প্রায় পাঁচ দশক পর লেবাননে শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিল জাতিসংঘ

Published: 30 August 2025

পোস্ট ডেস্ক :


আগামী বছরের শেষ নাগাদ লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল থেকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ। বাহিনী মোতায়নের প্রায় পাঁচ দশক পর যুক্তরাষ্ট্র ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরাইলের চাপে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে ছয় মাসের মধ্যে বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিল এবং পরে চূড়ান্তভাবে এক বছরের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেছিল তারা। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সর্বসম্মতিক্রমে এই প্রস্তাব গৃহীত হয়। রোববার (৩১ আগস্ট) ইউএনআইএফআইএলের বর্তমান ম্যান্ডেট শেষ হওয়ার আগেই ভোট অনুষ্ঠিত হলো। ১৯৭৮ সালে ইসরাইলের দক্ষিণ লেবানন আক্রমণের পর ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার তদারকি করতে ইউএনআইএফআইএল গঠিত হয়। ২০০৬ সালের ইসরাইল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধের পর মিশনের পরিধি বাড়ানো হয়, যা দুই পক্ষের মধ্যে নিরস্ত্রীকৃত বাফার অঞ্চল বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে সমর্থকরা মনে করেন।

ফ‌লে দশক ধরে ইউএনআইএফআইএল দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে চলেছে। গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে এক বছরের মধ্যে ইউএনআইএফআইএল তাদের ১০ হাজার ৮০০ সামরিক ও বেসামরিক সদস্য এবং সব জাতিসংঘ সরঞ্জাম প্রত্যাহার করবে। এ সময়ে সীমিত কিছু কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি থাকবে বাহিনীটির।

প্রস্তাবে আরো বলা হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের জাতিসংঘ -চিহ্নিত সীমান্তরেখা ‘ব্লু লাইন’-এর উত্তরে নিরাপত্তা প্রদানের একমাত্র দায়িত্ব পালন করবে লেবানন সরকার। পাশাপাশি ইসরাইলকে ওই রেখার উত্তরের এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। গত বছর ইসরাইল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধের সময় এ বাহিনী উভয়পক্ষের সমালোচনার মুখে পড়ে। মার্কিন কংগ্রেসের অনেক সদস্যও ইউএনআইএফআইএলের তীব্র সমালোচনা করেন সে সময়।

ওয়াশিংটনের দাবি, এ বাহিনী কেবল অর্থের অপচয় করছে এবং হিজবুল্লাহর প্রভাব নির্মূল ও লেবাননের সেনাবাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যকে দীর্ঘায়িত করছে। এরই মধ্যে ইউএনআইএফআইএলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে বড় ধরনের কাটছাঁট করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে লেবাননের সেনাবাহিনী এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেয়ার সক্ষমতা অর্জন করেনি বলে দাবি করেছে দেশটির সরকার।

আলজেরিয়ার জাতিসংঘের রাষ্ট্রদূত আমার বেন্ডজামা জোর দিয়ে বলেন যে, উত্তেজনা কমাতে এবং যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে ইউএনআইএফআইএল লেবানন এবং এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। অতীতের চুক্তি লঙ্ঘন করে ইসরাইলি বাহিনী এখনও লেবাননে অবস্থান করছে উল্লেখ করে বেনডজামা সতর্ক করে বলেন, “আরব ভূমিতে ইসরাইলের দখলদারিত্ব বন্ধ না করলে, এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা অধরা থাকবে।”

এক বিবৃতিতে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম ইউএনআইএফআইএল -এর ম্যান্ডেট ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং এই কাউন্সিলের সকল বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ যারা লেবাননের উদ্বেগ নিয়ে চিন্তিত তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

সূত্র : সৌদি গ্যাজেট