থমথমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দোকানপাট বন্ধ, পুরুষ শূন্য গ্রাম
বিশেষ সংবাদদাতা :

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের দফায় দফায় সংঘর্ষের জেরে ক্যাম্পাস ও পার্শ্ববর্তী জোবরা গ্রামের পরিবেশ এখনও থমথমে। বন্ধ রয়েছে দোকানপাট। গ্রাম ছেড়ে শহরে পালিয়েছেন স্থানীয় অনেকেই। সেই সঙ্গে এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে।
সোমবার সকালে সরজমিনে দেখা যায়, পুরুষ মানুষ শূন্য হয়ে পড়েছে গোটা জোবরা গ্রাম। মানুষজন বের হচ্ছেন না ঘরের বাইরে। আবার অনেকেই গতকালকেই গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছেন শহরে। এ ঘটনায় এলাকাবাসী চিন্তিত এবং তারা দুষছেন শিক্ষার্থীদেরকে।
অপরদিকে ২ নম্বর গেট এলাকার অধিকাংশ শিক্ষার্থী গতকাল ক্যাম্পাসের বিভিন্ন হলে এসেছে এসে থেকেছেন নিরাপত্তার অভাবে। আবার উৎকণ্ঠায় ক্যাম্পাস ছাড়তে দেখা গেছে কিছু শিক্ষার্থীকে।
সাব্বির নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি গতকালকে আমার বাসা ছেড়ে ক্যাম্পাসের হলে বন্ধুর সিটে আছি। আমি আশঙ্কা এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলাম জন্য এখানে আসা। আমার এক বন্ধু সে গতকালকেই বাসায় চলে গেছে।’
বর্তমানে ক্যাম্পাসজুড়ে টহলে রয়েছে যৌথবাহিনীর সদস্যরা। ২ নম্বর গেট এলাকার অধিকাংশ দোকানই রয়েছে বন্ধ। সীমিত আকারে খোলা হয়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় দোকানপাট।
এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আনার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের দূরত্ব কমিয়ে নিরাপদ ক্যাম্পাস, আবাসন সংকট কাটিয়ে আবাসন নিশ্চিতের দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়াও নিরাপত্তা বাহিনী জোরদারের বিষয়েও দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।
প্রসঙ্গত, শনিবার রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেটে ভাড়া বাসায় প্রবেশের সময় দারোয়ানের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে মারধরের শিকার হন এক নারী শিক্ষার্থী। এর জেরে রোববার সারাদিন দফায় দফায় স্থানীয় ও চবি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৪৫০-এর অধিক শিক্ষার্থী আহত হন। এতে আহত হন প্রোভিসি, প্রক্টর, গণমাধ্যমকর্মীসহ অন্তত দুই শতাধিক শিক্ষার্থী। ঘটনা তদন্তে রোববার রাতে ২১ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।




