শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড চেয়ে প্রসিকিউশনের আপিল

Published: 15 December 2025

পোস্ট ডেস্ক :


মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ)। এতে আসামিদের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে ৮টি যুক্তি তুলে ধরেছে প্রসিকিউশন। সোমবার এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে ব্রিফিং করেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়। আমরা এর আগেই আপিল করেছি। আপিলের ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির বিধান রয়েছে। আশা করছি, এর মধ্যেই আপিলটি নিষ্পত্তি হবে। তিনি বলেন, আমৃত্যু দণ্ড বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ডে পরিণত করতে আমরা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করেছি। এতে আটটি ‘গ্রাউন্ড’ তুলে ধরেছি জানিয়ে তিনি বলেন, এই অপরাধের নৃশংসতার গভীরতার তুলনায় এই আমৃত্যু কারাদণ্ড অপরিপক্ক বা কম হয়েছে। অতএব এ ধরনের ভয়াবহ অপরাধের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডই একমাত্র শাস্তি হওয়া উচিত। এ আইনে শাস্তি দেয়ার ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। কারণ, তাদের নির্দেশ বা উস্কানিতে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ শহীদ ও ২৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন।

এর আগে, গত গত ১৭ই নভেম্বর শেখ হাসিনা ও কামালকে একটি অভিযোগ আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন ট্র্যাইবন্যুাল। তাদের দু’জনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে দেশে থাকা তাদের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেয়া হয়। এছাড়া একই মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।

আপিলে আনা আটটি গ্রাউন্ড হলো: ১) আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন-১৯৭৩ এ যে শাস্তির কথা বলা আছে, তার প্রথমেই ডেথ পেনাল্টি (মৃত্যুদণ্ড) দিয়ে বর্ণনা রয়েছে। এরপর গ্রাভিটি অব দ্য অফেন্সের (অপরাধের ভয়াবহতা) কথা বলা আছে। যেহেতু আইনে একটি শাস্তি প্রেসক্রাইভ (বিধান) উল্লেখ রয়েছে, এজন্য সব চার্জেই ডেথ পেনাল্টি পাওয়ার যোগ্য। ২) জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তা ভায়োলেশন অব সিরিয়াস হিউম্যান রাইটস (গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন)। সেখানে হেনিয়াস অফেন্স (নিষ্ঠুরতম অপরাধ) হয়েছে, যার শাস্তি একমাত্র মৃত্যুদণ্ডই হওয়া উচিত। ৩) নিরস্ত্র-নিরীহ মানুষের ওপর স্কেল অব অ্যাটাক হয়েছে, তার ব্যাপকতা ছিল মারাত্মক। এর কারণে মৃত্যুদণ্ড ছাড়া অন্য কোনো শাস্তি দেয়া আইনত সঠিক হয়নি। ৪) গ্রাভিটি অব দ্য অফেন্স তথা আইন অনুযায়ী এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড একমাত্র শাস্তি হওয়া উচিত। ৫) শুধুমাত্র আসামির অধিকার দেখলেই হবে না।

এখানে রাইটস অব দ্য ভিকটিমস এবং সোসাইটির রেজনেবল এক্সপেক্টেশনটাও দেখতে হবে। একটা সমাজ এ ধরনের অপরাধের কী ধরনের শাস্তি প্রত্যাশা করে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রবণতা বন্ধ করার জন্য আদালতে কী ধরনের শাস্তিপ্রাপ্ত হলে বা প্রদত্ত হলে সমাজ এ ধরনের অপরাধ থেকে মুক্ত হবে। সেই সোশ্যাল এক্সপেক্টেশনটাও আদালতের দেখা উচিত ছিল। অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড দেয়া উচিত ছিল। ৬) আসামিরা জেনেছেন যে, তাদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে মামলা চলছে। সাজা হচ্ছে। আপিলের মেয়াদও ৩০ দিন। এসব জেনেই তারা নিজেদের পলাতক রেখেছেন। পলাতক থেকে বিভিন্ন ট্রায়ালে বাধা দেয়ার জন্য বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছেন। এ ধরনের আচরণের ক্ষেত্রে তাদের শাস্তি কমানোর কোনো সুযোগ নেই। ৭) আসামিদের সরাসরি আদেশ বা নির্দেশে যে ধরনের হত্যাযজ্ঞ হয়েছে, তা পৈশাচিক। তাদের নির্দেশে সারা দেশে ১৪০০’র অধিক মানুষ শহীদ ও ২৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। ৮) চার্জ-১ এ আবু সাঈদ, যিনি জুলাই অভ্যুত্থানের পাইওনিয়র (অগ্রদূত) ছিলেন। আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ডেও তারা জড়িত। অতএব চার্জ-১ এ তাদের জন্য মৃত্যুদণ্ডই ছিল ন্যায়বিচার।