কমপ্লিট শাটডাউন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের

Published: 29 August 2025

পোস্ট ডেস্ক :


বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কমপ্লিট শাটডাউন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কার্যালয় অভিমুখে শিক্ষার্থীরা মিছিল শেষে ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শাটডাউন কর্মসূচি চলমান রাখার ঘোষণা দেন। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বিএসসি প্রকৌশলীদের তিনটি দাবি তুলে ধরেন। সেগুলো হলো- ৩৩ শতাংশ পদোন্নতি কোটা বাতিল, টেকনিক্যাল গ্রেড উচ্চতর যোগ্যপ্রার্থীদের জন্য উন্মুক্তকরণ ও বিএসসি ছাড়া কেউ ইঞ্জিনিয়ার পদবি ব্যবহার করতে পারবে না। শিক্ষার্থীরা জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সারা দেশে ক্যাম্পাস শাটডাউন অব্যাহত থাকবে। এ সময় বিভাগীয় পর্যায়ে প্রকৌশলী সমাবেশ এবং সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি শেষে জাতীয় সমাবেশ করারও ঘোষণা দেয়া হয়। প্রকৌশলী অধিকার পরিষদের উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমান শহিদ বলেন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশন্স ফ্রেমওয়ার্ক (বিএনকিউএফ) অনুযায়ী ডিপ্লোমা থেকে শুধু চাকরির অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বিএসসি’র যোগ্যতা অর্জন করা সম্ভব নয়। এটি বৈশ্বিকভাবে স্বীকৃত একটি মানদণ্ড।

এদিকে বৃহস্পতিবার তিন দফা দাবিতে বুয়েটসহ চুয়েট, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শাটডাউন কর্মসূচি পালন করে। বুধবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফরম প্রকৌশল অধিকার আন্দোলন। ঘোষণা অনুযায়ী, বুয়েটসহ দেশের সব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউন কর্মসূচি পালন করে। তবে বুয়েটে বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে। গতকাল সকালে বুয়েটের বেশ কয়েকটি বিভাগগুলোতে দেখা গেছে, কোথাও শিক্ষার্থীরা আসেননি। নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েকটি বিভাগে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসেছেন। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ভবনের নিরাপত্তারক্ষী গোলজার হোসেন বলেন, আজকে এমনিই বুয়েটে সাপ্তাহিক বন্ধ। কেউ তো আসবে না। বুয়েটে চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নাসিমুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার আমাদের সাপ্তাহিক ছুটি। তবে শুক্রবার ছাড়া বাকি সব দিন আমাদের পরীক্ষা হয়। আমাদের আজকের (বৃহস্পতিবারে) পরীক্ষা আমরা বয়কট করেছি এবং আমাদের শাটডাউন কর্মসূচি চলছে। বুয়েটের স্নাতক পর্যায়ের বিভিন্ন লেভেল ও টার্মের সব পরীক্ষা আগামী ১৮ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ওদিকে, শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল করে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। একইসঙ্গে তিন দফা দাবি মেনে না নেয়ায় ও হামলার প্রতিবাদে অন্তর্বর্তী সরকারের গায়েবানা জানাজা ও দোয়া কর্মসূচি পালন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০টি প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে দুপুর ১২টা থেকে পৌনে ১টা পর্যন্ত গোলচত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তারা প্রধান ফটক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। বেলা সোয়া একটায় অন্তর্বর্তী সরকারের গায়েবানা জানাজা ও দোয়া কর্মসূচি পালন করা হয়। কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরাও। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে চুয়েট ক্যাম্পাসে কোনো বিভাগেই ক্লাস বা পরীক্ষা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে শিক্ষার্থীরা সংগঠিত অবস্থায় দাবি আদায়ের আন্দোলন চালিয়ে গেছেন। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ছাত্র কল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক মাহবুবুল আলম বলেন, শাটডাউনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা ক্লাস পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না। তাই ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ আছে।

ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার বেলা ১১টা থেকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, নেতৃত্বে ছিল বুয়েট। বিক্ষোভের মধ্যে দুপুরের দিকে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে যাত্রা শুরু করলে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের মোড়ে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় লাঠিপেটা, জল কামান, টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি থেকে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে বেশ কয়েকজন ছাত্র ও পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে বিকাল ৫টার দিকে বিফ্রিং করে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার জন্য স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার ক্ষমা চাওয়ার দাবিসহ পাঁচ দাবি দেয় তারা। তা না হলে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়া হয় তাদের তরফে। পরে রেলভবনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন দুই উপদেষ্টা। রাত ১০টার পরে কমিশনারসহ পুলিশ কর্মকর্তারা থানা থেকে বের হয়ে শাহবাগের শিক্ষার্থীদের জমায়েতে গিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন। পরে শিক্ষার্থীরা সড়ক ছেড়ে চলে গেলেও বৃহস্পতিবার সব প্রকৌশল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কমপ্লিট শাটডাউনের ঘোষণা দেন।