অভিবাসীদের বংশধররা একটি সমস্যা:ট্রাম্প প্রশাসন
পোস্ট ডেস্ক :

যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোরতর ব্যবস্থা গ্রহণের সাথে সাথে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম প্রভাবশালী উপদেষ্টাদের একজন স্টিফেন মিলার অভিবাসীদের পাশাপাশি তাদের সন্তানদেরও সমালোচনা করেছেন। তাঁর দাবি, অভিবাসীরা এমন সব সমস্যা সৃষ্টি করে, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলতে থাকে।
এই মাসে ফক্স নিউজে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিলার বলেন যে কিছু অভিবাসী গোষ্ঠী বহু প্রজন্ম পরেও মার্কিন সমাজে একীভ‚ত হতে ব্যর্থ হয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি সোমালিয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, সেখানে স্থায়ী সমস্যা রয়ে গেছে, যার মধ্যে রয়েছে কল্যাণভাতার ওপর উচ্চমাত্রার নির্ভরশীলতা, অপরাধমূলক কার্যকলাপের উচ্চহার এবং আমেরিকান সমাজে বারবার মিশে যাওয়ার ব্যর্থতা।
মিলারের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন সর্বোচ্চ আদালতকে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের লক্ষ্যে জারি করা নির্বাহী আদেশ বহাল রাখার আহŸান জানাচ্ছে। জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক নীতি, যার আওতায় দেশটির মাটিতে জন্ম নেওয়া সবাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পায়।
যদিও আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া অভিবাসীদের সন্তান বা নাতি-নাতনিদের নাগরিকত্ব বাতিলের কোনো আইনি ভিত্তি নেই, তবু মিলারের বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সাম্প্রতিক অভিবাসীদের পাশাপাশি তাদের বংশধরদেরও লক্ষ্য করে নীতিগত পরিবর্তনের আরও কঠোর প্রচেষ্টা চলছে। তবে, অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মিলারের দাবির তীব্র বিরোধিতা করেন। মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউটর-এর যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসন নীতিবিষয়ক কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক জুলিয়া গেলাট বলেছেন, ঐতিহাসিক ও আধুনিক প্রমাণ বিপরীত চিত্র তুলে ধরে। তাঁর মতে, ‘১৯৬০-এর দশকের পর যুক্তরাষ্ট্রে আসা অভিবাসীদের সন্তানরা ধারাবাহিকভাবে সাবলীল ইংরেজি শিখেছে, তাদের বাবা-মায়ের চেয়ে বেশি শিক্ষা অর্জন করেছে এবং উচ্চ আয়ের স্তরে পৌঁছেছে, যা সমাজে সফলভাবে একীভ‚ত হওয়ার এবং ঊর্ধ্বমুখী গতিশীলতার প্রমাণ।’
মিলারের কঠোর অবস্থান এমন এক সময় সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ে জনমত কট্টরপন্থীদের দিকে ঝুঁকছে। ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পেছনে অভিবাসন নীতির প্রতি অসন্তোষ একটি মূল কারণ ছিল। এরপর থেকে তাঁর প্রশাসন বৈধ অভিবাসন সীমিত করতে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে নতুন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলোর লোকেদের নাগরিকত্ব স্থগিত করা, যার প্রভাব মূলত আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওপর পড়েছে।
যদিও মিলারের নিজের পরিবার ২০শ শতকের শুরুতে বেলারুশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হয়েছিল, হোয়াইট হাউস তাঁর বক্তব্যের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এর মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন বলেছেন, যারা বিপুল সংখ্যায় এসে মার্কিন সমাজে মিশতে অস্বীকৃতি জানায়, তারা যে দেশগুলো থেকে পালিয়ে এসেছে সেখানকার পরিস্থিতিই পুনরায় সৃষ্টি করে। তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের সমস্যা গুলোকে আমেরিকার সমস্যা হতে দিতে পারি না।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই দৃষ্টিভঙ্গি আরও জোরদার করে মিলার লিখেছেন যে, ব্যাপক অভিবাসন কেবল ব্যক্তি নয়, পুরো সমাজ আমদানি করে। এবং বড় পরিসরে অভিবাসী ও তাদের বংশধররা তাদের ফেলে আসা ব্যর্থ রাষ্ট্রগুলোর অস্থিরতা ও সংকটনতুন দেশে পুনরুৎপাদন করে।




