গালফ অন্তর্ভূক্ত দেশগুলোতে যুক্তরাজ্যের আইনজীবীদের আইনী সেবার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে
পূর্ব লন্ডনে সেমিনারে বিশিষ্ট আইনজীবী ড. ওমর আবাশেইখ

লন্ডন, ১৭ আগস্ট ২০২৫: যুক্তরাজ্যের আইনজীবীদের জন্য গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের অন্তর্ভূক্ত দেশগুলোতে কাজ করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে । বাংলাদেশী আইনজীবীরা চাইলে তাদের আইনপেশা আরব দেশগুলোতেও প্রসারিত করতে পারেন।
কথাগুলো বলেছেন বিশিষ্ট আইনজীবী হ্যালকন সিস্টেমস এলএলসি’র সিনিয়র লিগ্যাল কাউন্সেল ড. ওমর আবাশেইখ। ১৫ আগস্ট শুক্রবার বিকেলে পূর্ব লন্ডনের গ্রেটোরেক্স স্ট্রিটের মাইক্রোবিজনেস সেন্টারে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন।
সেমিনারটি সোসাইটি অব ব্রিটিশ বাংলাদেশি সলিসিটর্স (এসবিবিএস) এবং ব্রিটিশ বাংলাদেশি প্র্যাকটিসিং ব্যারিস্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিবিপিবিএ) যৌথভাবে আয়োজন করে । সেমিনারে ব্রিটিশ বাংলাদেশি প্র্যাকটিসিং ব্যারিস্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্যের বিশিষ্ট ক্রিমেনাল ল’ ব্যারিস্টার ইসলাম খান।
এসবিবিএস সভাপতি সলিসিটর মোহাম্মদ নুরুল গাফ্ফারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সলিসিটর মুনশাত চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে ড. ওমর আবাশেইখ আরো বলেন, গালফ অঞ্চলভূক্ত দেশগুলোতে আইনপেশায় প্রবশের প্রধান উপায় হচ্ছে ওই দেশগুলোর চাহিদা অনুযায়ী পেশাগত দক্ষতা অর্জন করে নিজেদের যোগ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।
তিনি বলেন, বর্তমানে গালফ দেশগুলোর জনসংখ্যা ৫ কোটির কিছু বেশি। দেশগুলো উন্নত হওয়ায় বিভিন্ন খাতে আইনীসেবার ঘাটতি রয়েছে। যুক্তরাজ্যের আইনজীবীরা পেশাক্ষেত্রে একটু মনোযোগী হলে এই ঘাটতি পুরণে কাজ করার সুযোগ পাবেন । যেমন- ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিস, কন্ট্রাক্ট, প্রোকিউরমেন্ট, রিয়েল এস্টেট লেটিগশন, ফরেন ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউট, কোম্পানি ও বিজনেস প্লানিং, ট্যাক্স, রেগুলেটরী এণ্ড কমপ্লায়েন্স, প্রফেশনাল ডিসিপ্লিন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, গণমাধ্যম এবং নেগলিজেন্স বা অবহেলা সংক্রান্ত আইন।
তিনি বলেন যদিও ব্যাপক প্রতিযোগিতা রয়েছে তবুও মানসম্পন্ন সেবার ক্ষেত্রে এখনো উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে । তিনি তাঁর নেটওয়ার্ক ও পরিচিতি ব্যবহার করে গালফ দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে যুক্তরাজ্যের আইনজীবীদের পরিচয় করিয়ে দিতে সহায়তা করতে পারবেন বলে আশ্বাস দেন।
তিনি উপস্থিত আইনজীবীদেরকে সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম ব্যবহার করে নিজেদের মানসম্পন্ন সেবা তুলে ধরে সুনাম অর্জন এবং এর মাধ্যমে গালফ অঞ্চলে আইনপেশার প্রসারতা লাভ করার আহবান জানান।
তিনি বলেন প্রথমে দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল সেন্টার এবং আবুধাবি গ্লোবাল মার্কেটের মাধ্যমে কাজ শুরু করা যায় । সেখানে কার্যপ্রণালী সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করাই গালফ অঞ্চলে প্রবেশের শ্রেষ্ঠ উপায়।
এর মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি কমিউনিটির যোগ্য আইনজীবীরা আরও বেশি স্বীকৃতি পাবেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গালফ অঞ্চলে মামলা, আইন ও নীতিনির্ধারণী কাজে সম্পৃক্ত হতে অনুপ্রাণিত করতে পারবেন।

ব্যারিস্টার ইসলাম খান তাঁর বক্তব্যে সম্প্রতি প্রয়াত আইনজীবী ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, সলিসিটর আশফাক আহমেদ এবং আবদুল রকিবকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন এবং তাদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন । তিনি আইনপেশায় যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশী আইনী প্রতিষ্ঠানগুলোর সাফল্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশী মিডিয়ার প্রতি আহবান জানান । তিনি বলেন, মিডিয়া আমাদের আইনজীবীদের পেশাগত সাফল্য তুলে ধরলে গালফ অন্তর্ভূক্ত দেশগুলোসহ বিশ্বজুড়ে সুনাম বিস্তৃত হবে। এতে করে গালফ দেশগুলোতে আইনী সেবা প্রসারিত করা সহজ হবে।





