সাংবাদিক আনিস আলমগীর পাঁচ দিনের রিমান্ডে
পোস্ট ডেস্ক :

রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার সাংবাদিক আনিস আলমগীরের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল তাকে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান আদালতে রিমান্ড আবেদন করেন। আসামির উপস্থিতিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে শুনানি হয়। রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত তার রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে বিকাল ৫টার পরে ডিবি কার্যালয় থেকে একটি মাইক্রোবাসে তাকে আদালতে নেয়া হয়।
আমাকে যারা নির্দিষ্ট দলের গোলাম বানাতে চায়, এটা তাদের সমস্যা
আদালতে আনিস আলমগীর বলেন, ‘মাননীয় আদালত, আমি সাংবাদিক। আমি ক্ষমতাকে প্রশ্ন করি। দুই যুগ ধরে আমি এটা করে এসেছি। আমার জব (কাজ) কারও কাছে নতজানু হওয়া না। আমাকে যারা নির্দিষ্ট দলের গোলাম বানাতে চায়, এটা তাদের সমস্যা। আমার ফেসবুকে সব বক্তব্য দিই। এখানে অপ্রকাশিত নেই কোনো কিছু। আমি ইউনূসের (প্রধান উপদেষ্টা) বাড়ি আক্রমণের কথা বলেছি। কিন্তু কোন কারণে বলেছি, ৩২-এ আক্রমণ এটা প্রতিহিংসার রাজনীতি। এটা ফিরে আসবে। সেটা বলেছি। জুলাইয়ের স্পিরিট কিভাবে বাড়বে, আমরা সেটা বলেছি। এখানে আমার ভুল কী হয়েছে, আমি জানি না। আমার সঙ্গে কারও যোগসূত্র নেই। ড. ইউনূস যদি চায়, সারা বাংলাদেশকে কারাগার বানাবে, বানাতে পারে।’
রোববার রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনিস আলমগীরকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কার্যালয়ে নেয়া হয়। তিনি নিজেই মোবাইল ফোনে বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানান। রাত সাড়ে ৮টার দিকে জানান সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ধানমণ্ডি এলাকার একটি জিম সেন্টার থেকে ডিবি প্রধান তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন বলে তুলে আনা হয়। তাকে তুলে আনার পর ডিবি প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম কেন তাকে তুলে আনা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে খোলাসা করেননি। গতকাল সকালে জানা যায়, আনিস আলমগীরসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা হয়েছে। বিকালে ডিবি প্রধান ওই মামলায়ই আনিস আলমগীরকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেন।
উত্তরা পশ্চিম থানার সন্ত্রাসবিরোধ আইনের মামলায় আনিস আলমগীর ছাড়া আরও ৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। জুলাই রেভ্যুলেশনারি অ্যালায়েন্সের কেন্দ্রীয় সংগঠক আরিয়ান আহমেদ বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলার অপর আসামিরা হলেন অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনসহ মারিয়া কিসপট্টা (ফ্যাশন মডেল) ও ইমতু রাতিশ ইমতিয়াজ (উপস্থাপক)।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেও তার অনুসারীরা বিভিন্ন কৌশলে ঘাপটি মেরে দেশে অবস্থান করে দেশকে অস্থিতিশীল করা এবং দেশের অবকাঠামোকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র করে আসছে। আসামিরা ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন টেলিভিশনের টকশোতে বসে নিষিদ্ধ সংগঠনকে ফিরিয়ে আনার জন্য নানা গুজব (প্রপাগান্ডা) চালিয়ে আসছে। এর মাধ্যমে তারা আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের পাঁয়তারা করছে। তাদের বিভিন্ন পোস্টের ফলে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরা অনুপ্রাণিত হয়ে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল ও অবকাঠামোকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছে।




