কে এই শাহ, যাকে নেপালের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চায় জেন-জি?

Published: 9 September 2025

পোস্ট ডেস্ক :


কঠোর কারফিউ সত্ত্বেও তরুণদের মাত্র দু’দিনের বিক্ষোভে পদত্যাগ করে হেলিকপ্টারে কাঠমুন্ডু ছেড়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি। দুদিনের বিক্ষোভ ২৫ জনের প্রাণহানি এবং কয়েকশ আহতের পর জেন-জি তরুণরা ওলি এবং আরও বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। কাঠমান্ডু উপত্যকায় ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপাল (ইউনিফাইড মার্কসিস্ট লেনিনিস্ট) বা সিপিএন (ইউএমএল) এবং নেপালি কংগ্রেসের দলীয় সদর দপ্তরও ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তীব্র বিক্ষোভের পর ওলি তার পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

নেপালে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী তরুণ-নেতৃত্বাধীন এই বিক্ষোভে ওলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হওয়ার পর দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন একটি নাম আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। তিনি হচ্ছেন বালেন্দ্র শাহ, যিনি বালেন নামেই বেশি পরিচিত। তিনি কাঠমান্ডুর বর্তমান মেয়র। অনলাইন প্রচারণার মাধ্যমে তাকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে।

কাঠমান্ডুর মেয়র বলেন্দ্র শাহ আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির পদত্যাগের পর জেন-জেড বিক্ষোভকারীদের সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার এক ফেসবুক পোস্টে শাহ বলেন, যেহেতু প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন, তাই বিক্ষোভকারীদের আরও জীবন ও সম্পত্তির ক্ষতি এড়াতে হবে।তিনি সরকারি ও বেসরকারি সম্পদকে জনগণের সম্পত্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং তরুণদের তাদের ধ্বংস না করার আহ্বান জানিয়েছেন।

“দয়া করে শান্ত থাকুন। জাতীয় সম্পদের ক্ষতি আমাদের সম্মিলিত ক্ষতি। এখন আমাদের সকলের সংযম প্রদর্শন করা জরুরি। এখান থেকে, আপনার প্রজন্মকেই দেশ পরিচালনা করতে হবে’’, লেখেন শাহ।

 

‘জেন জি প্রোটেস্ট’ নামে পরিচিত এই অস্থিরতার নেতৃত্ব মূলত ২৮ বছরের কম বয়সী তরুণরা দিচ্ছে। একদিন আগে, হাজার হাজার মানুষ সংসদের বাইরে জড়ো হয়েছিল, যাদের অনেকেই স্কুল ইউনিফর্ম পরে ছিল। পুলিশ জনতার উপর গুলি চালানোর পর সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।

 

এই অস্থিরতার মধ্যে ব়্যাপার থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত শাহ বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। আগের একটি ফেসবুক পোস্টে কাঠমান্ডুর মেয়র বলেছেন, আয়োজকদের দ্বারা নির্ধারিত বয়সের সীমার কারণে তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি, তিনি বিশ্বাস করেন, তাদের কণ্ঠস্বর শোনা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, যদিও তিনি সশরীরে উপস্থিত থাকবেন না, তবুও তার ‘পূর্ণ সমর্থন’ তরুণদের সঙ্গে থাকবেন।