জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন

জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন
গাজায় গণহত্যা চালিয়েছে ইসরাইল

Published: 16 September 2025

পোস্ট ডেস্ক :


নতুন এক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে অধিকৃত ফিলিস্তিন অঞ্চল নিয়ে করা জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশন। সেখানে ইসরাইলকে গণহত্যাকারী দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে বলা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে গণহত্যা বিষয়ক পাঁচটি কার্যকলাপের মধ্যে চারটিই পূর্ণ করেছে ইসরাইল। ২০২৩ সালে হামাসের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানোর পর থেকে সংগঠনটির সদস্যদের হত্যা, শারীরিক ও মানসিকভাবে গুরুতর আঘাত, গাজায় পরিকল্পিতভাবে জাতিনিধন পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং জন্মরোধের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘঠিত করেছে দেশটি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনটিতে ইসরাইলি নেতাদের বক্তব্য এবং দেশটির বাহিনীর আচরণের ধরণকে গণহত্যার অভিপ্রায়ের প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরাইল। প্রতিবেদনটিকে ‘বিকৃত এবং মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জাতিসংঘ কমিশনের তিন বিশেষজ্ঞের বিরুদ্ধে হামাসের হয়ে কাজ করার অভিযোগ তুলেছে তারা। এছাড়া ওই প্রতিবেদন ‘হামাস কর্তৃক প্রচারিত মিথ্যা তথ্যের ওপর নির্ভর করে’ তৈরি করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলের দখলদারীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। ইসরাইলও ওই দিন গাজায় প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করে। যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলো জানিয়েছে, হামলা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৬৪ হাজার ৯০৫ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে তেল আবিবের সৈন্যরা। ইসরাইলের বিমানগুলো থেকে যেসব বিধ্বংসী বোমা বর্ষণ করা হয়েছে তাতে পুরো গাজা মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। অবকাঠামো হারিয়ে উপত্যকাটির প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছেন। ভেঙে পড়েছে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। বিশুদ্ধ পানির অভাব, পয়োনিষ্কাশন এবং হাইজিন ব্যবস্থার অবনতি দিনকে দিন প্রকট হচ্ছে। এছাড়া জাতিসংঘ গাজার বেশ এলাকাকে দুর্ভিক্ষে আক্রান্ত বলে অভিহিত করেছে।

অধিকৃত ফিলিস্তিন অঞ্চলের জন্য স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত সংস্থা জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল প্রতিষ্ঠিত হয় ২০২১ সালে। সংস্থাটির কাজ হচ্ছে ওই অঞ্চলের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সকল পর্যায়ের লঙ্ঘন তদন্ত করা। প্রতিবেদনটি তৈরিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের তিনজন। এর প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই। তার সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার মানবাধিকার বিষয়ক আইনজীবী ক্রিস সিডোতি এবং ভারতীয় ভূমি এবং ঘরবাড়ি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মিলুন কোঠারিও কাজ করেছেন।

সর্বশেষ এই প্রতিবেদনটিকে এখন পর্যন্ত ইসরাইলের হামলা সম্পর্কে জাতিসংঘের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং নির্ভরযোগ্য সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এটি আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘের কোনো মতামত নয়। ৭২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ এবং দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ১৯৪৮ সালের গণহত্যা কনভেনশনের অধীনে গণহত্যার পাঁচটি কার্যকলাপের মধ্যে চারটি কার্যকলাপ করেছে।