বিএলএ ইউকের ওভারসিজ ট্রীপ: তুরস্কের পর্যটন নগরী আন্তালিয়া ভ্রমণ

Published: 17 December 2025

এম কিউ হাসান, লন্ডন: নির্মল আনন্দ আর ভালোলাগা সঙ্গে নিয়ে শেষ হলো বিএলএ ইউকের সদস্যদের বহু প্রতীক্ষিত বিএলএ ওভারসিজ ট্রিপ— ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত তুরস্কের পর্যটন নগরী আন্তালিয়া ভ্রমণ।

গত ৬–৯ ডিসেম্বর আমরা ঘুরে বেড়িয়েছি তুরস্কের মনোরম শহর আন্তালিয়াতে। চার দিনের এই সফরটি যেন ছোটবেলার শীতের ছুটিতে বেড়াতে যাওয়ার সেই নিখাদ, নির্মল আনন্দটা আবার ফিরিয়ে এনেছিল। বৃষ্টি আর ঠান্ডা আবহাওয়া নিয়ে শঙ্কা ছিল। কিন্তু সবার স্বতঃস্ফূর্ততা, উচ্ছ্বাস আর ইতিবাচক মনোভাব সব দুশ্চিন্তা উড়িয়ে দিল। বজ্র-বৃষ্টির পর নীল আকাশ উঁকি দিল, আর আমরা উপভোগ করলাম একের পর এক চমৎকার মুহূর্ত।

যাত্রাপথে বাসে ছিল গান/কবিতা আর প্রাণবন্ত আড্ডা—জলপ্রপাত আর শহরের সৌন্দর্য উপভোগের পর রাতে আমরা গেলাম ল্যান্ড অব লেজেন্ডস-এ। আলোয় ঝলমল সেই পরিবেশ আর বোট শো সবাইকে মুগ্ধ করে রাখল প্রায় সাড়ে দশটা পর্যন্ত। হোটেলে ফিরে কেউ কেউ আবার ছুটে গেল ভূমধ্যসাগরের তীরের রাতের নীরবতা আর সাগরের গর্জন শুনতে—যেন অন্য এক অনুভূতির। গভীর রাত অবদি চললো আড্ডা।

পরদিন প্রকৃতি যেন আরও উদার! সকাল সকাল আমরা বেরিয়ে পড়লাম শহরের অন্য প্রান্তের সৌন্দর্য দেখতে। নয়নাভিরাম মসজিদ, মনোমুগ্ধকর জলপ্রপাত, আর গ্রীন ক্যানিয়নের পাহাড়ি লেকে নৌকা ভ্রমণ—সব মিলিয়ে স্মৃতিতে গেঁথে থাকার মতো আরেকটি দিন।

উল্লেখ্য যে, এই যাত্রায় আমাদের সঙ্গী ছিলেন বিএলএ’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বাবর ভাই ও তাঁর সহধর্মিণী বদরুন ভাবি সহ মোট ৪ জন প্রক্তন/বর্তমান প্রেসিডেন্ট।

বিএলএ ইউকের প্রাক্তন সভাপতি ব্যারিস্টার সলিসিটর নিজামউল হক ভাইয়ের গান, এসবিবিএস এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সলিসিটর মকু ভাইয়ের কৌতুক, প্রাক্তন সভাপতি ও বর্তমান ঢাকা ইউনিভার্সিটি আলামনাই ইন দা ইউকের সাধারণ সম্পাদক ব্যরিস্টার এম কিউ হাসানের গান, সন্চালনা ও “জামাল কদু” নৃত্য , বর্তমান সভাপতি ব্যারিস্টার মুজিব এর কবিতা আবৃত্তি, ব্যারিস্টার তানিয়ার গান, প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক মনির চৌধুরীর গান সহ সবার অংশগ্রহণ ভ্রমণের মুহূর্তগুলোকে করে তুলেছিল আরও আনন্দময়। তাঁদের প্রতি আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা!

বাংলাদেশ ‘ল এসোসিয়েশন ইউকের সভাপতি ব্যারিস্টার সলিসিটর মুজিবুর রহমান এবং প্রথম নারী সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মাহমুদা চৌধুরীর নেতৃত্ব এই যাত্রায় সঙ্গী ছিলেন বিএলএ’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বাবর ভাই ও তাঁর সহধর্মিণী বদরুন ভাবি সহ মোট ৪ জন প্রক্তন/বর্তমান সভাপতি – ব্যারিস্টার সলিসিটর নিজামউল হক এবং আমি (ব্যরিস্টার এম কিউ হাসান)। আরও ছিলেন এসবিবিএস এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সলিসিটর সহুল আহমেদ মকু, প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক মনির চৌধুরী। অতিথি হিসেবে যোগ দেন এমদাদ তালুকদার এমবিই এবং মাহফুজা রহমান এমবিই। সমিতির সদস্যদের মধ্য থেকে খাদিজা আহমেদ বন্যা এবং পরিবারসহ যোগ দিয়েছিলেন ব্যারিস্টার তানিয়া হক ও ব্যারিস্টার মাহফুজুল হক চন্চল, ব্যারিস্টার সলিসিটর সন্জয় রায় এবং ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির। আরো যারা সঙ্গী হয়ে আনন্দে সবাইকে মাতিয়ে রেখেছিল তারা হলো – অন্নিতা, নিভরীতা, আনিকা, অনাহিতা, অলিভার, অদিতি, ইনাকসি ও রুভাঞ্চ।

ভ্রমণের প্রথম দিনে ২১তম ব্যাচের মাসুদের সৌজন্যে সকালের নাশতার পর লন্ডনের গ্যাটউইক বিমান বন্দর থেকে রওনা দিয়ে আন্তালিয়ায় পাঁচ তারকা আলবা কুইন রিসোর্টে পৌঁছে সবাই। দ্বিতীয় দিন আন্তালিয়া শহর আর যাত্রাপথে বাসে ছিল গান/কবিতা আর প্রাণবন্ত আড্ডা—জলপ্রপাত আর শহরের সৌন্দর্য উপভোগের পর রাতের ল্যান্ড অব লেজেন্ডস-এর আলোয় ঝলমল পরিবেশ আর বোট শো সবাইকে মুগ্ধ করে। হোটেলে ফিরে কেউ কেউ আবার ছুটে গিয়েছিল ভূমধ্যসাগরের তীরের রাতের নীরবতা আর সাগরের গর্জন শুনতে। গভীর রাত অবদি চলে আড্ডা।

পরদিন সকালে সদস্যরা গিয়েছিলেন শহরের অন্য প্রান্ত মানাভগাট। নয়নাভিরাম মসজিদ, জলপ্রপাত, আর গ্রীন ক্যানিয়নের পাহাড়ি লেকে নৌকা ভ্রমণ—সব মিলিয়ে কাটায় স্মৃতিময় আরেকটি দিন।

ফিরে আসার দিনটিই ছিল সবচেয়ে রৌদ্রময় ও প্রাণোচ্ছ্বল। ভোরের নাস্তা শেষে টি-শার্ট আর বিএলএ ব্যানার নিয়ে গ্রুপ ছবি তুলে আমরা ছুটে গেলাম বালুময় ভূমধ্যসাগর তীরে। ফেনিল সৈকতের সৌন্দর্য আর উত্ত্বাল ঢেউ ছেড়ে হোটেলে ফিরতে মন চাইছিল না কারোই। আর বাচ্চাদের ফিরিয়ে আনতে মায়েদের তো বেশ কষ্টই হয়েছে!

ক্যামেরায় বন্দী হলো হাসিমুখগুলো, আর মনে রইল ফিরে আসার কষ্ট ও আবার যাওয়ার পরিকল্পনা।

হোটেলের তিন বেলার বিভিন্ন রকমের সুস্বাদু খাবার, ২৪ ঘন্টা স্ন্যাক বার, ইনডোর পুল, জাকুজি, জিম, বাচ্চাদের মিনি পুল—সব মিলিয়ে হাসি, আড্ডা, মজা আর উচ্ছ্বাসে চারটি দিন কিভাবে উড়ে গেল সত্যিই বুঝে উঠতে পারিনি।

ফিরে আসার দিনে ভোরের নাশতা শেষে গ্রুপ ছবি তুলে সবাই ছুটে গিয়েছিলেন হোটেল সংলগ্ন সৈকতে ভূমধ্যসাগরের ফেনিল সৌন্দর্য আর উত্ত্বাল ঢেউ দেখতে! অল ইনক্লুসিভ রিসোর্টে প্রতিবেলায় শতাধিক আইটেমের খাবার, ইনডোর/আউটডোর সুইমিং পুল, উষ্নস্নান, ওয়াটার পার্ক সবার নজর কাড়ে।

বিশেষ কৃতজ্ঞতা—

* ব্যারিস্টার হুমায়ুন ও তার পরিবারকে— আগে একবার আন্তালিয়া গিয়েছে ওরা, তারপরও শুধু বিএলএ পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে আবার এসেছে।

* ব্যারিস্টার সঞ্জয় ও তার পরিবারকে—অদিতির বার পরীক্ষার ক্লাস থাকা সত্ত্বেও ওরা আমাদের সঙ্গী হয়েছে।

* ব্যারিস্টার তানিয়া ও ব্যারিস্টার চঞ্চলকে —মেয়েদের রাজি করিয়ে অতিরিক্ত ব্যয় সত্ত্বেও এই আনন্দ ভ্রমণে যোগ দিয়ে সবার আনন্দ বাড়িয়ে দিয়েছেন বহুগুণ। মাসুদের জন্যও রইলো আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

ফিরতি ফ্লাইটেও সবার মাঝে ছিল সেই উচ্ছ্বলতার রেশ; চলছিল দারুণ আড্ডা—মনে হচ্ছিল যেন আমরা নিজেদের ঘরেই রয়েছি।

যারা খুব ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন কারনে আসতে পারেননি—আপনাদের অনুপস্থিতি আমরা সব সময় অনুভব করেছি। আশা করি আগামীতে আরও বৃহৎ পরিসরে, আরও মনোমুগ্ধকর কোনো স্থানে আমরা আবার মিলিত হব নতুন এক আনন্দমেলায়! স্বল্প সময়ের মধ্যে আয়োজনে সাড়া দিয়ে সঙ্গে যুক্ত থেকে ও সহযোগিতা করে প্রোগ্রামটি সফল ও প্রাণবন্ত করার জন্য সবাইকে জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।