ে প্রধান দু’টো দল কনজারভেটিভ ও লেবারের ভোট বন্টন নিয়ে বেশী আলোচনা করি কিন্তু আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন প্রতি ৩ জনে একজন প্রধান দু’টো দলের কোনোটিকেই ভোট দেবে না, তারা ভোট দেবে অন্য একটি দলকে।

কেন গতবার অর্থাৎ ২০১৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের সাথে ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের তুলনা করা চলেনা। ২০১৯ সালে যতই বরিস জনসন ‘গেট ব্র্যাক্সিট ডান’ এর শ্লোগান তুলুক না কেন, এই শ্লোগানে কনজারভেটিভের  বিজয় আসেনি, কনজারভেটিভের বিজয় এসেছিল কারণ বরিস জনসন ও নাইজেল ফারাজের মধ্যে এই প্যাক্ট হয়েছিল যে, গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে নাইজেল ফারাজের ব্র্যেক্সিট পার্টির প্রার্থী দেওয়া হবেনা। যদি এই প্যাক্ট না হত তাহলে ২০১৯ সালে বরিস জনসন কোনোভাবেই কনজারভেটিভের জন্যে নিরঙ্কুশ বিজয় আনতে পারতেন না।  তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে, নাইজেল ফারাজ কেন বরিস জনসনের সাথে প্যাক্টে গেলেন। ২০১৯ সালের নির্বাচনে নাইজেল ফারাজ ভেবেছিলেন, যদি তিনি বরিস জনসনকে সহায়তা না করেন এবং কনজারভেটিভের যদি নিরঙ্কুশ বিজয় না হয় তাহলে পার্লামেন্টে দ্বিতীয়বার রেফারেন্ডমের আওয়াজ উঠবে এবং তাতে ব্র্যেক্সিটের সিদ্ধান্ত উল্টে যেতে পারে। তাই ‘ব্র্যেক্সিট ডান’ হওয়ার পর আবার ‘ব্র্যেক্সিট আনডান’ হওয়ার দায়ভার নাইজেল ফারাজ নিতে চাননি।  রিফর্ম ইউকে যেটি মূলত ব্র্যাক্সিট পার্টিরই নতুন রূপ সেই রিফর্মের সামনে এখন আর ব্র্যাক্সিটের মূলা নেই। কাজেই তারা এখন এত সহজে কনজারভেটিভকে ছাড় দিতে রাজী হবে না।

ঋষি সুনাম আগ বাড়িয়ে জনসমক্ষে কেন বলতে শুরু করেছেন যে, আগামী সাধারণ নির্বাচনে লেবার বিজয়ী হলেও সংখ্যা গরিষ্ঠতার অভাবে হাঙ পার্লামেন্ট হবে? এটি বলে‌ ঋষি সুনাক ইংল্যান্ডের ভোটারদের ইঙ্গিত দিতে চাইছেন যে, হাঙ পার্লামেন্ট থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে  কনজারভেটিভকে ভোট দেওয়া  ভাল হবে, অর্থাৎ এ ধরনের ইঙ্গিত দিয়ে ঋষি সুনাক ইংল্যান্ডের কিছু সংখ্যক ভোটারদের লেবার বিমুখ করার চেষ্টা করছেন। ঠিক এই চালাকিই  করেছিলেন ডেভিড ক্যামরোন ২০১০ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে যদিও তাতে তেমন ফল হয়নি।

অনেকে প্রশ্ন করছেন, স্থানীয় নির্বাচনে ভরাডুবির পর সবার চাপে ঋষি সুনাক কী এই সামারে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবেন বা নির্বাচন কবে নাগাদ হতে পারে? আমার ধারণা, নভেম্বররের মাঝামাঝি কোনো এক বৃহস্পতিবার নির্বাচন হবে এবং সেটি হতে পারে ৭, ১৪ অথবা ২১শে নভেম্বর। কারণ অক্টোবর পার হলে ঋষি সুনাকের প্রধানমন্ত্রীত্বের দু’বছর পার হয়। এর মধ্যে হয়তো ঋষি সুনাক তামাক বিরোধী আইনটি প্রবর্তন করতে পারবেন। এছাড়া ঐ সময়ের মধ্যে ইন্টারেষ্ট রেট কমানো যাবে; ২ অক্টোবরের পার্টি কনফারেন্স সেরে ফেলা যাবে; ডাক্তারদের ষ্ট্রাইকের সন্তোষজনক না হলেও কিছুটা সমাধান করা যাবে এবং সেই সাথে ঋষি সুনাকের আশা ততদিনে ট্যাক্স কর্তনের সুফল হয়তো কেউ কেউ বুঝতে শুরু করবেন।

সবশেষ প্রশ্ন হচ্ছে, কনজারভেটিভের ভুলটা কোথায় হয়েছে এবং হচ্ছে। কনজারভেটিভ এর ভুল বিচার করাতে গেলে প্রথমে রিফর্মের পরিকল্পনাটা বুঝতে হবে। মডারেট কনজারভেটিভ কেন ক্রমে ক্রমে এত চরম ডানপন্থী হয়ে উঠছে। কনজারভেটিভের এত ডানে সরে যাওয়ার কারণ হচ্ছে, কনজারভেটিভ থেকে ছুটে যাওয়া রিফর্মের ভোটারদের কনজারভেটিভে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা। সেজন্যেই কনজারভেটিভ অভিবাসন ইস্যূতে এত মরিয়া হয়ে উঠেছে। কিন্তু আমার ধারণা কনজারভেটিভ কখনোই অভিবাসন ইস্যূতে রিফর্মের উপরে উঠতে  পারবেনা- এ খেলার শেষ নেই।

রিফর্মের আপাত উদ্দেশ্য সংসদে আসন পাওয়া নয়, তাদের প্রথম ধাপের  উদ্দেশ্য হচ্ছে, কনজারভেটিভের ভোট হাতিয়ে নিয়ে কনজারভেটিভের প্রধান বিরোধী দল হওয়াকে চ্যালেন্জের মুখোমুখি করা। কননজারভেটিভের বোঝা উচিত  ছিল, ভোটারদের মধ্যে যে অংশটি অভিবাসীদের ব্যাপারে ভীষণভাবে এলার্জিক তারা অভিবাসন বিষয়ে ‘অভিবাসী খেদাও’ মনোভাব থেকে যে রিফর্ম পার্টির জন্ম, সেই পার্টিকে বাদ দিয়ে  কেনো কনজারভেটিভের মত মডারেট ডানপন্থী যে রিফর্মের ভয়ে চরম ডানপন্থী হয়ে উঠেছে তাকে ভোট দেবে? আপনি original coke খেতে ভালবাসলে আপনি কেন‌ খাঁটি কোক বাদ দিয়ে coke lite খাবেন? কাজেই ক্ষমতা গ্রহণের পর ঋষি সুনাকের উচিত ছিল খেলার মাঠের সর্ব ডান অংশটি রিফর্মের জন্যে ছেড়ে দিয়ে সেন্টারে চলে আসা।

ভোটারদের distribution লক্ষ্য করলে আমরা দেখব, বেশীরভাগ ভোটার সেন্টারে থাকে। ঋষি সুনাক রিফর্মের সাথে যুদ্ধ করতে গিয়ে অতিরিক্ত ডানে গিয়ে সংখ্যা গরিষ্ঠ ভোটারদের হারাচ্ছেন এবং সেই সাথে সেন্টারে লেবারের জন্যে জায়গা করে দিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, মধ্যপন্থী ভোটাররা তো বটেই, যারা কনজারভেটিভকে ছেড়ে রিফর্মে চলে যাচ্ছে তাঁদের উপরেও জরীপে দেখা গেছে, দুই গোষ্ঠীর কাছেই এন এইচ এস-এ লম্বা ওয়েটিং লিষ্ট, ব্যায়বহুল জীবন যাত্রা, পাবলিক সার্ভিস এসব প্রাধান্য পায় বেশী। অথচ সেসব দিকে নজর না দিয়ে রোয়ান্ডা স্কীমই যেন ঋষি সুনাকের প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে যেখানে দেখা যাচ্ছে, এই স্কীম আইনে পরিণত হওয়ার পরও নৌকা যোগে বেআইনীভাবে আসা অভিবাসীদের সংখ্যা কমেনি।

অবৈধ অভিবাসীর কথা আপাতত এক পাশে সরিয়ে রাখলেও দেখব, বৈধ অভিবাসীদের নিয়েও কনজারভেটিভের ‘কী করি ভেবে না পাই’ অবস্থা। বৈধভাবে আসা ষ্টুডেন্টদের ভিসার অহরহ পরিবর্তন, কেয়ার ভিসার জটিলতা, স্পাউস ভিসার ক্ষেত্রে বেতনের সীমা নিয়ে সিদ্ধান্তের উঠানামা – এসব কিছু দেখে বোঝা যাচ্ছে অবৈধ তো দূরের কথা, বৈধ অভিবাসীদের ক্ষেত্রেও কনজারভেটিভের সিদ্ধান্তে দূর্বলতা রয়েছে। এখন শেষের কয়েক মাসে এসে কনজারভেটিভ হয়তো এন এইচ এস-এর দিকে নজর দেবে, ডাক্তারদের ষ্ট্রাইককে বিবেচনায় নেবে, তবে কনজারভেটিভ যদি ভেবে থাকে জনগণ তাদের গত সাড়ে চার বছরের কার্যকলাপকে ভুলে গিয়ে কেবল শেষের ৫ মাসের কাজের মূল্যায়ন করে আগামী পাঁচ বছরের জন্যে তাদের নির্বাচিত করবে তাহলে জনগণের কাছে এটি একটি অমূলক প্রত্যাশা মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক।।

…………………………………..

লেখক Dr Zaki Rezwana Anwar FRSA, MBBS, DTM&H, MS & PhD একজন চিকিৎসক, জনপ্রিয় সিনিয়র সংবাদ পাঠক, সংবাদ বিশ্লেষক ও কলামিস্ট।