অবশেষে গ্রেপ্তার সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শামসুদ্দোহা

Published: 7 September 2025

পোস্ট ডেস্ক :


১২ ঘণ্টা অপেক্ষা শেষে পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার শামসুদ্দোহাকে ঢাকার নবাবগঞ্জে নিজ বাড়ি থেকে থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার বেলা ১১টায় তাকে ঢাকার নবাবগঞ্জে পানালিয়া ওয়ান্ডেরালা গ্রিনপার্কে তার বাড়ি থেকে আটক করা হয়। পরে চেক জালিয়াতির মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

নবাবগঞ্জ থানা সূত্রে জানায়, শামসুদ্দোহা খন্দকার নবাবগঞ্জের পানালিয়ায় তার নিজ বাড়িতে ছিলেন। শনিবার তিনি বাসার কাজের চার নারী গৃহকর্মীসহ কয়েকজনকে বেতন না দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন। নিজের লাইসেন্সকৃত অস্ত্র দিয়ে তাদের গুলি করার হুমকিও দেন। রাত ১১টায় বাসার এক নারী গৃহকর্মী জাতীয় জরুরি নম্বর ৯৯৯ এ কল দিয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানান। নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশ দেখে তিনি তার কক্ষের দরজা আটকে ভেতরে অবস্থান করেন। দীর্ঘ সময় পুলিশ সদস্যরা তার কক্ষের দরজা খোলার অপেক্ষায় থাকেন। গভীর রাত থেকেই পুলিশের একাধিক টিম তাঁকে গ্রেপ্তারে কাজ করতে থাকে। এ সময় শামসুদ্দোহার অস্বাভাবিক আচরণে পুলিশ সদস্যরা অনেকটা বিব্রত হন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে নবাবগঞ্জ থানার ওসি মমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ রাতভর সেখানে অবস্থান করে। রবিবার বেলা ১১টার দিকে তাঁকে আটক করা হয়। সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তার লাইসেন্সকৃত পিস্তলটি নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ জব্দ করেছে।

সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, রোববার সকাল ৮টার দিকে নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহ পুলিশের একটি টিম শামসুদ্দোহার বাসার উঠানে অপেক্ষা করছেন। পুলিশের সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার শয়নকক্ষের সামনে দরজায় নক করছেন। কিন্ত কোনো সাড়া দিচ্ছেন না শামসুদ্দোহা। সকাল সাড়ে ৯টায় খন্দকার শামসুদ্দোহা ঘুম থেকে ওঠেন। এ সময় ওসি তাকে বের হতে অনুরোধ করলে তিনি প্রস্তুতি নিয়ে সাড়ে ১০টায় বের হন। পরে হেঁটেই গেটের সামনে গিয়ে পুলিশের গাড়িতে ওঠেন। বেলা ১১টার দিকে তাঁকে আটক করে পুলিশের তিনটি গাড়ি ঢাকার দিকে রওনা দেয়। পরে তাকে আদালতে নেওয়া হয়।

জানা যায়, ১৯৮৬ সালে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন শামসুদ্দোহা। ২০১১ সালে অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে পদোন্নতি পান। তাকে ২০১১ সালে প্রেষণে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয় সরকার। দায়িত্ব পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ ওঠে। এরপর ২০১৫ সালে তাকে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ২০১৬ সালের ৩ মার্চ তিনি পুলিশ বাহিনী থেকে অবসরে যান।

নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম বলেন, শামসুদ্দোহার বিরুদ্ধে নবাবগঞ্জ থানায় চেক জালিয়াতির ঘটনায় দুটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। সেই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে আরও পাঁচটি মামলা থাকলেও সেসব মামলায় তিনি জামিনে রয়েছেন।