তাইওয়ান ইস্যুতে ‘চীনের পক্ষেই’ থাকবে রাশিয়া

Published: 28 December 2025

পোস্ট ডেস্ক :


মস্কো তাইওয়ানের জন্য ‘কোনো ধরনের স্বাধীনতার’ বিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ।

রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা টিএএসএসকে দেওয়া রবিবার ভোরে প্রকাশিত মন্তব্যে ল্যাভরভ বলেন, তাইওয়ান ইস্যুতে তার দেশের অবস্থান ‘সুপরিচিত, অপরিবর্তনীয় এবং বারবার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পুনরায় নিশ্চিত করা হয়েছে’।

ল্যাভরভ বলেন, ‘রাশিয়া তাইওয়ানকে চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং দ্বীপটির জন্য কোনো ধরনের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ধরে নিই যে তাইওয়ান ইস্যুটি চীনের একটি অভ্যন্তরীণ বিষয়।

বেইজিংয়ের তাদের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার সম্পূর্ণ বৈধ ভিত্তি রয়েছে।’
তাইওয়ান প্রণালিতে সম্ভাব্য উত্তেজনা বৃদ্ধির বিষয়ে ল্যাভরভ বলেন, ২০০১ সালে মস্কো ও বেইজিংয়ের মধ্যে স্বাক্ষরিত এবং ২০২১ সালে আরো পাঁচ বছরের জন্য নবায়ন করা বন্ধুত্ব চুক্তির কথা স্মরণ করিয়ে, রাশিয়া চীনের ‘জাতীয় ঐক্য ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার’ ক্ষেত্রে সমর্থন দেবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো যুক্তি দেন, জাপানের সরকার ‘দেশটির দ্রুত সামরিকীকরণের পথে অগ্রসর হয়েছে’।

তিনি বলেন, ‘এই পদ্ধতির আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর ক্ষতিকর প্রভাবটি স্পষ্ট।

কোনো তাড়াহুড়া করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমাদের জাপানি প্রতিবেশীদের উচিত পরিস্থিতি ভালোভাবে বিবেচনা করা।’
নভেম্বর ৭ তারিখে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেন, তাইওয়ানে চীনের আক্রমণ আইনত একটি ‘বেঁচে থাকার জন্য হুমকিস্বরূপ পরিস্থিতি’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে—যা জাপানকে সমষ্টিগত আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের সুযোগ দিতে পারে—এর পর থেকে বেইজিং ও টোকিওর মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ল্যাভরভের এ মন্তব্য আসে।

তার ওই বক্তব্যের পর বেইজিংয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। চীন জাপানে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেয় এবং অন্যান্য সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি সামুদ্রিক খাদ্য আমদানির ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

চলমান উত্তেজনার মধ্যে শুক্রবার জাপানের স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, দেশটির মন্ত্রিসভা ২০২৬ অর্থবছরের জন্য ৯.০৪ ট্রিলিয়ন ইয়েন (৫৮ বিলিয়ন ডলার)–এর রেকর্ড খসড়া প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদন করেছে, যার জবাবে চীন ওই বৃদ্ধি নিয়ে সমালোচনা করেছে।