অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানে একমত দুইপক্ষ
পোস্ট ডেস্ক :

অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানে একমত বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। উভয়পক্ষ সামনের দিনে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যাগুলো পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে চায়। ঢাকা সফররত পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে রোববার এমনটাই জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘আপনারা নিশ্চয়ই প্রত্যাশা করেন না যে, ৫৪ বছরের সমস্যা আজকের একদিনের মিটিংয়ে… যে মিটিংটা গত ১২ থেকে ১৩ বছর পর তাও আবার হিনা রব্বানির দাওয়াত দেয়ার জন্য…দ্বিপাক্ষিক সফর ছিল না। কাজেই এখানে বসে আমরা এক ঘণ্টায় সমাধান করে ফেলতে পারব, এটা নিশ্চই কেউ আশা করবেন না। আমরা পরস্পরের অবস্থান তুলে ধরেছি।’
তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের এটুকু নিশ্চয়তা দিতে পারি। একটি বিয়য়ে শুধু কথা হয়েছে, যেটা খানিকটা অগ্রগতি যদি আপনারা মনে করতে পারেন। আমরা তিনটি বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছি। দুই পক্ষ একটি বিষয় আমরা ঠিক করেছি, এ বিষয়গুলোতে আমাদের সমাধান করতে হবে। দ্বিপক্ষিক সম্পর্ককে যাতে খুব স্মুথলি এগোতে পারে এজন্য এগুলো পেছনে ফেলতে হবে।’
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘দুই পক্ষ এ নিয়ে সম্মত হয়েছে। আমরা এ নিয়ে কথা বলব এবং চেষ্টা করব, এই ইস্যুগুলো যেন আগামীতে বা কোনো এক পর্যায়ে সমাধান করা যায়। আমরা এটা নিয়ে আলাদা করে এমনভাবে কথা বলব যাতে করে এই জিনিসগুলোকে পেছনে ফেলতে পারি। এছাড়া, আমরা পরস্পর নিজেদের অবস্থান ব্যক্ত করেছি।’
অমীমাংসিত বিষয়ে দুই দেশের অবস্থান একই কিনা, জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘অমীমাংসিত বিষয়ে দুই দেশ নিজেদের অবস্থান পুর্নব্যক্ত করেছে। একটি শুধু অগ্রগতি মনে করি, আমরা দুই পক্ষ একমত হয়েছি যে, এই বিষয়গুলো আলোচনা করে সমাধান করা প্রয়োজন, যাতে করে আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এগুলো বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।’
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, ‘একাত্তর ইস্যুতে ১৯৭৪ সালে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি এবং ২০০২ সালে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী পারভেজ মোশাররফ হোসেন দুঃখ প্রকাশ করেছেন।’ এ বক্তব্যের সঙ্গে বাংলাদেশের একমতের প্রশ্নে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি অবশ্যই একমত না। একমত হলেতো সমস্যাটার সমাধান হয়ে যেত তাদের মতো করে। আমিতো বলেছি, আমরা আমাদের অবস্থান বলেছি, ওনারা ওনাদের অবস্থান বলেছে।’
বাংলাদেশের অবস্থান জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘আমরা চাই হিসাবপত্র হোক, যেটা টাকাপয়সার ব্যাপার সমাধান হোক। আমরা চাই, এখানে যে গণহত্যা হয়েছে সেটার ব্যাপারে দুঃখ প্রকাশ করুক, মাফ চাক। আমরা চাই, আটকেপড়া মানুষগুলোকে তারা ফেরত নিক। আমি বাংলাদেশের অবস্থা শক্তভাবে তুলে ধরেছি।’
পাকিস্তানের সঙ্গে সিরিজ বৈঠক হচ্ছে। এটা তৃতীয় দেশ বিশেষ করে চীনের ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগের কারণে কিনা-জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা নাকচ করেন। তিনি বলেন, ‘দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থাতে চীনের উৎসাহ আছে, পাকিস্তানেরও উৎসাহ আছে। আমরাতো বলেছি, আপনারা আরও দেশকে নিয়ে আসেন, আমরা একসঙ্গে বসি। আমাদের অবস্থান সেই একই আছে। এটার কারণে আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করছি তা নয়।’
বিগত সরকারের সময় পাকিস্তানকে ইচ্ছাকৃতভাবে পিছিয়ে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক গত সরকারের আমলে ইচ্ছাকৃতভাবে পিছিয়ে রাখা হয়েছিল। আমি আগেও বলেছি, এখনও বলছি, আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে একটি স্বাভাবিক সম্পর্ক চাই এবং অন্যান্য বন্ধু দেশের সঙ্গে চাই; এরচেয়ে বেশি কিছু না।’




