সিডনিতে গুলিবর্ষণ, যা বললেন বিশ্বনেতারা
পোস্ট ডেস্ক :

সিডনির আইকনিক বন্ডাই সমুদ্রসৈকতে রবিবার সংঘটিত গণগুলিবর্ষণে ১১ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় বিশ্বনেতারা গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্তনি অ্যালবানিজ বলেন, অস্ট্রেলীয় পুলিশ যে হামলাকে ‘সন্ত্রাসী’ ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করেছে, সেই ‘ভয়াবহ ও মর্মান্তিক’ আক্রমণ ছিল ‘কল্পনাতীত’। ইহুদি ধর্মীয় উৎসব হনুকা উদ্যাপনরত এক সমাবেশকে লক্ষ্য করে হামলাকারীরা গুলি চালায়।
ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ একে ‘ইহুদিদের ওপর নিষ্ঠুর হামলা’ বলে নিন্দা জানান।
জেরুজালেমে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তেই অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে আমাদের ভাই-বোনেরা ঘৃণ্য সন্ত্রাসীদের দ্বারা ইহুদিদের ওপর অত্যন্ত নিষ্ঠুর হামলার শিকার হয়েছেন।’
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লায়েন জানান, তিনি গুলিবর্ষণের ঘটনায় ‘স্তম্ভিত’। ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিকও একে ‘জঘন্য সহিংসতা’ বলে নিন্দা করেন। ভন ডার লায়েন এক্সে লেখেন, ‘ইউরোপ অস্ট্রেলিয়া এবং বিশ্বের সর্বত্র ইহুদি সম্প্রদায়ের পাশে আছে।
সহিংসতা, ইহুদিবিদ্বেষ ও ঘৃণার বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ।’
ইইউর পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কাল্লাস যোগ করেন, ‘ইহুদি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে এই জঘন্য সহিংসতা নিঃশর্তভাবে নিন্দা করা উচিত।’
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া থেকে আসা এই গভীরভাবে মর্মান্তিক খবর। বন্ডাই বিচে সংঘটিত এই জঘন্য হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রতি যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে সমবেদনা ও সহমর্মিতা।
’
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টন ইমানুয়েল ম্যাঁখো হামলাটির নিন্দা করে বলেন, ফ্রান্স ‘ইহুদিবিদ্বেষী ঘৃণার বিরুদ্ধে নিরলসভাবে লড়াই’ চালিয়ে যাবে।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এক্সে লিখেছেন, সিডনি থেকে আসা এই ‘মর্মান্তিক খবর’ তাকে গভীর শোকে আচ্ছন্ন করেছে। তিনি বলেন, ‘সব ধরনের সহিংসতা ও ইহুদিবিদ্বেষকে আবারও দৃঢ়ভাবে নিন্দা জানিয়ে ইতালি নিহতদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করছে।’
জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াদেফুল এক্সে বলেন, ‘হনুকার প্রথম দিনে সিডনিতে সংঘটিত এই সন্ত্রাসী হামলায় আমি গভীরভাবে স্তম্ভিত—এটি বিশ্বজুড়ে সব ইহুদির বিরুদ্ধে ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ। নিহতদের পরিবার, আহতদের এবং ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতি আমার সমবেদনা।
’
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলনস্কি এক্সে লেখেন, ‘সিডনির বন্ডাই বিচে ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে সংঘটিত নৃশংস সন্ত্রাসী হামলার মুখে ইউক্রেন অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছে।’ তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাস ও ঘৃণা কখনোই জয়ী হতে পারে না—এগুলোকে সর্বত্র ও সব সময় পরাজিত করতে হবে।’
অস্ট্রেলিয়ার একটি প্রধান মুসলিম সংগঠনও এই ‘ভয়াবহ’ গুলিবর্ষণের নিন্দা জানিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইমামস কাউন্সিল এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘নিহতদের, তাদের পরিবার এবং এই গভীরভাবে আঘাতজনক হামলার সাক্ষী বা প্রভাবিত সবার সঙ্গে আমাদের হৃদয়, চিন্তা ও প্রার্থনা রয়েছে।’ তারা সব অস্ট্রেলীয়কে ঐক্য, সহমর্মিতা ও সংহতির আহ্বান জানায়।
এদিকে অস্ট্রেলিয়ান জিউইশ অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান রবার্ট গ্রেগরি বলেন, এই গুলিবর্ষণ ছিল ‘একটি ট্র্যাজেডি, কিন্তু পুরোপুরি পূর্বানুমেয়’। তিনি এএফপিকে বলেন, ‘আলবানিজ সরকারকে বহুবার সতর্ক করা হয়েছিল, কিন্তু ইহুদি সম্প্রদায়কে সুরক্ষিত রাখতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’




