শেখ হাসিনা-সেনা কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিচার শুরুর আদেশ
পোস্ট ডেস্ক :

আওয়ামী লীগের শাসনামলে র্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার ১০ সেনা কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকীসহ সাবেক-বর্তমান ১২ সেনা কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে। এসব সেনা অফিসাররা র্যাবের দায়িত্ব পালনকালে গুমসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে ফর্মাল চার্জে উল্লেখ করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ৪টি অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার ওপেনিং স্টেটমেন্টের জন্য ২১শে জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য সদস্যরা হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এদিন বেলা সোয়া ১২টায় কোর্ট উঠে। এ সময় অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী আসামিদের বিরুদ্ধে ৪টি চার্জ পড়ে শোনান। এ সময় তিনি আসামিদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা অপরাধ স্বীকার করবেন কিনা। এ সময় সব সেনা কর্মকর্তা উঠে দাঁড়ান এবং ‘না’ সূচক জবাব দেন। পরে এক সেনা কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা নিরপরাধ, এই আদালতের মাধ্যমে আমরা ইনসাফ পাবো এই ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাসী। পরে বিচারক তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বসতে বলেন। পরে মামলায় প্রাইমা ফেসি গ্রাউন্ড থাকায় আসামিদের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেন।’
গতকাল সকালে ঢাকার সেনানিবাসের বিশেষ কারাগার থেকে গ্রেপ্তার ১০ সেনা কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন- র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে), র্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম।




