ডাকসু নির্বাচন
ডাকসু নির্বাচন
ব্যালট ছাপানোর স্থান বা সংখ্যা ‘সুষ্ঠু নির্বাচনকে কোনোভাবে প্রভাবিত করে না : উপাচার্য
পোস্ট ডেস্ক :

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ব্যালট পেপার নীলক্ষেতে ছাপানোর বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান। তিনি বলেন, ‘ভেন্ডর অবহিত না করায় নীলক্ষেতে ব্যালট ছাপানোর বিষয়টি তাদের জানা ছিল না।’ তবে ব্যালট ছাপানোর স্থান বা সংখ্যা ‘সুষ্ঠু নির্বাচনকে কোনোভাবে প্রভাবিত করে না’ বলেও দাবি করেন উপচার্য। রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল মতিন ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
পূর্ণ সর্তকতার সঙ্গে ভোট গ্রহণ হয়েছে উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, ‘ব্যালট পেপার ভোটের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত করতে কয়েকটি ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। ব্যালট পেপারটি ছাপানোর পর তা নির্দিষ্ট পরিমাপে কাটিং করতে হয়। তারপর সুরক্ষা কোড আরোপ করে ওএমআর মেশিনে প্রি-স্ক্যান করে তা মেশিনে পাঠযোগ্য হিসেবে প্রস্তুত করতে হয়। এরপর চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তার সীলসহ স্বাক্ষর ও কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার স্বাক্ষর যুক্ত হলেই তা ভোট গ্রহণের জন্য উপযুক্ত হয়। এ সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই পূর্ণ সর্তকতার সঙ্গে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে।’
ব্যালট নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে উপাচার্য বলেন, ‘সমস্ত নিয়ম মেনে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে একটি অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানকে ব্যালট পেপার ছাপানোর দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। রেকর্ড সংখ্যক ভোটার ও প্রার্থীর বিবেচনায় দ্রুততম সময়ে নির্ধারিত পরিমাণ ব্যালট ছাপানোর স্বার্থে আমাদের মূল ভেন্ডরের সাথে আলোচনা করে সমযোগ্য একটি সহযোগী/অ্যাসোসিয়েট প্রতিষ্ঠানকে একই টেন্ডারের অধীনে কাজে সম্পৃক্ত করার অনুমতি দেয়া হয়।’
নীলক্ষেতে ব্যালট ছাপানোর তথ্যটি সেই সহযোগী ভেন্ডর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেনি বলে দাবি করেন উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান। তিনি বলেন, ‘ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, সহযোগী প্রতিষ্ঠান নীলক্ষেতে ২২ রিম কাগজ দিয়ে ৮৮ হাজার ব্যালট ছাপায়। যা থেকে প্রিন্টিং, কাটিং, প্রি-স্ক্যান পর্ব শেষে নির্দিষ্ট পরিমাণে ব্যালট প্যাকেটে সিলগালা করে ৮৬ হাজার ২৪৩টি ব্যালট সরবরাহযোগ্য করা হয় এবং অতিরিক্ত ব্যালটগুলো প্রচলিত পদ্ধতিতে নষ্ট করে ফেলা হয়। ভেন্ডর আরও জানায় যে, নীলক্ষেতে কাটিং শেষে প্রি-স্ক্যান ও পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য তারা তাদের মূল অফিসে এনে প্রি-স্ক্যান সম্পন্ন করে নির্দিষ্ট পরিমাণে প্যাকেটে ভরে সিলগালা করে বিশ্ববিদ্যালয়কে সরবরাহ করে। তারা আরও জানায় যে, তারা ব্যালট প্রস্তুতকরণ প্রক্রিয়ায় ও আনা নেয়ায় চুক্তি মোতাবেক সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।’
‘ব্যস্ততার কারণে কর্তৃপক্ষকে তারা নীলক্ষেতে ব্যালট প্রিন্টিং ও কাটিংয়ের বিষয়টি জানাতে ভুলে যায় বলে স্বীকার করে।’ দাবি উপচার্যের।
উপাচার্য বলেন, ‘কার্যাদেশ অনুযায়ী চূড়ান্তভাবে ২ লাখ ৩৯ হাজার ২৪৪টি ব্যালট ভোটগ্রহণের জন্য প্রস্তুত করা হয়। মোট ভোটার ৩৯ হাজার ৮৭৪ জন। আর ভোটার প্রতি ৬টি ব্যালট।’
উল্লেখ্য, গত ৯ সেপ্টেম্বর ডাকসু নির্বাচনে বিশাল জয় পায় ইসলামী ছাত্রশিবির। নির্বাচনে তাদের প্যানেলের নাম ছিল ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’। এই প্যানেলের প্রার্থীরা ভিপি, জিএস, এজিএসসহ ২৮টি পদের মধ্যে ২৩টিতেই জিতেছেন।
ডাকসুর ভিপি (সহসভাপতি) নির্বাচিত হয়েছেন শিবিরের নেতা মো. আবু সাদিক কায়েম। জিএস (সাধারণ সম্পাদক) নির্বাচিত হয়েছেন এস এম ফরহাদ। আর এজিএস (সহসাধারণ সম্পাদক) হয়েছেন মুহা. মহিউদ্দীন খান। নির্বাচনে ৭০ শতাংশের বেশি ভোট পড়ে বলে জানায় নির্বাচন কমিশন।
এরপর ২৬ সেপ্টেম্বর কারচুপির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করে ছাত্রদল। তারা ডাকসু নির্বাচনের ১১টি অনিয়ম-অভিযোগ তুলে ধরে।




