ব্রিটেনের মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি
পোস্ট ডেস্ক :

গেলো বছর বৃটেনের মানবাধিকার পরিস্থিরি অবনতি হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির মানবাধিকার বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য। বৃটেনে মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ এবং ইহুদি-বিদ্বেষের ওপর জোর দিয়ে এ রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর আগেও বিষয়ে সমালোচনা করেছেন মার্কিন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা। যার মধ্যে রয়েছেন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। নির্বাচিত কলাম
এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রতিবেদনের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বৃটেন। দেশটির সরকারি এক মুখপাত্র বলেছেন, গোটা বিশ্বের জন্যই মত প্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্র অক্ষুণ্ন রাখার প্রথম শর্ত। যা বৃটেনেও কার্যকর রয়েছে। নাগরিকদের সুরক্ষার পাশাপাশি তাদের বাক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে গর্ব প্রকাশ করেছেন ওই কর্মকর্তা।
যুক্তরাষ্ট্রের ওই রিপোর্টে বৃটেনের পাশাপাশি ফ্রান্স ও জার্মানির মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, এ দুই দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতিরও অবনতি হয়েছে। বৃটেনের বাক স্বাধীনতা প্রসঙ্গে রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিশেষ উদ্বেগের ক্ষেত্র হিসেবে ঘৃণাত্মক বা আক্রমণাত্মক বলে বিবেচিত রাজনৈতিক বক্তব্যের ওপর বিধিনিষেধ অন্তর্ভুক্ত ছিল। রিপোর্টে আরও বলা হয়, গত বছরের সাউথপোর্টে হামলার প্রতিক্রিয়ায় সরকারি বিধিনিষেধ একটি ভয়াবহ উদাহরণ। রাজনৈতিক বক্তৃতা লক্ষ্য করে সাধারণ বৃটিশ নাগরিকদের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ ক্রমশ স্বাভাবিক হয়ে উঠছে।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে ১৮ বছর বয়সী অ্যাক্সেল রুদাকুবানা টেলর সুইফটের এক নাচের ক্লাসে তিন তরুণীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। পরের দিন শহরে একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়, কিন্তু রুদাকুবানা সম্পর্কে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্য সহিংস বিক্ষোভের দিকে ঠেলে দেয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টে দাবি করা হয়, রুদাকুবানা একজন অভিবাসন প্রত্যাশী। যিনি ছোট নৌকায় চড়ে বৃটেনে প্রবেশ করেছেন। এই ভুল তথ্য ব্যাপক হারে ছড়িয়ে দেয়া হয়। এতে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী স্যার কেয়ার স্টারমার জড়িতদের আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের রিপোর্টে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক বক্তব্য দমনে বারবার হস্তক্ষেপ করেছেন বৃটেন সরকারের জাতীয় এবং স্থানীয় কর্মকর্তারা। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস বৃটেন সরকারের কারও নাম উল্লেখ না করে বলেন, অনলাইনে রাজনৈতিক অথবা ধর্মীয় কণ্ঠস্বর লক্ষ্য করে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। সাংবাদিকদের ট্যামি বলেন, কারো বক্তব্য যতই অপ্রীতিকর হোক না কেন, তা অপরাধ হিসেবে গণ্য করা বা বলপ্রয়োগ করে স্তব্ধ করে দেওয়া কেবল আরও ঘৃণা উস্কে দেয়ার অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।




